Home | সারা দেশ | বনখেকো মুচি জসিমের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার কালিয়াকৈরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন

বনখেকো মুচি জসিমের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার কালিয়াকৈরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন

হুমায়ুনকবির,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি।গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ জোড়াপাম্প এলাকার বনখেকো ত্রাস কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী জসিম উদ্দিন ইকবাল বন্ধুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের ঘটনার খবরে স্থানীয় লোকজন চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরন করেছে। দুটি মামলার সাজা প্রাপ্ত এবং ১৬ মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াতো কুখ্যাত সন্ত্রাসী জসিম উদ্দিন । জেলার কাপাসিয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মুচি জসিম(৩৬)নিহত হয়েছে।শুক্রবার ভোরে উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের ভূলেশ^র গ্রামের নেতার টেক নামক স্থানে গজারী বন থেকে একটি বিদেশী পিস্তলসহ কাপাসিয়া থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। কাপাসিয়ায় থানা সূত্রে জানাযায়,শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে থানার এসআই সুমনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই এলাকায় টহলরত ছিল। হঠাৎ গোলাগুলির শ^ব্দ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাতনামা এক যুবককে একটি পিস্তলসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান চালায়। পরে কাপাসিয়া থানার ওসি (অপারেশন) মনিরুজ্জামান খান ঘটনাস্থল থেকে জসিম উদ্দীনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। মুচি জসিম কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকার কুখ্যাত বনদস্যু এবং সাধারণ মানুষের কাছে আতংক হিসেবে পরিচিত ছিল।
জানা যায়, কিশোর গঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে জসীম উদ্দিন ইকবাল ১৮/২০ বছর আগে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় এসে থাকতেন ভাড়া বাসায়। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম জসীম উদ্দিন ইকবাল। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বনের অনন্ত ৩০০ বিঘা জমি দখল করে ‘গ্রাম’ গড়ে তুলেছেন তিনি। বন বিভাগের দায়ের করা ১৮টি মামলার আসামি তিনি। এর মধ্যে ১৬টির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আর দুটি মামলায় আদালত থেকে সে ছয় মাস করে সাজাপ্রাপ্ত। মাত্র চার-পাঁচ বছরের ব্যবধানে জসীম ইকবাল গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন, গাড়ি,বিশাল মার্কেট। নামে-বেনামে রয়েছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমিও। চন্দ্রার জোড়া পাম্প এলাকায় সরকারি বনের গজারি গাছ কেটে ২৬১ বিঘা জমির বেশিরভাগই জবরদখল করে ‘নতুনপাড়া’ নামে একটি গ্রাম গড়ে তোলা হয়েছে তার দাপটে। অথচ বছর তিন-চার আগেও ওই এলাকা শাল-গজারির গভীর অরণ্যে ঘেরা ছিল। রাতারাতি পুরো বনাঞ্চলকে বিরানভূমিতে পরিণত করেছে মুচি জসিম। গড়ে উঠতে থাকে দু-একটি বসতভিটাও। বন বিভাগের জমিতে গড়ে তোলা নতুনপাড়ায় অলিখিতভাবে জসীম ইকবাল প্লট বিক্রি শুরু করেন। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। অন্তত ৩০০ পরিবারের কাছে এ প্লট বিক্রি করা হয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত।
২০১৫ সালের ২১ আগস্ট চন্দ্রায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলামকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। আর এ হত্যার ঘটনায় কপাল খোলে জসীমের। রফিকুল হত্যার আসামিদের ধরিয়ে দিতে থানা পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে পুলিশের বিশ্বস্ততা অর্জনের সুযোগে হত্যা মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে ফেলেন। তার সহযোগিতায় কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে। এরপরই জসীমের শুরু হয় বেপরোয়া জীবন।তার স্বার্থের পরিপন্থী হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর হামলে পড়তেন তিনি। একে একে ১৭টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়া সত্তেও প্রকাশ্যেই তিনি ঘুরে বেড়াতেন।তার কুকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অসংখ্য নিরীহ মানুষ। বাদ যাননি সরকারি কর্মকর্তাও।এরপর দৃষ্টি পড়ে ভাওয়াল গড়ের জমিতে। বড় বড় শাল-গজারি গাছ কেটে দখল করতে থাকেন বিঘার পর বিঘা বনের জমি।অভিযোগ রয়েছে, চন্দ্রা এলাকায় চলাচল করা ৮০০ ইজিবাইক ও অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন জসীম তার লোকজন দিয়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করতো। আর প্রতিটি ইজিবাইক ও অটোরিকশায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার করে টাকা প্রতিমাসে এককালীন তাকে না দিলে সড়কে কোনো গাড়ি উঠতে পারতো না। এ ছাড়াও তার শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন মানুষের জমি দখল ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় সহ বেপরোয়া ভাবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আসছিল।স্থানীয়দের কাছ থেকে যানাযায়,মুচি জসিম নিহত হলেওরয়েগেছে তার শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী ও সহযোগীরা।স্থানীয়দের দাবী মুচি জসিমের শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিণীকে আইনের আওতায় এনে তাদের শাস্তি দেওয়ার। বন বিভাগের চন্দ্রা বিটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মাহমুদুল হক মুরাদ বলেন, জসীম ইকবাল এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু। তার বিরুদ্ধে আদালতে বন বিভাগ ১৮টি মামলা করেছে। সাধারণ মানুষ থানায় জিডি করেছেন আটটি। ১৮টি মামলার মধ্যে ১৬টির গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আর দুটি মামলায় আদালত থেকে ছয় মাস করে সাজা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হাতিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিহত

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, নোয়াখালী : নোয়াখালীর বিছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় যাত্রীবাহী জীপগাড়ি ও ...

পাবনায় সরকারের উন্নয়ন প্রচারে কাজ করছে ‘উন্নয়ন সাফল্য প্রচার মঞ্চে’র এক ঝাঁক তরুণ

আর কে আকাশ, পাবনা প্রতিনিধি: শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও উন্নয়ন ...