ব্রেকিং নিউজ
Home | জাতীয় | বিনা দ্বিধায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ও মাদক নির্মূল করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিনা দ্বিধায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ও মাদক নির্মূল করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার : শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা ও পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি করা ও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা করতে হবে।

বিনা দ্বিধায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘এখানে কে, কোন দল করে, কে কী করে, তা দেখার কোনো দরকার নাই।’

মঙ্গলবার রাজধানীতে শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে তাদের উদ্দেশ্য রাখা ভাষণে এ নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ বাধা দেয় আমি এটুকু আপনাদের অনুমতি দিতে পারি, সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বা আমার অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। যদি কোথাও কোনো বাধা আসে, আমি সেটা দেখব।’

‘কিন্তু আমরা সমাজ থেকে এসব অশুভ জিনিসগুলো দূর করে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’

আদালতে মামলাজট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে আরও কার্যকর করারও তাগিদ দেয়া হয় জেলা প্রশাসকদের।

সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে তথ্য প্রযক্তির আরও ব্যবহারেরও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এর মাধ্যমে জনসেবাটা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।’

সমবায়ের মাধ্যমে চাষের পরামর্শ

ভূমি বিরোধকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ভূমির মালিকানা নিয়ে সমস্যা, ভূমি নিয়ে খুনোখুনি, মামলা, মোকদ্দমা প্রতিনিয়ত লেগে আছে।’

ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইড করলে এর একটি সমাধান হবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এটা করতে পারলে ভূমি নিয়ে মারামারি, কাটাকাটি কমে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

সমবায়ের মাধ্যমে চাষেরও তাগাদা দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘একসাথে যদি চাষবাস করা যায়, মালিকানা যার যার থাকবে, ডিজিটাল পদ্ধতিতেও রেকর্ড থাকবে, আবার কাগজ কলমেও থাকবে। কিন্তু চাষবাসের সময় আমাদের যান্ত্রিকীকরণে যেতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

‘যান্ত্রিকীকরণ হলে টুকরো টুকরো জমি চাল করা সম্ভব নয়। সেটা চাষ করতে হলে আমাদের সমবায় পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে।’

‘সে ক্ষেত্রে জমির মালিকের অংশটা থাকবে, যারা শ্রম দেবে, তার একটা অংশ থাকবে, কো অপারেটিভ চালালে যে একটা খরচ হয়, তার একটা অংশ থাকবে।’

কৃষি উপকরণের যেন সরবরাহ নির্বিঘ্ন থাকে এবং তা যেন কৃষকদের কাছে পৌঁছায় সে ব্যবস্থা করারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, শিল্পায়নের বা অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই ফসলী বা তিন ফসলী জমি যেন নষ্ট না হয় সেভাবেই পরিকল্পনা নিতে হবে।

স্কুলে ছেলের অনুপাত কেন কমছে

মাধ্যমিক পর্যায়ে গত কয়েক বছর ধরেই ছেলেদের চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ছেলের সংখ্যা কেন কমেছে, সেটি ভাবিয়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীকে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতেও জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন তিনি।

‘স্কুলে মেয়েরা বেশি যাচ্ছে, ছেলেরা একটু কম। এটাও দেখতে হবে। কারণটাও আপনারা খুঁজে বের করে করবেন।’

‘শিক্ষায় ঝরে পড়া ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সেটা যেন আর না ফিরে আসে, সেটাও দেখতে হবে।’

ঘরের কাজে মেয়েদের সাহায্য করুন

ঘরের কাজে মেয়েদের সহায়তা করতে ছেলেদের প্রতি আহ্বানও জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সাবই কাজ করবে। মেয়েরা বসে থাকবে কেন। মেয়েদের যে মেধা, যে শক্তি, সেটাকেও আমাদের দেশের কাজে লাগাতে হবে না? সেটাও আমরা লাগাব। কাজেই কাজটা ভাগাভাগি করে নেন।’

ঘরে মেয়েদের কাজ কমাতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ার তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, তাহলে কাটাকাটিতে সময় লাগবে না। প্যাকেট থেকে খুলেই রান্না করে ফেলা যাবে।

‘যে শিল্পাঞ্চলগুলো আমরা গড়ে তুলব যেখানে কোন কোন এলাকায় কী কী জিনিস ভালো উৎপাদিত হয়, সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করা, আপনারা কিন্তু সেভাবে পরামর্শ দিতে পারেন। আর সেগুলো বাজারজাত করতে পারব, বিদেশে রপ্তানিও করতে পারব।’

নারী ও শিশু নির্যাতন, পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে নজরদারি বাড়ানো, নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী।

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের পরামর্শ

তণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সাথে একটা সুসম্পর্ক বজায় রাখা দরকার বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের জনপ্রতিনিধিদেরও একটা চিন্তাভাবনা আছে। সেগুলো সমন্বয় করে নিলে উন্নয়নটাও একটু দ্রুত হয়।’

‘দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হবে।’

‘পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে বিধি বিধানের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে এবং জনগণকে বিষয়টা জানাতে হবে।’

জনগণকে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপনে উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা ও বনায়ন করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে সামাজিক বনায়নের পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, এর মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তিত হয়।

খাদ্যে ভেজাল কেন দেবে?

ভেজাল খাদ্যদ্রব্য প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টিরও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল দেবে কেন’- এমন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে উৎপাদন তো এখন কম না। উৎপাদন হচ্ছে, খাদ্য যেন ভেজাল বা পচা গলা না হয়, যেন ভালো হয়, সে ব্যাপারে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে হবে।’

‘বাজার ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট দৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করতে হবে।’

খেলাধূলার সুযোগ সৃষ্টির নির্দেশ

নিজ নিজ এলাকায় ক্রীড়া, বিনোদন সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কাজের সুযোগ বাড়ানো, শিশু কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংস্কৃতির বোধ এবং বিজ্ঞান মনস্কতা জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সাফে মেয়েদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্রিকেট খেলায় ছেলেরা যা না পারে মেয়েরা মনে হয় আরেকটু ভালো করে যাচ্ছে।’

‘আমরা মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। কারণ, স্কুলের মাঠে লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে এটা চর্চা হোক, তা আমি চাই না। কিন্তু একটু দূরে, যেখানে উপজেলা শহর বা জেলা শহর থেকে যদি দূরে হয়, তাহলে সেখানে একটা মিনি শহর গড়ে উঠবে।’

‘ছেলেমেয়েদের যতেই আমরা এর মধ্যে সম্পৃক্ত রাখতে পারব, ততই তারা বিপথে যাবে না।’

পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা গড়ার তাগিদ

পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসচেতনতায় হতাশ প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘খাবার আগে হাত ধোয়া, এই পর্যন্ত আমরা এসেছি। কিন্তু ময়লা ছুড়ে ফেলে দেয়া সেই কালচার থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারিনি।’

সচেতনতার বিষয়টি স্কুল থেকে শুরুর পক্ষে শেখ হাসিনা। বলেন, ‘তারা তাদের স্কুল নিজেরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে আসল সকলে মিলে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে করলে সবাই করবে।’

‘রাস্তায় চলাফেরার ক্ষেত্রে ট্রাফিক রুলস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। কখন থামতে হবে, কখন চলতে হবে, কখন রাস্তা পার হতে হবে, রাস্তা পার হওয়ার সুনির্দিষ্ট জায়গা থাকতে হবে আর যেখানে ওভারব্রিজ ব্যবহার করার করবে।’

‘ছোটবেলা থেকে যদি শিক্ষা দেয়া হয়, তাহলে তারা সেটা পালন করতে পারবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি

স্টাফ রির্পোটার :  কোন প্রকার ব্যর্থতা ছাড়া আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিএনপি ...

আইনি প্রক্রিয়া দেখে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে:রিজভী

স্টাফ রির্পোটার : দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশকে সামনে রেখে ...