ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | বিচার হয়নি শেয়ার কেলেঙ্কারির খলনায়কদের

বিচার হয়নি শেয়ার কেলেঙ্কারির খলনায়কদের

স্টাফ রিপোর্টার, ২৮ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : বিচার হয়নি শেয়ার কেলেঙ্কারির খলনায়কদের। আওয়ামী লীগ সরকারের দুই আমলেই শেয়ারবাজারে কেলেঙ্কারি ঘটে, সে ব্যাপারে তদন্ত হয়েছে, মামলাও হয়েছে। কিন্তু খলনায়কদের শাস্তি হয়নি এখনো। ফলে বাধাহীন শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে একই চক্র শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। `৯৬ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির জের শেষ হতে না হতেই ২০১০ সালে আবারও শেয়ার কেলেঙ্কারির কালো থাবা ছোবল হানে। সর্বস্ব হারিয়ে ৩৫ লাখ বিনিয়োগকারী রীতিমতো পথে বসেছেন। পুঁজি হারানো ও ঋণের দায়গ্রস্ততায় এরই মধ্যে অন্তত তিনজন বিনিয়োগকারী আত্দহত্যা করেছেন। জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি রয়েছেন আরও অনেকেই। সর্বস্বহারা বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ, কান্না, আকুতি- কোনো কিছুতেই কারও হৃদয় গলছে না। প্রতিকার হচ্ছে না শেয়ারবাজার ধসের, খলনায়কদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

`৯৬-এর শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে করা ১৫টি মামলার মধ্যে একটি মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি মারা যাওয়ায় ওই মামলাটি খারিজ হয়েছে। বাকি ১৪টির এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়ে আছে নয়টি মামলার কার্যক্রম। আইনের দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে বাকি পাঁচটির কার্যক্রম। অপর দিকে, ২০১০ সালের কেলেঙ্কারির নায়কদের মাত্র পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো শুনানিই হয়নি। `৯৬ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি মামলার আসামিদের অনেকেরই ২০১০ সালের কারসাজির সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত শেয়ার কারসাজিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের পাশাপাশি বিএনপি ঘরানার কয়েকজন ব্যবসায়ীও সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন। শেয়ারবাজার কারসাজির বড় ধরনের ঘটনা ঘটে ১৯৯৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে। সে সময় মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে ডিএসইর সূচক ১০০০ থেকে ৩০০০ পয়েন্টে পেঁৗছায়। প্রায় ৩০টি ভুয়া কোম্পানি করে বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এ ছাড়া শাইনপুকুরসহ কয়েকটি কোম্পানি ভুয়া শেয়ারের কাগজ ছাপিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে। এ কারণেই নভেম্বরের শেষে এসে ব্যাপক ধসের মুখে পড়ে বাজার। ওই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। `৯৭-এর ২৭ মার্চ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৩ এপ্রিল ১৫টি কোম্পানি ও ৩৬ ব্রোকার হাউসের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করে এসইসি। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম এ কে এম আবদুস সালামের আদালতে এসইসির নির্বাহী পরিচালক এম এ রশীদ খানের করা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- বেঙ্মিকো গ্রুপের পরিচালক সালমান এফ রহমান, সোহেল এফ রহমান, ডি এইচ খান, শাইনপুকুর হোল্ডিংসের পরিচালক সালমান এফ রহমান, সোহেল এফ রহমান ও এ বি সিদ্দিকুর রহমান, এপেঙ্ ফুডের জাফর আহমেদ ও ড. জহুর আহমেদ, ইমতিয়াজ হোসেন অ্যান্ড কোম্পানির মালিক ইমতিয়াজ হোসেন, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চিটাগাং সিমেন্টের আবু তাহের, রকিবুর রহমান, এ এস শহীদুল হক বুলবুল, রূপন অয়েল অ্যান্ড কিডস লিমিটেডের নূরুন্নবী, হেমায়েত উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ সাদেক, সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ, শরীফ আতাউর রহমান ও ইকবাল হোসেন, আমাম সি ফুডের জাফর আহমেদ ও ড. জহুর আহমেদ, ফার্স্ট ক্যাপিটালের রেজওয়ান বিন ফারুক ও এম কে এম মহিউদ্দিন, দোহা সিকিউরিটিজের এ কে এম শামসুদ্দোহা, এসইএসের রুনা আলম ও সাদেক সিদ্দিকী, প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজের আবদুর রউফ চৌধুরী, মশিউর রহমান, সৈয়দ এইচ চৌধুরী ও অনু জায়গীরদার, চিক টেঙ্টাইলের মাকসুদুর রহমান ও ইভতিয়ার মোহাম্মদ, সিকিউরিটিজ কনসালট্যান্টের এ জি আলম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ খান ও প্রফেসর মাহবুব আহমেদ। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এসইসি একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাব করলেও অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া যায়নি। আবার এসইসির আইনজীবীদের সঙ্গে আসামিদের গোপন যোগাযোগের অভিযোগও রয়েছে। ফলে কবে আসামিরা শাস্তি পাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন লঙ্ঘন করে ব্যাংকগুলো অবাধে মার্জিন লোন প্রদান করতে থাকে। কয়েক মাসের মধ্যেই শেয়ারবাজারের সূচক ৩০০০ থেকে ৯০০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়।

একপর্যায়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরই পরিকল্পিতভাবে শেয়ারবাজারে ধস নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে মোট ৩৫ লাখ বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসে পড়েন। ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে পুঁজি হারানো মানুষের আহাজারি ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। প্রতিদিনই বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীদের ওপর পুলিশি হামলা, মারধর, গ্রেফতার অভিযান চলতে থাকে। কিন্তু দায়ী চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।

সরকার একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে শেয়ার কারসাজির নায়কদের চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ নেয়। তদন্ত শেষ হলেও জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অর্থমন্ত্রীও অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রভাবশালী এই লুটেরা চক্রটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি জড়িত থাকায় ক্রমেই সব চাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু শেয়ার কারসাজির খলনায়কদের শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় অবশেষে ২০১১ সালের ২১ আগস্ট এসইসি বাদী হয়ে শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনায় মামলা করে।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এসইসির পরিচালক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন। এর একটি মামলায় আবু সাদাত মো. সায়েম, তার ভাই মো. আবুল মমিন মোল্লা ও অপর মামলায় সৈয়দ সিরাজদ্দৌলা, তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার মায়া ও মো. হাবিবুর রহমান মোড়লকে আসামি করা হয়। ২৩ নভেম্বর ১০৮১ নম্বর পিটিশন মামলার কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দেন আদালত। ওই মামলায় আসামি ছিলেন সিকিউরিটিজ কনসালট্যান্টস লিমিটেডের এ জি আজম চৌধুরী, শহিদুল্লাহ ও প্রফেসর মাহবুব আহমেদ। `৯৯ সালের ২৮ এপ্রিল উচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন আদালত মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। বাকি ১৩ মামলায় সালমান এফ রহমান, রকিবুর রহমানসহ প্রায় ৪৫ জন আসামি রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আসামিরা সবাই জামিনে রয়েছেন।

কিছুই পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা : ১৯৯৬ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির পর ২০১০-১১ সেশনে পুনরায় কেলেঙ্কারি ঘটে। প্রথমবারের কেলেঙ্কারিতে ২০০ কোটি টাকার মতো লোপাট হলেও পরেরবার হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকার ওপর। সর্বস্ব হারিয়েছেন প্রায় ৩৫ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। কিন্তু নেপথ্য নায়করা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিনিয়োগকারীদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয় সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে। বিশেষ করে শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব গড়ে তোলাসহ পুঁজি বিনিয়োগ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। তবে প্রণোদনা ঘোষণা করেই সরকারের দায়িত্ব শেষ।

x

Check Also

‘গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশন ইন স্পেন’ নির্বাচনে মুজাক্কির – সেলিম প্যানেল বিজয়ী

জিয়াউল হক জুমন, স্পেন প্রতিনিধিঃ সিলেট বিভাগের চারটি জেলা নিয়ে গঠিত গ্রেটার ...

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভা

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার ...