Home | অর্থনীতি | ব্যাংক ও বীমা | বিনিয়োগ সীমা পরিপালনে সক্রিয় হতে হবে ব্যাংকগুলোকে

বিনিয়োগ সীমা পরিপালনে সক্রিয় হতে হবে ব্যাংকগুলোকে

 Bank 16.02.2013স্টাফ রিপোর্টার : শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর নির্ধারিত বিনিয়োগ সীমা যথাযথভাবে পরিপালন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা। বিনিয়োগসীমা সংক্রান্ত আইন যথাযথ পালন করতে কিছু ব্যাংকে বিনিয়োগ তুলে নেয়ার পাশাপাশি কিছু ব্যাংকে পুনরায় বিনিয়োগ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সঠিক সীমায় আনতে ব্যাংকগুলোকে পুনরায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এতে বাজারের লেনদেন গতি বাড়ার পাশাপাশি স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, শেয়ারবাজারের লেনদেনকে গতিশীল করতে ব্যাংকগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু ২০১০ সালে ভয়াবহ ধসের পর তাদের সেভাবে লেনদেনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। ফলে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানিগুলো অত্যন্ত নাজুক অবস্থার মধ্যে পড়ে আছে। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের টাকায় ব্যাংকগুলো আজ বড় পেইড আপ ক্যাপিটালে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় সার্বিক বাজার বিশ্লেষন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরী হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, অতিরিক্ত বিনিয়োগকারী ব্যাংকগুলোকে তাদের বিনিয়োগ ২০১৬ সালের ২১ জুলাইয়ের মধ্যে সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে ‘ব্যাংক কোম্পানি কর্তৃক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা শীর্ষক বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন (সংশোধিত) ২০১৩ অনুযায়ী কোনো ব্যাংক তার আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়ামে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে না। যেসব ব্যাংকের এর বেশি বিনিয়োগ রয়েছে তাদেরকে ২০১৬ সালের ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বিনিয়োগ কমিয়ে নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। কিন্তু যেসব ব্যাংকগুলো নির্ধারিত বিনিয়োগসীমার অনেক নীচে রয়েছে কিংবা সামর্থ্য থাকা সত্বেও বিনিয়োগ করছেনা না তাদের কেন সীমার মধ্যে বিনিয়োগের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে না।

কয়েকজন বড় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা জানান, শেয়ারবাজারে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগকারীদের ফান্ডামেন্টাল ও ভাল শেয়ার চেনাতে সাহায্য করে। কিন্তু ২০১০ সালে ভয়াবহ ধসের পর ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগ ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিলে সবার মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করে। অন্য দিকে বাজার কারসাজিরা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কম পরিশোধিত মূলধনী কোম্পানি নিয়ে অসম প্রতিযোগীতায় বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করতে পায়তারা করছে। যা অসুস্থবাজার সৃষ্টির লক্ষণ বলে মনে করছে। এভাবে চলতে থাকলে আবারো বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ যখন শেয়ারবাজারে রয়েছে সেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এখন বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। কারণ বিশ্বের সব দেশের শেয়ারবাজারে যখন কোন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যায় তখন সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সে ধরনের কোন উদ্যোগ ব্যাংলাদেশ ব্যাংককে নিতে দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে অনেক টাকা অলস পড়ে আছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো কোথাও বিনিয়োগ করতে পারছে না। এ অবস্থায় আইনী সীমার মধ্যে থেকে ব্যাংকগুলো যেটুকু বিনিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে তা যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যথাযথ পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয় তবে শেয়ারবাজার গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

টুঙ্গিপাড়ায় কৃষকদের মাঝে কৃষিঋণ বিতরন

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বেসিক ব্যাংক লিমিটেড প্রকাশ্যে কৃষি ও পল্লী ...

কাশিয়ানীতে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১২৩ তম শাখার উদ্বোধন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের ১২৩ তম শাখার উদ্বোধন ...