ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ের কোয়ার্টার ও বস্তিগুলোতে ইদের আগে মাদকের জমজমাট ব্যবসা

বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ের কোয়ার্টার ও বস্তিগুলোতে ইদের আগে মাদকের জমজমাট ব্যবসা

Liton bogra news (4) 06-10-13শামছুল আলম লিটন ব্যুরো চীফ বগুড়া অফিস : ঈদ সামনে রেখে বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে ব¯িতে  মাদক ব্যবসা বেড়ে গেছে। কিন্তু  পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয় না। এতে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে।

দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে জংশন শহর বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার।  শহরের বিভিন্ন এলাকায় পতিত রয়েছে রেলওয়ের বিপুল জমি ও অব্যবহৃত  শত শত পরিত্যক্ত বাসা। এসব পতিত জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বিশাল বস্তি। আর বস্তি ও অব্যবহৃত বাসা-বাড়ীতে থাকা বাসিন্দাদের অধিকাংশ জড়িত নানা অপরাধ কার্যক্রমের সাথে।  বিশেষ করে ভারতীয় চোরাইপন্য আনা-নেয়া এবং ফেন্সিডিল, হেরোইন ও গাঁজাসহ নানা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এসব বাসিন্দাদের প্রায় ৯০ ভাগই অস্থানীয়। আর এই অস্থানীয়রাই ভয়াবহ এসব মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এদের পরো ও প্রত্যভাবে সহযোগীতা করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী সমাজপতিরা। ফলে এরা সাধারন মানুষের বাদ-প্রতিবাদের তোয়াক্কা করেনা। বরং “পথের কাঁটা” হিসাবে বাদ-প্রতিবাদকারীদেরই নানাভাবে হয়রানি করে থাকে।

সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের সবচেয়ে বড় বস্তি হচ্ছে পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের ইয়ার্ড কলোনী বা তথাকথিত ‘বসুন্ধরা’ বস্তি।

ইর্য়াডকলোনী ছাড়াও সান্তাহারের বিভিন্ন পয়েন্টে হেরোইন ছাড়াও হাত বাড়ালেই মেলে ফেন্সিডিল। সান্তাহারে মাদক ব্যবসায় জড়িত শহিদা বেগম, তাসলি বেগম লাইলি বেগম, পারভীন বেগম, ছালমা বেগম, ঝর্না বেগম, সেলিনা বেগম, মেরিনা , ছোট ঝর্না, মমিন,  জনি, জুম্মন, হাসান, শহিদ, মোহাম্মদ, রওশন , রমজান, সুমন , পাপন ও পাপ্পু সহ প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ ফেন্সিডিল ব্যবসার সাথে জডিত বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এদের মধ্যে বড় ব্যবসায়ী হচ্ছে শহিদা এবং তাসলি। শহিদা প্রতিদিন পাইকারি ও খুচরা মিলে বিক্রি করে ৬ শত বোতল আর তাসলির বিক্রি প্রায় ৪ শত বোতল।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শহিদা এবং তাসলি খুচরা বিক্রি করে বড়জোর ১০ থেকে ২০ বোতল। অবশিষ্টগুলো স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী এবং নওগাঁর নজিপুর সহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করে থাকে। অন্যরা ১০ থেকে ১শত বোতল ফেন্সিডিল বেচা-কেনা করে প্রতিদিন। এ সব মাদক ব্যবসায়ীরা  পুলিশকে নজরানা দিয়ে থাকে। এসব ফেন্সিডিল বিরামপুর, হিলি, বাগজানা, আটাপাড়া, চেঁচড়া ও পাঁচবিবি সীমান্ত দিয়ে মালবাহী ওয়াগন ট্রেন ও যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি বাস-মাইক্রোবাস এবং হাঁটাপথে সান্তাহার নিয়ে আসা হয়।  মজার ব্যাপার হল কাঁচের বোতল ভারী হবার কারনে এবার একই সাইজ ও রংয়ের প্লাষ্টিক বোতলে ফেন্সিডিল ভরে বাজারে ছেড়েছে ফেন্সিডিল উৎপাদনকারীরা। ফলে এখন এক সঙ্গে অনেক বোতল ফেন্সিডিল বহন করা সহজ হয়েছে বলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে।

ফেন্সিডিলের পাশাপাশি গাঁজা ব্যবসাও চলছে পুরোদমে।। এদের ব্যবসা অবাধ রাখতে শহর ও রেল পুলিশকে মাসোহারা দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। এ ছাড়া শহরের ইয়ার্ড কলোনী এবং সুইপার পট্টি সহ শহরে দেশী চোলাই মদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে মহিলা জুয়ারি হিসাবে পরিচিত এক মহিলা। সম্প্রতি লোক দেখানোর নামে তাকে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। সুইপার পট্টিতে অনেকে চোলাই মদ বিক্রির ব্যবসা পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে। এসব মাদক ও নারী ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে শুধু পুলিশ নয়, প্রভাবশালী এবং এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সমাজপতিরাও পেয়ে থাকেন মাসোহারা।

এ ব্যাপারে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ী থেকে জানা গেছে ওইসব ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী নারী-পুরুয়ের ব্যাপারে যতটুকু বলা হচ্ছে তারা তত বড় ব্যবসায়ী নয়। দুই একজন গোপনে গাঁজা বা ফেন্সিডিল বিক্রি করছে। তবে পুলিশ  তাদের আইনের আওতায় আনছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভোগান্তির আর এক নাম লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে ...

উন্নয়নে নৌকার বিকল্প নেই-এমপি মোতাহার

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ উন্নয়নে নৌকার বিকল্প কোন মার্কা নেই উল্লেখ ...