Home | আন্তর্জাতিক | বিঘ্ন ঘটছে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ইসির একশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ দু’মাস

বিঘ্ন ঘটছে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ইসির একশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ দু’মাস

স্টাফ রিপোর্টার, ১০ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : মহাহিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিএন্ডএজি) অফিসের এক সিদ্ধান্তেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রায় একশ কর্মকর্তা-কর্মচারী দু’মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। হঠাৎ এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটা বেকায়দায় পড়ছেন তারা।

বেতন বন্ধের ব্যাপারে সিএজি অফিসের আপত্তির বিষয়ে চাকরিবিধি সংশোধন করা হচ্ছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে রোববার পর্যন্ত বেতন বন্ধ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়নি।

এদিকে আসন্ন খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট এ চারটি সিটি করপোরেশন এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চলছে জোর প্রস্তুতি। কিন্তু হঠাৎ কমিশনের স্টাফদের বেতন বন্ধের কারণে নির্বাচনী কাজে ছন্দপতন হয়েছে। কমিশনের আশঙ্কা, এটি অব্যাহত থাকলে এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হবে। কারণ কমিশনের নিদের্শনাগুলো পালন করেন এ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এক-এগারো পরবর্তী তত্তাবধায়ক সরকারের সময়ে পুনর্গঠিত হুদা-ছহুল কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংস্কার, ছবিযুক্ত ভোটার আইডি ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নানা ধরনের কাজ শুরু করে। তৎকালীন কমিশনের বিদ্যমান জনবল দিয়ে এ পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না। তাই তখন কমিশন নতুন পদ সৃষ্টি এবং পদের নামে পরিবর্তন এনে পদগুলোকে কমিশনের অর্গানোগ্রামে সংযুক্ত করে।

এসব পদ সৃজন ও পদের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রণালয়, জন-প্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মতিতেই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এমনকি দীর্ঘ এক বছর ধরে সংশ্লিষ্টরা বেতনভাতা ভোগ করে আসছে।

কিন্তু হঠাৎ করে কিছুদিন আগে বেতনভাতা দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সিও অফিস এক আপত্তিতে হুদা-ছহুল কমিশনের অর্গানোগ্রামে যুক্ত প্রায় একশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি এ দু’মাস তারা কোনো বেতনভাতা পাননি।

বেতন বন্ধের তালিকায় উপ-সচিব, সিনিয়র সহকারী থেকে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছেন।

একজন সিনিয়র সহকারি সচিব রোববার বলেন, ‘আমরা কমিশনের স্থায়ী  কর্মকর্তা হয়েও আমাদের বেতন বন্ধ দু’মাস। আজ ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখ, এখনো বেতন পাইনি। অথচ সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পান এবং বেতনের অনেকটাই এ সময়ের মধ্যে খরচ হয়ে যায়। সেখানে আমরা দু’মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। তাহলে আপনারাই বুঝুন কতখানি ভালো আছি।’

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ রোববার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ, তাতে আমরা কী করতে পারি? এটা দেখভালের দায়িত্ব কমিশন সচিবালয়ের। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ের নথি আমাদের কাছে এলে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হবে।’

কমিশন সংশ্লিষ্টদের  সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পদ সৃজন ও পদের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত চাকরিবিধিতে কিছুটা অসঙ্গতি রয়েছে। তবে কমিশনের স্থায়ী স্টাফ হিসেবে বেতন বন্ধের মতো কোনো গুরুতর অসঙ্গতি নেই।

তারা জানান, সিও অফিসের আপত্তির বিষয়ে চাকরিবিধি সংশোধন করা হচ্ছে বলে ইসির পক্ষ থেকে তাদেরকে জানানো হচ্ছে। চাকরিবিধি সংশোধন একটি ধীরগতির প্রক্রিয়া এ বিষয়টি জানিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ছাড় করার জন্য সিএন্ডএজি অফিসকে একদফা জানানো হয়েছে।

এছাড়াও সিএন্ডএজি অফিসের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ডেস্ক দেখভাল করেন সিও। তিনি সম্প্রতি এ পদে যোগদান করেছেন। এর আগে পর্যন্ত বেতনবন্ধ হয়নি বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের পর স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধের নজির এ-ই প্রথম। তাও উপ-সচিব, সিনিয়র সহাকারী সচিব ও সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকতাদের। চাকরির এ পর্যায়ে হঠাৎ বেতন আটকে যাওয়াতে সমাজিক ও মানীষকভাবে ভেঙে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা।

x

Check Also

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত : ট্রাম্প

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার বিষয়ে আগামী ...

সিরিয়ার সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরায়েলের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ...