ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | ‘বিচ্ছিন্ন করার’ মিশনে এগোচ্ছে জামায়াত-শিবির

‘বিচ্ছিন্ন করার’ মিশনে এগোচ্ছে জামায়াত-শিবির

স্টাফ রিপোর্টার, ৫ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : ভিন্ন মিশনে এগোচ্ছে জামায়াত-শিবির। নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে তারা। মহানগর ছেড়ে প্রত্যন্ত জনপদে শক্ত অবস্থান তৈরির জন্য পাহাড়বেষ্ঠিত উপজেলাগুলো বেছে নেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ঢাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দেয়াই তাদের মূল টার্গেট।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ জনপদ ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলো এখন শিবিরের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই নগর ছেড়ে তারা দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাত উপজেলার গ্রামে-গঞ্জে ঢুকে পড়ছে। নগরে তাদের ওপর পুলিশের বিভিন্ন হামলা মামলা হওয়ায় তারা এ কৌশল অবলম্বন করছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার গোপন মিশন চলছে। একইভাবে সীতাকুণ্ড, মিরেরসরাই অথবা ফেনী, কুমিল্লার যে কোনো স্থানে সড়ক ও রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রাণপণ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে তারা তা বাস্তবায়নের ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে। ওদিকে ফটিকছড়ির পাহাড়ি এলাকায় তারা শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার ফটিকছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে বেইলি ব্রিজের পাটাতন খুলে ফেলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা।

স্বাধীনতার পর থেকে বিশেষ করে গত দুই দশক ধরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া এ দুই উপজেলাকে প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে জামায়াত-শিবির। এখন তাদের নেতাকর্মীরা আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে সাতকানিয়া-লোহগাড়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাত উপজেলাকে। এ এলাকার গ্রামীণ জনপদ ও পাহাড়ি অঞ্চলে তারা দলবেঁধে অবস্থান নিচ্ছে। সুযোগ পেলেই নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা করছে। সবমিলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম এখন শিবিরের অভয়ারণ্য।

উল্লেখ্য, গত দুই দশক ধরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া উপজেলার সংসদীয় আসনটি ছিল জামায়াতের দখলে। এ এলাকার বিগত চারদলীয় জোট সরকারে আমলে শাহজাহান চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলেও জামায়াতের চট্টগ্রাম নগরের আমির শামসুল ইসলাম সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ফলে ওই এলাকায় ঘরে ঘরে জামায়াত শিবিরের সমর্থক রয়েছে।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার প্রভাব আশেপাশের উপজেলাগুলোতেও পড়েছে। বিশেষ করে বাঁশখালী ও পটিয়া উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের বিশাল কর্মী বাহিনী রয়েছে। সাতকানিয়া-লোহগাড়ায় তারা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় দেয়ার পর থেকে রাজপথে সক্রিয়। তারা সরাসররি পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে কক্সবাজার সদর, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, পেকুয়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়া উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। জামায়াত-শিবিরের আক্রমনে পুলিশের বেশ কিছু সদস্য আহত হয়েছে। দফায় দফায় তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক অবরোধ করে যানবাহান চলাচল বন্ধ করে দেয়। বাশঁখালীতেও তাদের তাণ্ডব লক্ষ্য করা যায়। এ উপজেলায় তারা থানা কমপাউন্ডে হামলা চালাতে সক্ষম হয়।

পটিয়া উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর সক্রিয় হস্তক্ষেপে তারা গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে চোরাগোপ্তা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। পটিয়ায় পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় থাকায় জামায়াত-শিবির মাঠে নামতে পারেনি।

পটিয়ার পার্শ্ববর্তী চন্দনাইশ উপজেলায় এলডিপির শক্ত অবস্থান থাকায় সেখানেও তেমন সুবিধা করতে পারেনি জামায়াত। আনোয়ারা উপজেলায় নানা জায়গায় নাশকতা চালালেও বোয়লখালীতে শিবিরের তেমন ভালো অবস্থান নেই। তবে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার, পটিয়া, বোয়ালখালী ও চন্দনাইশ উপজেলার কৌশলগত পাহাড়ি এলাকায় বর্তমান শিবিরের শক্ত অবস্থান রয়েছে।

জেলার ৭টি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে সুযোগ পেলেই দলবদ্ধভাবে নাশকতা চালাচ্ছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এ পরিস্থিতিকে ওই এলাকাগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি নামানো হয়েছে।

শিবিরের সভাপতির বক্তব্য
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শিবিরের সভাপতি তারেক হোসাইন বলেন, ‘শিবির কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। তাছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামে আমাদের ভালো অবস্থান রয়েছে। এখানে আমাদের অনেক কর্মী থাকবে, এটা স্বাভাবিক। এখানে আমরা খারাপ কিছু করছি না। বরং সরকার সাধারণ শিবির কর্মীদের ওপর হামলা- মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।’

দক্ষিণ পটিয়া সার্কেলের বক্তব্য
দক্ষিণ পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিবিরের ভালো অবস্থান রয়েছে তা ঠিক। তবে তাদের ব্যাপারে ওপর মহলে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের অবস্থান যাই হোক, পুলিশি তৎপরতার কারণে তারা এখনো পর্যন্ত এ এলাকায় বড় ধরনের কোনো নাশকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। তাদের ব্যাপারে প্রতিটি থানায় সতর্ক থাকতে অর্ডার দেয়া হয়েছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার একেএম শহিদুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে আমরা আইনশৃংখলা রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছি। সে কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। জামায়াত-শিবিরের লোকজন মহানগর এলাকায় যেন কোনো বড় ধরণের নাশকতা চালাতে না পারে সে জন্য সজাগ রয়েছি। সে কারণে তারা মহানগরের বাইরে উপজেলাগুলোতে আশ্রয় নিতে পারে। তবে সিটি এলাকায় তাদের তৎপরতা কম মনে হচ্ছে।

x

Check Also

‘গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন ইন স্পেন’ নির্বাচনে মুজাক্কির – সেলিম প্যানেল বিজয়ী

জিয়াউল হক জুমন, স্পেন প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের চারটি জেলা নিয়ে গঠিত গ্রেটার ...

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার ...