Home | অর্থনীতি | বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠছে: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠছে: বিশ্বব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার :  বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাগুলোকে ক্রমাগত কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি পর্যালোচনা করে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক এমন মত দিয়েছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প বৈদেশিক খাতের হাল ধরে রেখেছে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই  প্রতিবেদনে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্ব ব্যাংকের বসন্তকালীন বার্ষিক বৈঠক চলাকালীন সময়ে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাগুলোকে কাটিয়ে উঠছে। গার্মেন্টস শিল্প ক্রমাগত বৈদেশিক আয়ের হাল ধরে রেখেছে। শক্তিশালী বিনিয়োগ ও রফতানি খাতে সংকট কাটিয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে ২০১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি স্থিতিস্থাপক রয়েছে।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘মুদ্রাস্ফীতির গতি কমেছে এবং বাজেট ঘাটতি কমে এসেছে। রেমিটেন্সের প্রবাহ কমে যাওয়ার পরও বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে। বাণিজ্য পরিচালনায় উচ্চ খরচের পাশাপাশি অবকাঠামোগত স্বল্পতা এবং অপর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা।’
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল। ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ও নিট রফতানি আয়ের কারণে ২০১৬ অর্থবছরে সে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বাণিজ্য খাতের স্থিতিশীলতায় আরও অবনতি, রাজস্ব সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মতো অভ্যন্তরীণ ঝুঁকিগুলো ২০১৯ সালের নির্বাচন পর্যন্ত থাকতে পারে।

বৈশ্বিক জোটে বাংলাদেশের সীমিত অংশগ্রহণের পরও এখন পর্যন্ত বৈদেশিক ব্যবসায়ের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এর মধ্যে আছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরো এলাকায় (বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার) নীতিমালাজনিত অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়াসহ জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া।

বিশ্ব ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ পর্যায়ের অপরিশোধিত ঋণ ব্যাংকগুলোকে আর্থিক চাপের মুখে ফেলছে। ব্যবসার পরিবেশ ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬ তম এবং ২০১৬ সালের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সূচকে ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৭তম, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন।

সরকারের অর্থ ও আর্থিক খাত শক্তিশালী হওয়ার প্রবণতা চলমান থাকায় বিনিয়োগকারীরা আত্মবিশ্বাস পাবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থব্যবস্থাপনার উন্নতি, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, রাজস্বের আওতা বৃদ্ধি ও যথাযথভাবে সংগ্রহ করা আর্থিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভয়ানক অভিযানে মিম!

বিনোদন ডেস্ক :  এক আলোকচিত্রে দেখা যাচ্ছে আগাগোড়া শরীর কালো পোশাকে ঢাকা ...

শ্রীলঙ্কায় বন্যা, ভূমিধসে নিহত ১০০

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : শ্রীলঙ্কায় মৌসুমি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ...