Home | বিবিধ | কৃষি | বাগেরহাটে পানের বাজার চড়া, নাজেহাল চাষী ও ভোক্তারা

বাগেরহাটে পানের বাজার চড়া, নাজেহাল চাষী ও ভোক্তারা

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাট জেলায় এমন কোনো ঘর খুঁজে পাওয়া মুশকিল যেখানে কেউ পান খান না। দাদি-নানি, বাবা-মা, মাসি-পিসি, মামা-কাকা কেউ না কেউ পান খান। আবার কেউ শখ করে হলেও খান পান। পান খাওয়ার অভ্যাস নেই যাদের তারাও কোনো অনুষ্ঠানে ভোজের শেষে এক খিলি পান মুখে পুরতে ভালোবাসেন। কিন্তু এবার পানের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এসব ভোক্তারা পড়েছেন বিপাকে।

বাজারে হু-হু করে বাড়ছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী অতিথি আপ্যায়নের অন্যতম উপাদান পানের দাম। ফলে উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী ক্রেতা বিক্রেতাসহ নাভীশ্বাস উঠেছে পান পিয়াসীদের। বর্তমানে বাজারে কমেনি চালের দাম, সেই সাথে এখন দামের উর্দ্ধমূখী হয়ে বাজার দাপাচ্ছে পানের দাম ।

একটু হিসাব করলেই দেখা যাবে বাগেরহাটের এক তৃতীয়াংশ লোকই পান খেয়ে থাকে বিশেষ করে পরিবারের বাবা মা ও বয়স্ক দাদা দাদি, নানা-নানি মুরোব্বিরা। নিম্ন আয়ের মানুষসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষই পান খেয়ে শরীর মনের খুধা মেটান। কিন্তু গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পানের বাজারে দামের এই অস্থিতিশীলতার কারণে এরকম চাপা কষ্টের মধ্যেই আছে পানের সাথে জড়িত মানুষেরা।

বিভিন্ন ছোট বড় হাট-বাজার ঘুরে জানা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে পানের দাম কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে যে পানের চলি প্রতি ৭০-৮০ টাকা ছিল তা বর্তমানে দেড়’শ টাকা এবং খিলি পান যা গত সপ্তাহে ১০০-১২০ টাকা ছিল তা বর্তমানে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছর শীতে বাগেরহাট জেলায় পান চাষীদের পানের বরজগুলোর পান অকালে ঝড়ে পড়ায় স্থানীয় বাজারে পানের সরবরাহ কমে গেছে। দীর্ঘদিন যাবত পান ব্যবসায়ের সাথে জড়িতরা এবছর ব্যাপক লোকশানের সম্মুক্ষীণ হচ্ছেন। যাত্রাপুর বাজারের পান ব্যবসাই শ্যাম দাশ, শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন জনান, গত সপ্তাহে মোকাম থেকে পান কিনে এনে তাদের আট-নয় জন ব্যবসায়ী প্রত্যেকে অনেক টাকা করে লোকশান দিয়েছেন। পানগুলো ঝরে পড়া ছিল তারা আগে বুঝতে পারেনি।

বর্তমানে মোকামেই পানের আকাল চলছে। মোকাম থেকে বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। মোকামে দাম বাড়তি হওয়ায় তার সাথে পরিবহন ও অন্যান্যা খরচ যোগ করলে দেখা যাচ্ছে যেন পান নয় শোনা কিনছি। পান কিনতে আসা বয়স্ক মুরোব্বি আব্দুল লতিফ চাচা বলেন, চল্লিশ বছর ধরে পান খাই এখন প্রতিদিন বিশ খিলি করে পান খায় কিন্তু বর্তমানে পানের যে দাম বাড়ছে তাতে করে তিন থেকে চারটা পানও খাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়েছে। পানের বাজারে আসতেই ভয় পাচ্ছি। চাহিদা মত পান না খেতে পেরে শাররিক ও মানষিক ভাবে ব্যাপক কষ্টে আছি।

বাজারের খুচরা পান বিক্রেতা বিনোধ চন্দ্র দাস জানান, বেশি দামে কিনতে হয় বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পানের উৎপাদনে ব্যহত হওয়ায় পান সরবরাহ কম হচ্ছে এজন্য দাম বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান অবস্থাতে পান ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ সবাই নতুন এক নাজেহাল অবস্থার মধ্যে পড়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ওবায়দুল কাদের শঙ্কামুক্ত

স্টাফ রির্পোটার : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অপারেশনের পর ...

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে দুই সপ্তাহ সময় দিল ইইউ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ব্রেক্সিট সমস্যা সমাধানে ও চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা ...