ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | বিদেশ ভ্রমণেই খুশি মহাজোটের শরিকরা

বিদেশ ভ্রমণেই খুশি মহাজোটের শরিকরা

14-partiesস্টাফ রিপোর্টার :  কথায় কথায় যারা অভিযোগ করতো, মহাজোটে থেকে কিছুই পেলাম না; আওয়ামী লীগ আমাদের কোনো মতামতই নেয় না; নামে মাত্রই ক্ষমতাসীন জোটের শরিক আমরা, তাদের মুখেই এখন ভিন্ন সুর।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে নিউইয়র্ক ঘুরে দেশে আসার পর ওইসব নেতাদের কণ্ঠেই এখন কোকিলের সুর ধ্বনিত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলাপ-আলোচনা বাদ দিয়ে তারা আপাতত ব্যস্ত বিদেশ ভ্রমণের জাবর কাটতে। মহাজোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমাদের জাতিসংঘ সফর খুব ভালো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের কিছু মানুষ মনে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল না। কিন্তু আমরা এবার গিয়ে দেখলাম, বিদেশে সবাই বাংলাদেশের অর্জন নিয়েই কথা বলছে।’

আপনি এই সফরে গিয়ে কি করেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি সেখানে বেশ কয়েকটি সেমিনারে অংশ নিয়েছি।’

নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশে ফেরা কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতিসংঘ সফরে মহাজোটের শরিক দলের নেতাদের ঘোরাফেরা করার জন্য একটি গাড়ি বরাদ্দ ছিল। গাড়ির চালক সকালে হোটেল থেকে তাদের নিয়ে বের হতো। তারপর একেকজন নেতাকে একেক স্থানে নামিয়ে দিত, পরে আবার কাজ শেষে নিয়ে আসতো।

কয়েকজন নেতা অবশ্য দাবি করেছেন, কেউ কেউ শুধু শ্রোতা হয়েই সেমিনারের বক্তব্য শুনতেন। কেউ আবার সেমিনারে বক্তৃতাও দিয়েছেন।

তবে এই সফরের পর ছোট দলের অনেক নেতারই এখন চাল-চলন বদলে গেছে। জাতিসংঘের বাতাস গায়ে লাগার পর তারা অন্য শরিক দলের নেতাদের এমনকি সাংবাদিকদের ফোন পর্যন্তও রিসিভ করতে চাচ্ছেন না। তবে বেশ কয়েকটি শরিক দলের নেতা যারা নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে পারেননি তাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে এখনো চাপা কষ্ট রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসিত বরুণ রায় বলেন, ‘জাতিসংঘ সফরে আমাদের দলের কাউকে কেন নেয়া হয়নি, সেটা তো আমরা বলতে পারবো না। প্রধানমন্ত্রী যাদের প্রয়োজন মনে করেছেন তাদের নিয়ে গেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছু দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের একটা বৈঠক হবে। ওখানে আমরা সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহাজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি, ওয়াকার্স পার্টি, জাসদ এবং গণতন্ত্রী পার্টির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন। জাতিসংঘ সফরে যাবার আগে এসব দলগুলোর নেতারাই বলেছিলেন, শরিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের একা একা নির্বাচনী প্রচার এবং নির্বাচনী প্রার্থী বাছাইয়ের বৈঠক শুরু করাতে তারা ক্ষুব্ধ। তবে নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পর এ বিষয়ে আর তারা মুখ খুলছেন না।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘে মহাজোটের কূটনীতি সফল। কারণ তিনি মহাজোটের এসব নেতাদেরকে নিউইয়র্কে নিজের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে প্রমাণ করেছেন, আওয়ামী লীগ একা নয়, এসব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন চায় এবং বর্তমান সরকারের আমলে সবগুলো নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়েছে। ওই নির্বাচনগুলো নিয়ে এসব রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও কোনো অভিযোগ নেই। যত অভিযোগ কেবল বিএনপি আর তার দোসর যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত শিবিরের।

এদিকে ১৪ দল সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন উপলক্ষে জোটগত প্রচারণায় অক্টোবরের পরই মাঠে নামার পরিকল্পনা রয়েছে ১৪ দলের। তার আগে অবশ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি বৈঠক হবে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের। সেই বৈঠকে জোটগত নির্বাচনী প্রচার এবং নির্বাচনে শরীক দলগুলোর প্রার্থী বিলি-বণ্টন নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া অক্টোবরে পূজা এবং ঈদের শেষে নভেম্বরে জোটগতভাবে মাঠে নামবে ১৪ দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নিকাহনামার পাঁচ নম্বর কলাম থেকে ‘কুমারী’ শব্দটি বিলোপ

স্টাফ রির্পোটার : মুসলিমদের বিয়ে নিবন্ধন ফরম অর্থাৎ নিকাহনামার পাঁচ নম্বর কলাম ...

রো‌হিঙ্গা‌দের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তন চায় যুক্তরাষ্ট্র : কুড়িগ্রামে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ব‌লে‌ছেন, সকল ...