ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | বন্যায় ভেসে গেছে সব, আর কিছু যাওয়ার বাকি নেই সুনামগঞ্জবাসীর’

বন্যায় ভেসে গেছে সব, আর কিছু যাওয়ার বাকি নেই সুনামগঞ্জবাসীর’

স্টাফ রিপোর্টার :  বর্ষা শেষের বন্যায় গত কয়েকদিনে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে, আমন চাষের সম্ভাবনাও নেই। কারণ তলিয়ে গেছে বীজতলা। এর আগেই বৈশাখের শুরুতে আগাম বানে ভেসে গেছে বোরোর আবাদ আর মড়কে শেষ হাওড়ের মাছ। আসছে শরতের আকাশ যতই ঝকঝকে হোক, সুনামগঞ্জের মানুষের চোখজুড়ে এখন কালো মেঘের ঘনঘাটা। হেমন্তের আসন্ন আকাল শঙ্কিত করে তুলেছে হাওড়ের জনপদকে।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার নবীনগর গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েকদিনের পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে শতাধিক হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিঃস্ব হয়ে গেছেন জেলার সিংহভাগ মানুষ।’

সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেরাজালি গ্রামের কৃষক মফজ্জল হোসেন বলেন, ‘মানুষের করুণা ভিক্ষা ছাড়া বাঁচার কোনও উপায় নেই। বোরো গেল, আউশ গেল, আমন গেল; বন্যায় সব ভেসে গেছে, আর কিছু যাওয়ার বাকি নেই।’ একই সুরে কথা বলেছেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা গ্রামের মধু মিয়া। তিনি জানান, বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষ এখন ত্রাণের আশায় দিন গুনছেন। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না।

স্থানীয়রা জানান, ত্রাণের চালই এখন শেষ ভরসা। চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসের আগাম বন্যায় ফসল হারিয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জবাসী। এরপর কালবৈশাখী ঝড়ে ঘর হারিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার একমাত্র অবলম্বন ছিল আমন ও আউশ ধান। কিন্তু আগস্ট মাসের বন্যায় তাও তলিয়ে গেছে। পুরো বছর এখন খাদ্য সংকটে থাকবেন তারা। কারণ আগামী বোরো মওসুম ছাড়া খাদ্যশস্য উৎপাদনের বিকল্প কোনও উপায় নেই। বৈশাখের ধান দিয়ে পুরো বছরের খাবার হয়। কিন্তু এখন একদিনের খাবারের চাল জুটানো কঠিন।

খাদ্য সংকটের ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। হাওরবাসীর কোনও কর্মসংস্থান নেই, যা দিয়ে দুই পয়সা আয় করে সংসার চালানো যায়। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমার পানি বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে আরও নতুন নতুন এলাকা।’

সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। হঠাৎ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। স্থগিত রয়েছে ছয়টি উপজেলার আট শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বেশ কয়েকটি উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পাউবো-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ভুইয়া রবিবার (১৩ আগস্ট) সকালে  বলেন, ‘বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি রাতের চেয়ে আজ সকালে কিছুটা বেড়েছে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।’

সংকট মোকাবেলায় প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান জানান, জেলার ১১টি উপজেলায় প্রত্যেকটিতে ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে। দুর্গতের চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করা হবে। বন্যার বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে দেখছে ও মাঠ পর্যায়ের খবরাখবর প্রতিনিয়ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রেমিকের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এই অভিনেত্রীরা

বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের মধ্যে প্রেম বা বিয়ে নতুন ...

এবার ‘পেন ফ্রেন্ড’ নামে একক নাটকে জুটি বাঁধলেন নিলয়-মম

বিনোদন ডেস্ক : জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম ও অভিনেতা নিলয় আলমগীর। ...