Home | ফটো সংবাদ | বিএনপির প্রার্থী আফরোজা নাকি মির্জা আব্বাস, বিভ্রান্তিতে ভোটাররা

বিএনপির প্রার্থী আফরোজা নাকি মির্জা আব্বাস, বিভ্রান্তিতে ভোটাররা

স্টাফ রির্পোটার : দুই প্রার্থীই ব্যাপকভাবে পরিচিত। তাদের বিষয়ে নেতিবাচক অভিযোগ নেই বললেই চলে। একজন তিনবারের সংসদ সদস্য। নতুন প্রার্থী। তবে দুজনের লড়াই জমবে- এটা বলছেন ভোটাররা।

কথা হচ্ছে খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, এবং নাসিরাবাদ, দক্ষিণগাঁও, মান্ডা ইউনিয়ন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশেনের ১ থেকে ৭ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ সংসদীয় আসন নিয়ে। নৌকা নিয়ে লড়ছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। ধানের শীষ নিয়ে আফরোজা আব্বাস।

ভোটের প্রচারে আফরোজার ওপর হামলা হয়েছে অন্তত দুই দফা। তবু তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে জনসংযোগে যাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকায়।

অবশ্য প্রার্থী ছাড়া দলের নেতাকর্মীরা একা একা প্রচারে যাচ্ছেন কমই। নেই পোস্টার, ব্যানারও। ফলে বহু এলাকায় ভোটাররা এখনো পায়নি আফরোজার বার্তা। একাধিক ভোটার বলছেন, বিএনপির প্রার্থী আফরোজা নাকি তার স্বামী মির্জা আব্বাস, সেটা নিয়ে বিভ্রান্তিতে তারা।

সবুজবাগ থানার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, ‘বিএনপি অহনতরি কোনো পোস্টার লাগায় নাই। নেতাকর্মীদের খুব একটা দেখি না। শুনছি আব্বাস সাবের স্ত্রী এই আসনে নির্বাচন করবে। তবে আমি নিজে তাদের কোনো প্রচার করতে দেখি নাই।’

তালতলায় রিকশাচালক মজনুর সঙ্গে কথা হলো। হেসে বললেন, ‘আমি তো অনেক বছর ধরে রিকশা চালাই, তবে এই আসনে এইবার প্রার্থী কে এইডা আমি ঠিক জানি না। শুনছি মির্জা আব্বাস দাঁড়াইছে, আবার কেউ কয় তার বউ নাকি দাঁড়াইছে। কে যে দাঁড়াইছে এইডা পোস্টার না দেখলে কেমনে বুঝমু কও তো? এহনও বিএনপি পোস্টার দেহি নাই।’সাবের হোসেন চৌধুরীও আছেন সশরীরে। তবে সেটা আফরোজার তুলনায় কম বলে জানাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

গত সোমবার বিকালে খিলগাঁওয়ের শেখের জায়গা এলাকায় অধ্যাপক আলী আহমদ উচ্চবিদ্যালয়ে নির্বাচনী পথসভা করেন সাবের। বলেন, এবার জনতার রায় আরও বেশি হবে তার পক্ষে। বলেন, বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিতরাও এবার তার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। বলেছেন, ভোট দেবেন নৌকায়।

৭৩ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সাইয়িদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এই আসনে অনেক জনপ্রিয়। আমগো আসনে প্রচুর কাজ করেছে সাবের ভাই। তয় ভাই এখন খুব একটা সময় দিতে পারতাছে না।’

আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সংগঠনের প্রধান হিসেবে কাজ করা সাবের হোসেন চৌধুরী এলাকায় সময় দিতে পারছেন না বলেই ব্যাখ্যা করেন সাইয়িদ। তবে এই আসনে সাবের হোসেন জিতবেন বলেই তার আশা।

গতকাল নির্বাচনী এলাকার মা-া, দক্ষিণগাঁও, নাসিরাবাদ ইউনিয়ন, সাতটি ওয়ার্ডসহ খিলগাঁও, মুগদা, ও সবুজবাগ থানা ঘুরে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের কোনো নির্বাচনী ক্যাম্পও চোখে পড়েনি।

অন্যদিকে তিন থানাতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরীর পক্ষে জমজমাট প্রচার চোখে পড়েছে।

খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে চা-বিক্রেতা সুমন বলেন, ‘এই এলাকায় কোনো বিএনপি অফিস নাই। খুঁজলেও পাইবেন না। বিএনপির কোনো মিটিং-মিছিল আমি দেখি নাই।’

সবুজবাগ থানার দাসপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা আহে না। তাদের পোস্টারও দেখি না। সব দেহি নৌকার।’

খিলগাঁও থানা যুবদলের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘এলাকায় তো দাঁড়াতে পারছি না। কয়ডা মামলা আছে নিজেও কইতে পারি না।’

এই আসনে সাবের চৌধুরী ১৯৯৬ সাল থেকেই ভোটের লড়াইয়ে আছেন। ২০০১ সালে একবার হেরেছেন। বাকি তিনটি নির্বাচনে পেয়েছেন জয়। সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিএনপির মির্জা আব্বাসকে ৮৬ হাজার ৬৩১ ভোটে হারান। নৌকা নিয়ে সাবের পান এক লাখ ৭৮ হাজার ৯৫৪ ভোট। আর ধানের শীষ নিয়ে আব্বাস পান ৯২ হাজার ৩২৩ ভোট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নড়াইলে দোলযাত্রা উৎসবে হোলিতে রেঙেছে নারী-পুরুষ

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল : নড়াইলের অলি-গলিতে চলছে হোলি উৎসব। তরুণ-তরুণী, জোয়ান-বৃদ্ধ সবাই ...

২ যাত্রীর পাকস্থলীতে ৩ হাজার ইয়াবা

স্টাফ রির্পোটার : রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ ২ যাত্রীকে আটক করেছে ...