Home | ব্রেকিং নিউজ | বরগুনা পৌর নির্বাচন : ভয়ে নিজ গৃহেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা!

বরগুনা পৌর নির্বাচন : ভয়ে নিজ গৃহেই স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা!

বরগুনা প্রতিনিধি : তৃতীয়ধাপের বরগুনা পৌর নির্বাচনে হামলার ভয়ে নিজ গৃহেই সংবাদ সম্মেলন করেছেন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো: শাহাদাত হোসেন। শিশু পার্ক নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু মঞ্চ নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট নির্মাণ, নিজ অর্থায়নে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে দরিদ্র অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বি করা, ডিজিটাল নাগরিক সেবাসহ ২৩ দফা উন্নয়নের ইশতিহার ঘোষণা করেছেন তিনি।

রবিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় বরগুনা পৌরসভার পুুলিশ লাইন এলাকায় নিজস্ব বাসভবনে তৃতীয় ধাপের বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। এর আগে তিনি গত ১০ বছরের তার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন সাংবাদিকদের কাছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি এই পৌরসভায় ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

নিজ গৃহে ইশতেহার ঘোষণার বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি এখন অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। আমার উপর যে কোন মুহুর্তে হামলা হতে পারে তাই বাসা থেকে বের হই না। পরিবার পরিজন নিয়ে আমি এখন জিম্মি অবস্থায় আছি। প্রতিটি মুহুর্ত আমাকে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হচ্ছে। অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা চালালেও আমি কোন ধরণের প্রচার প্রচারণা চালাতে পারছি না। আমার কর্মীদের মারধর এমনকি প্রচারযন্ত্র পর্যন্ত ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে আমার কর্মীরা রাস্তায় নামতে পারছে না। তাদেরকে মারধর করা হচ্ছে। আমার প্রচারণার মাইক ভাংচুর করা হচ্ছে। এমনকি আমাকে ও আমার কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। মহারাজ এখন বরগুনা শহরে একটি আতঙ্কের নাম।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন তথ্য প্রমান ছাড়া কোন অভিযোগ আমলে নেয় না। তাই বরগুনার তিন নম্বর ওয়ার্ডে আমার পোস্টার ছিড়ে ফেলার ছবি তুলতে গিয়ে হামলা মামলার স্বীকার হয়েছে আমার কর্মীরা। হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে তাদেরকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এসময় সাংবাদিকরা তার নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রচারযন্ত্র ভাংচুর ও পোষ্টার ছিড়ে ফেলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘরে অবরুদ্ধ ও প্রচার প্রচারণায় বাঁধা দেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে। বাসায় পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানানো হলেও এখনো কোন পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। তবে তারা আমাকে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলেছেন।

শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, আমি ৩০ জানুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই নির্বাচন যাতে অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয় তার জন্য নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাজ আমি অনুরোধ জানাই। যাতে মানুষ তাদের ভোটাধিকার নির্বিঘেœ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করতে পারে।

এবিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত এসকল অভিযোগ মিথ্যা। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন বাসায় বসে কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছেন। এমনকি দলীয় প্রধানের সিদ্বান্ত অমান্য করে সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধেও আপত্তির মন্তব্য করেন যা খুবই দু:খজনক।

ঘোষিত ইশতিহারের মধ্যে রয়েছে, শিশু ও কিশারেদের জন্য আধুনিক সুযাগে-সুবিধা সম্বলিত শিশু পার্ক নির্মাণ, বরগুনা সার্কিট হাউজ ময়দানে বঙ্গবন্ধু মঞ্চ এবং দৃষ্টিনন্দন ডি.সি লেক নির্মাণ, সার্কিট হাউজ মাঠের চারপার্শ্বে পরিকল্পিত, আধুনিক পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পৌরসভার দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কারিগরি প্রশিক্ষণসহ আয় বর্ধনমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, টাউনহল নিউমার্কেট, মুক্তিযাদ্ধো মার্কেট, তরকারী বাজার নির্মাণসহ পৌরসভার আওতাধীন সকল তাহোবাজার সমূহ নতুনভাবে সংস্কার করা, শিক্ষিত বেকার যুবকদের আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, পৌরসভার নব নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনালের আদলে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা, বরগুনা পৌরসভার আয়তনকে বর্ধিত করে বৃহত্তর ও সুশৃংখল পৌরসভায় রপান্তর করা, পৌরসভার সকল সড়কে দৃষ্টিনন্দন ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি লাইট স্থাপন করা, রাস্তা নির্মাণ করা, বরগুনা পৌরএলাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা, বরগুনা পৌরসভাকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত করতে এলাকা ভিত্তিক কমিটি করা, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা, বরগুনা পৌরসভাকে সবুজায়ন, পরিবেশবান্ধব এবং উন্নত বর্জব্যবস্থাপনার শহর হিসাবে গড়ে তালো, শহরের যানজট নিরসণ করা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “মানবতার মা” দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত “রূপকল্প ২০৪১” অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহন করা, পৌরসভায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসাবে পানির বিল ও হািেল্ডং ট্যাক্স যাতে জনগণ ঘরেবসে দিতে পারে সে জন্য একটি অ্যাপস তৈরি করা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, পৌর এলাকায় মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, মশক নিধন এবং বাসা-বাড়ীসহ শহরের অভ্যন্তরের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর, দীর্ঘমেয়াদি ও পরিবেশ বান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করা, গণকবর সহ সকল মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা, শ্মশান, আখড়াবাড়ী, কালীবাড়ী সহ সকল উপাসনালয়ের উন্নয়নে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সকল ধরনের নাগরিক সুবিধাদি জনগণের দোরগাড়োয় পৌছে দেয়াসহ বরগুনা পৌরসভাকে নাগরিকবান্ধব পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও নিজ অর্থায়নে বরগুনা পৌরসভার হত দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ ২০০-৩০০ জনকে আর্থিক ভাবে সাবলম্বী করার জন্য কুটির শিল্প, সেলাই মেশিন,রিক্সা, দোকান, ক¤িপউটার ও গৃহপালিত পশু দিয়ে সাবলম্বী করা হবে।

১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বরগুনা পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয় ১৯৯৯ সালে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ পৌরসভায় ভোটার রয়েছেন ২৬ হাজার ১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সোস্যাল ওয়ার্ক

জহির খান রাত আর কতোই মমতা দেয় জড়িয়ে নেয় ঘুম তবুও খুব ...

চরকগাছিয়া টি-১০ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট : পচাঁকোড়ালিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন আর্ডেফ

বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার চরকগাছিয়া নতুন বাজার ও চরকগাছিয়া সমাজ কল্যাণ ...