Home | ফটো সংবাদ | বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার সমালোচনা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার সমালোচনা

স্টাফ রির্পোটার : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কড়া সমালোচনা হয়েছে। ফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতার বিষোদগার করেছেন স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য। প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে নামার আগে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে শক্তি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও হয়েছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে। বিএনপির রাজনীতি যেন শুধু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে সেই বিষয়টি খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে।

বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব আলোচনা হয়। লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক স্কাইপির মাধ্যম বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক সূত্রে এসব জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, ‘বৈঠকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসা, সদ্য সমাপ্ত ডাকসু নির্বাচনে ভরাডুবি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও বৈঠকে স্থায়ী কমিটির দুজন নেতা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমালোচনা করেন।’

বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের কয়েকজন মত দেন যে, বিএনপির রাজনীতি এখন অনেকটাই জোটকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হতে হবে। এজন্য নিজেদের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করার বিষয়ে তারা একমত পোষণ করেছেন।

সূত্রে জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় তোলেন একজন সদস্য। এই প্রসঙ্গ উঠলে অন্যরাও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার সমালোচনা করেন। তারপর সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন কতটুকু সঠিক ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দু-একজন সদস্য।

বৈঠকে জামায়াতকে জোটে রাখা নিয়ে আলোচনা হয় বলে একজন জানান। জামায়াতকে জোটে রাখার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, জামায়াত নানা কারণে বিএনপির জন্য দায় হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে যে বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে জোট করা হয়েছিল সেটি আর এখন নেই। এখন জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। আন্দোলনেও তাদের পাশে পাওয়া যায় না। এমতাবস্থায় তাদের জোটে রেখে লাভ নেই বলে মত দেন তিনি। জবাবে কেউ কেউ বলেন, ‘খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছেন। তাই তিনিই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এছাড়া সবাই বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনেও নামতে হবে।’ তবে এর আগে দলের বিভিন্ন জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠন করা জরুরি।’

বৈঠক উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঈশ্বরদীতে ছেলেধরা সন্দেহে আরও একজনকে গণপিটুনি

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈশ্বরদীতে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে ...

ঢাকার দিকে ধেয়ে আসছে বন্যার পানি

ডেস্ক রির্পোট : দেশের মধ্যাঞ্চল ঢাকার দিকে ধেয়ে আসছে বন্যা। এরইমধ্যে বন্যার পানিতে ...