Home | জাতীয় | বাংলাদেশ এখনও মিয়ানমার কাছ থেকে কোনো সাড়া পায়নি

বাংলাদেশ এখনও মিয়ানমার কাছ থেকে কোনো সাড়া পায়নি

স্টাফ রিপোর্টার : গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সমস্যার মূল রয়েছে মিয়ানমারে, এর সমাধানও বের করতে হবে মিয়ানমারকেই। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও মিয়ানমার কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পায়নি।

গতকাল সোমবার ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েট্রো প্যারোলিনের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, সমস্যার মূল রয়েছে মিয়ানমারে, এর সমাধানও বের করতে হবে মিয়ানমারকেই।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং ভ্যাটিক্যান সিটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশি চেকপোস্টে হামলার জেরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসে রোহিঙ্গারা। আর মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দেয় বাংলাদেশ। এরপর দুই মাসে ছয় থেকে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সব মিলিয়ে এখন বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে বলে সরকারের তথ্য বলছে।

রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ এই বিষয়টি এবার জাতিসংঘে তুলে ধরেছে বেশ জোরালভাবে। সাধারণ অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তাদেরকে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চান।

এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ ও তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়েছে জাতিসংঘে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চেষ্টার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যায় ঢাকা। অবশেষে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে গঠন করা হয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কোন প্রক্রিয়ায় শুরু হবে ওয়ার্কিং গ্রুপের সেটা নির্ধারণ করার কথা থাকলেও এখনো কাজ শুরু করেনি।

ভ্যাটিক্যান সিটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেটকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তের ওপার থেকে সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর সমাধানও রয়েছে সেখানে। তাই চুক্তি বাস্তবায়নও করতে হবে মিয়ানমারকে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনও মিয়ানমারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি।’

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয় মিয়ানমারকে সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর পেশ করা পাঁচ দফা প্রস্তাবের কথা আবারও উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার এখনও কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করেনি।

ভ্যাটিক্যান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর লড়াইয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মের নামে মানুষ হত্যা কোন কারণেই উচিত নয়। তিনি অন্য দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না দেয়ার তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তৃণমূলে যাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের পর তৃণমূলের ...

একটি ফুটবল ম্যাচে ১০টি লাল কার্ড ও আটটি হলুদ কার্ড

স্পোর্টস ডেস্ক : একটি ফুটবল ম্যাচে ১০টি লাল কার্ড ও আটটি হলুদ ...