ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | পরিবেশ | বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পদ্মা নদীর উত্তর তীরের বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী

বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পদ্মা নদীর উত্তর তীরের বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী

ঈশ্বরদী: বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পদ্মা নদীর উত্তর তীরের ভাঙ্গন রোধে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার কোমরপুর হতে সাঁড়া-ঝাউদিয়া ও নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার তিলকপুর হতে গৌরীপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এম.পি.।

গতকাল ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর উত্তর তীরবর্তী সাঁড়া ঘাটে নদীর ভাঙ্গন রোধে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়াধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাঁধ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভ‚মি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

Sara_Embankment Barrage_2সাঁড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জমসেদ আলী সরকারের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহীর উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের পধান প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম সরকার, সংশ্লিষ্ট বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোশাররফ হোসেন, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সেলিম, ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান মুখলেছুর রহমান মিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বক্তব্য রাখেন।

ভূমি মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় সরকারের গৃহীত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, মৃত সাঁড়াকে আবার ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থলে পরিণত করা হবে। একসময়কার ঐতিহ্যবাহী সাঁড়াঘাটের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, গৃহহীনদের আবাসন ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান ভ‚মি মন্ত্রী। এছাড়া এ এলাকায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়নেরও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

ঈশ্বরদী উপজেলার কোমরপুর হতে সাড়া-ঝাউদিয়া এবং নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার তিলকপুর হতে গৌরীপুরের নদী শাসনের আওতায় আসায় এখন আবার সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত হচ্ছে এ জনপদ। জনশ্রæতি যে, সাঁড়াতে একসময় ঈশ্বরদী থানা হেডকোয়ার্টার ছিল, রেলওয়ে স্টেশন ছিল, নদী বন্দর ছিল, ইংরাজ সাহেব বাবুদের হাট ছিল, পাবলিকদের হাট ছিল, মসজিদ ও মন্দির ছিল। অথচ কালের বিবর্তনে প্রমত্তা পদ্মার দংশনে এ জনপদটি বিলীন হয়ে যায়। নিঃস্ব, অসহায় ও গৃহহীন হয়ে পড়ে এখানকার অর্ধ লক্ষাধিক পরিবার।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়াধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

নদীর তীর রক্ষার এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো- পদ্মা নদীর বামতীরের ভাঙ্গন হতে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার কোমরপুর হতে সাড়া-ঝাউদিয়া পর্যন্ত এবং নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার তিলকপুর হতে গৌরিপুর পর্যন্ত এলাকাগুলো রক্ষা করা। পদ্মা নদীর ভাঙ্গন হতে ‘পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প’ এর পদ্মা নদীর বামতীর বন্যা বাঁধের অংশ বিশেষ রক্ষা করারসহ ব্যাপক এলাকার কৃষি জমি ও মূল্যবান স্থাপনা রক্ষা করা। সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৩ হতে জুন ২০১৫ পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আগৈলঝাড়ায় জলাবদ্ধতার শিকার শত শত ঘরবাড়ি : খাল ভরাট করে প্রভাবশালীরা বাড়িসহ নির্মাণ করছে তেলের পাম্প

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সরকারী খাল ভরাট করে ...

দৌলতপুরে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে ৮ শতাধিক বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন

মোঃ লিটন মিয়া, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ গত কয়েক দিনে থেমে থেমে ...