Home | বিবিধ | পরিবেশ | বিদায় নিল “ঋতুরাজ” বসন্ত

বিদায় নিল “ঋতুরাজ” বসন্ত

সুমন কর্মকার, বাগেরহাট……..

বসন্তের আগমনে প্রকৃতি ফিরে পায় নতুন রূপ, নতুন প্রাণ, নতুন চাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা। ঘুচে যায় শীতের রুক্ষতা-শুষ্কতা। চলে যাচ্ছে সেই ঋতুরাজ বসন্ত। বাগানে ফুলরসম্ভার, আম্র শাখায় গুটি আম আর ডালে ডালে কোকিলের গান রেখে বিদায় নেবে সে। আর একদিন পরেই আসবে নতুন দিন, নতুন বছর বঙ্গাব্দ-১৪২৫। ঋতু পরিক্রমায় বাংলায় ফাল্গুন-চৈত্র এ দুই মাস বসন্ত হিসেবে পরিচিত, যা ষড়ঋতুর বাংলাদেশে “ঋতুরাজ” নামে খ্যাত। মাঘের শেষদিকে শীতের জড়োসড়ো জড়ানো চাদর সরিয়ে আমরা অপেক্ষা করতে থাকি কবে আসবে সেই পাতা জাগার দিন, নাতিষীতোষ্ণ সময়। একটুখানি উষ্ণতার পরশ পেতে, মিঠে কড়া রোদের ছোয়া পেতে মন হয়ে ওঠে উদগ্রীব। শেষমেশ শীতের জরাজীর্ণতা ঝেড়ে বনে, মনে অপূর্ব রং ছড়িয়ে আসে বসন্ত। গাছে আবার পাতা গজায়, ফুলের বাহারি মেলায় ভরে ওঠে বিতান। নানা রকম ফুলের ঘ্রাণে আকৃষ্ট হয়ে উড়ে, বেড়ায় মৌমাছি-প্রজাপতি। গুন গুন রবে গেয়ে ওঠে ভ্রমর। গাছে গাছে কুহু কুহু রবে ডাকে কোকিল। ফুরফুরে আমেজে ভরে ওঠে চারদিক। উতলা হয় মানুষের বিরহী মন। প্রথম মাস ফাল্গুন যায়, চৈত্র আসে। চৈত্র, বসন্তের শেষ মাস, বিশেষ করে ১৫ চৈত্রের পর বেজে ওঠে বসন্তের বিদায়ী সুর। নানা ঘটনা আর উৎসবের সাক্ষী হয়ে বিদায় নেয় বসন্ত।
এ ঋতুতেই সংঘটিত হয়েছিল মাতৃভাষা আন্দোলন ২১শে ফেব্রুয়ারি, মুক্তি সংগ্রাম ২৬ মার্চ। তাই বাঙালির জীবনে বসন্ত এক স্মরণীয় সময়। চেতনায় উদ্দীপ্ত হওয়ার সময়। এ ছাড়া বসন্ত বাঙালির উৎসবের সময়ও বটে। স্টার সানডে, চৈত্রসংক্রান্তি, হোলি উৎসব, শিবরাত্রী, বাসন্তী পূজা, চড়ক পূজা প্রভৃতি বসন্তেই অনুষ্ঠিত হয়। এসকল উৎসব বাঙালিকে হাসি, আনন্দ, কান্নার দোলায় দুলিয়ে বিদায় নেয় বসন্ত। কিন্তু তাতে যেন ব্যথিত নই। কারণ, তখন আমরা ব্যাস্ত থাকি বৈশাখকে নিয়ে, নতুন বছরকে নিয়ে। বসন্তকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বছরকে নবরূপে কামনা করি। নতুনের স্বপ্নে আবারও জ্বলে উঠতে চাই, বলে উঠতে চাই “এই জরাজীর্ণতা, এই রিক্ততা আর নয়” “চাই পূর্ণতা, নতুন সজীবতা, নতুন সুরের স্পর্শ, নব আলোকে উজ্জীবিত জীবন”। তার জন্য বসন্তকে আমাদের বিদায় দিতেই হয় আমাদের।
ঋতুরাজ বসন্তের বিদায়ের মধ্য দিয়েই শুভ সূচনা হয় নতুন বছরের নতুন পথচলা। নতুন বছর আমাদের জন্য কতখানি সাফল্য বয়ে আনতে পারবে, আমাদের কল্যাণ ও সুন্দরের পথ দেখাতে পারবে সেই প্রত্যাশাই থাকে। আমরা নতুনের আহ্বানে মাতি। ভুলে যাই একটি বছরে কী আমাদের প্রাপ্তি। কতটুকুই বা সাফল্য আর কতটুকুই বা তার ব্যর্থতা।
বাঙালির বৈশাখ এলেই বসন্তের প্রস্থান। তাকে বিদায় জানাতে নেই তেমন কোনো আলাদা আনুষ্ঠানিকতা। ইংরেজরা অবশ্য ইংরেজি বছরকে বিদায় জানাতে উদ্যাপন করেন থার্টিফার্স্ট নাইট। বসন্তের বেলায় অবশ্য সে রকমটি নেই। বাংলায় বর্ষবরণের মধ্য দিয়েই যেন উচ্চারিত হয় “বিদায় হে ঋতুরাজ বসন্ত” চলতি বছরও আমরা যেন সেই মহেন্দ্রক্ষণে এসে পড়েছি। আর মাত্র একদিন পর বিদায় নেবে বসন্ত, আসবে নতুন বছর বঙ্গাব্দ-১৪২৫। তাই পুরোনো দিনের সব ভুল, ভ্রান্তি, সংকীর্ণতা, কু-মানসিকতা, জরাজীর্ণতা, দুঃখ, বেদনা, ক্লেশ বসন্তের সঙ্গে ধুয়েমুছে যাক, নতুন উদ্যোমে, নতুন সম্ভাবনা, সুখ, সমৃদ্ধি, স্বপ্ন নিয়ে আসবে নতুন বছর এ প্রত্যাশা আমরা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট নেয়ার সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার :  আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট নেয়ার ...

আবারও শহর জেগে উঠার আগেই ঝটিকা মিছিল রিজভীর

স্টাফ রিপোর্টার : আবারও শহর জেগে উঠার আগেই দলীয় কার্যালয় থেকে ঝটিকা ...