Home | ব্রেকিং নিউজ | বিআরটিসি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

বিআরটিসি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : তাসরিফ খান। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু ইনস্টিটিউটে ভর্তি সহ যেকোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন তিনি। বর্তমানে বিআরটিসিতে প্রশিক্ষনরত ৩৫০ জনের কাছ থেকে লার্নার কার্ডের আবেদন ফরম বাবদ অতিরিক্ত ৩ শ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

যদিও এসইআইপি প্রকল্পের ওয়েব সাইটে উল্লেখ আছে সম্পূর্ন বিনামূল্যে সরকারি খরচে মোটরযান ড্রাইভিং ও রক্ষনাবেক্ষন এবং লাইসেন্স পাওয়া যাবে প্রশিক্ষন শেষে। কিন্তু এই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দ্বায়িত্বরত ম্যানেজারের যোগসাজে তাসরিফ খান হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষাধিক টাকা।

একাধিক প্রশিক্ষনার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সরকারি ভাবে বিনামূল্যে হলেও এখানে আমাদের মূল্য দিতে হয়। লার্নার কার্ডের ফরম বাবদ প্রতি প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে ৩শ থেকে ৫শ টাকাও নেয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে কিছু বলতে গেলে পরিক্ষায় পাস না করা, ঠিকমত প্রশিক্ষন না দেয়া, ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য তালবাহানা সহ নানা রকম হয়রানীর শিকার হতে হয় বলে শুনেছি আগের ব্যাজ থেকে। তাই আমরা কিছু বলতে পারি না।

জানা যায়, এসইআইপি ও বিআরটিসি,র উদ্দ্যেগে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সম্পূর্ন বিনামূল্যে মোট ৩৬ হাজার জনকে এসইআইপি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষন দেয়া হবে। এই প্রকল্পের অংশ হিসাবে এই পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়া বিআরটিসি তে মোট ১৩শ জন প্রশিক্ষনার্থী প্রশিক্ষন নিয়েছে। ৪ মাস মেয়াদী এই কোর্সে ৪র্থ ব্যাজের প্রশিক্ষন গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। এই ব্যাজে মোট ৩৫০ জনকে সকাল ১০ টা ও দুপুর ২ টায় দুটি ব্যাজে ১৭৫ জন করে ভাগ করে প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে।

এবিষয়ে সোমবার দুপুরে বিআরটিসি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে তাসরিফ খানের বক্তব্য নিতে গেলে দেখা যায় ভর্তি তথ্য কেন্দ্র কক্ষে কাজ করছেন তিনি। তখন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে টাকা নেয়ার বিষয়ে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের কোন কথা থাকলে ম্যানেজারকে গিয়ে বলেন। ম্যানেজারের বক্তব্য তো অবশ্যই নিব কিন্তু আপনার বক্তব্য কি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা ওনার সাথে কথা বলেন আমি কাজ শেষ করে আসতেছি। কিন্তু সে না আসায় ম্যানেজারের কক্ষে বসে তার মুঠোফোনে একাধিক বার কল দেয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তখন পূনরায় সেই কক্ষে আসলে সেটি তালাবদ্ধ দেখা যায়।

এব্যাপারে বিআরটিসি,র ডেপুটি ট্রেনিং ম্যানেজার নীহার রঞ্জন মজুমদার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মেডিকেল বাবদ ১শ টাকা নিতে হবে। এটা আমাদের এডমিনের নির্দেশ। কিন্তু লার্নার কার্ডের আবেদন ফরমের জন্য টাকা নেয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দেননি। তাসরিফ খানের বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কাশ্মীর : আবারও মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারত-পাকিস্তানের শত্রুতার কারণ ধর্ম, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে আবারও মধ্যস্থতার বার্তা দিয়ে ...

মাগুরায় নবদম্পতির আত্মহত্যা

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় গ্রামে একই শাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে নবদম্পতি ...