Home | সারা দেশ | বাগাতিপাড়ায় চারদিনে আট কৃষকের ১৫৯টি গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বত্ত্বরা

বাগাতিপাড়ায় চারদিনে আট কৃষকের ১৫৯টি গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বত্ত্বরা

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা ! নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চার দিনে ৮ জন কৃষকের ১৫৯টি আমের চারা গাছ কেটে ও গোড়ার দিকের ছাল তুলে ফেলেছে দুর্বত্ত্বরা। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দোষীদের কাউকেই সনাক্ত করা যায়নি। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নতুন আমবাগান মালিকরা।
ক্ষতিগ্রস্থদের সুত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে চকগোয়াশ মাঠে একই গ্রামের চার জন কৃষকের সাত থেকে দশ বছর বয়সের ৯৪টি আম গাছের কয়েকটি কেটে ফেলে এবং বাঁকিগুলোর গোড়ার দিকের ছাল তুলে রেখে যায় দুর্বত্ত¦রা। ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন, চকগোয়াশ গ্রামের ইউনুস আলী, আকবর হোসেন, রস্তম আলী ও কাজেম আলী। মঙ্গলবার খবর পেয়ে মাঠে গিয়ে তারা এ ঘটনা দেখতে পান। এদিকে, শুক্রবার দিবাগত রাতে একই কায়দায় একই এলাকার পাশ্ববর্তী তকিনগর মাঠে একই ঘটনা ঘটে। তকিনগর গ্রামের আরও চার জন কৃষক হাসমতের ছেলে কৃষক তনু মোল্লা, জমসেদের ছেলে টেনু মোল্লা, শমসেরের ছেলে ঝড়– মোল্লা ও রহিমের ছেলে জিল্লালের ৬৫টি আম গাছ কেটে ও ছাল তুলে ফেলে। ওই চারা গাছগুলো পাঁচ থেকে ছয় বছর বয়সী ছিল।
ক্ষতিগ্রস্থরা বলেন, রাতের কোন অংশে দুর্বত্ত্বরা শত্রুতা বশতঃ এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। পরদিন সেখানে গিয়ে কাটা গাছগুলো দেখতে পান এবং ছাল তুলে রাখা গাছগুলোকে নুইয়ে পড়তে দেখেন। তারা বলেন, গাছের গোড়ার দিকের এ ছাল তুলে রাখার ফলে গাছটি দুয়েক দিনের মধ্যেই মারা যায়। এর আগেও বেশ কয়েকবার এসব মাঠে গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে নতুন যারা আম বাগান করছেন তারা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। এসব ঘটনা স্থানীয় কৃষি অফিসকে জানিয়েছেন বলে জানান তারা। তবে কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন তা তারা জানেন না। এব্যাপারে থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হয়না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী জানান, এ বিষয়ে তাদের বিভাগের তেমন কিছু করার থাকেনা। তবে বিষয়টি তিনি তার উর্দ্বোতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং কৃষকদের থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ঘটনাটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। তবে এবিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন বানু বলেন, মানুষের সাথে শত্রুতা কিন্তু গাছগুলোকে এভাবে নষ্ট করা হচ্ছে। তিনিও কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদেরকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

a few Steps to Utilizing a Data Administration Plan

Data administration is an important process for corporations to implement to achieve ...

ঠাকুরগাঁওয়ে শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ

আদিবাসী এবং পথশিশুদের এক বেলা খাদ্য (খিচুড়ি) বিতরণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে ...