ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | বিবাদীর ভয়ে ৪দিন ধরে অবরুদ্ধ ধর্ষিত কিশোরী ও বাবা

বিবাদীর ভয়ে ৪দিন ধরে অবরুদ্ধ ধর্ষিত কিশোরী ও বাবা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে এ ঘটনাটি ঘটে। ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে হতদরিদ্র বাবা মেয়েকে গাজীপুরের শ্রীপুরে এসে একটি বাসা ভাড়া করে মেয়েকে স্থানীয় একটি কারখানায় কাজে দেন। কিশোরীটি কর্মস্থলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই উত্যক্ত করতো স্থানীয় প্রভাবশালী আক্তার মোড়ল, সে শ্রীপুর উপজেলার জয়নারায়নপুর গ্রামের সাহিদ মোড়লের ছেলে। অভিযুক্ত তাঁর আরো চারজন সহকর্মী নিয়ে ৬ মাস আগে একদিন কিশোরীকে জোড় করে সড়ক থেকে ধরে নিয়ে যায় জঙ্গলে। সেখানে অভিযুক্ত পিতার বয়সী আক্তার মোড়ল এবং তার সঙ্গীয় পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনা ফাঁস করে দিলে বাবা ও মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়ে আরো কয়েকবার ধর্ষণ করে অভিযুক্ত আক্তার মোড়ল। এতে কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে।

ধর্ষণে কিশোরী অন্তসত্বা হয়ে পড়ার ঘটনা যখন স্থানীয়দের সামনে চলে আসে তখন অভিযুক্ত আক্তার মোড়ল বেপরোয়া হয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কিশোরী কারখানা থেকে এসে ঘরে একাকী ছিল, এসময় আক্তার মোড়ল তাঁর কয়েক সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে কিশোরীকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে গর্ভপাতের ঔষধ খাইয়ে দেয়। ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার কিশোরীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় তার বাবা। সেখানে সে একটি সন্তানের জন্ম দেয়। অপরিপক্ক সন্তান জন্ম হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন হাসপাতালে রেফার্ড করেন নবজাতককে। সেখানে নেয়ার পথে নবজাতকটি মারা যায়। অভিযুক্তের বিচারের জন্য নিজের বাবাকে সাথে নিয়ে সেদিনেই চলে আসে শ্রীপুর থানায়। দায়ের করে অভিযোগ, কিন্তু এবার অভিযোগই যেন তার আরোও বড় বিপদ হয়ে উঠে।

কিশোরী অভিযোগ দিয়ে বাড়ি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে হাজির হন শ্রীপুর থানার (এসআই) এখলাস উদ্দিন ফরাজী। সেখানে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে কিশোরী ও তাঁর পিতাকে জোড় করা হয়। কিন্তু তারা স্বাক্ষর দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় কিশোরীর সামনেই তার পিতাকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় মামলা রুজু হয়। মামলা হওয়ার পর থেকে পুলিশ আসামি ধরা তো দূরের কথা কিশোরীর পরিবারকেই হয়রানি করতে থাকে। রাতে আসে এলাকার সন্ত্রাসীরা দিনে আসে পুলিশ। তাদের আবদার মামলা তুলে নিয়ে আপোষ করতে হবে। পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে গত ৪ দিন ধরে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে রয়েছে অসহায় কিশোরী ও তাঁর বাবা।

এস আই এখলাস উদ্দিন ফরাজীর সাথে কথা বলে জানা যায় মেয়ের বাবাকে মারধরের কথা অস্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা চলছে।

বাড়ির মালিক শামীম মিয়া জানান, গত ৪ দিন ধরেই নিরাপত্তাহীনতায় মেয়ে ও তাঁর বাবা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। কেননা দিনে পুলিশ সাদা কাগজ নিয়ে আসেন, আর রাতে আসেন এলাকার সন্ত্রাসীরা। এমন অবস্থায় আমরাও আতঙ্কে আছি কখন জানি কি হয়ে যায়।

এবিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সাদী জানান, এসব ঘটনা আপোষযোগ্য নয়; আর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগও সত্য নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হয়েছে, আসামি ধরতে পুলিশি চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মদনে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে সহপাঠীর ছুরিকাঘাত

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোনা) ঃ বেঞ্চে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বে রবি আওয়াল নামের ...

মদনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও লাইসেন্স না থাকায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সুদর্শন আচার্য্য, মদন (নেত্রকোনা) ঃ নেত্রকোনার মদন পৌর সদরের ৬টি দোকানে অভিযান ...