Home | বিবিধ | কৃষি | বগুড়ার গাবতলীতে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে কৃষক

বগুড়ার গাবতলীতে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে কৃষক

মো:শামছুল আলম(লিটন), স্টাফ রিপোর্টার:  রোপা আমন ধান ক্ষেতে ক্ষতিকারক পোকা নিধনে বগুড়া গাবতলীর কৃষকেরা পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে। ফলে কৃষকদের জমিতে বিষের ব্যবহার কমেছে। এ উপজেলার বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে এখন ধান ক্ষেতের সবুজের সমরোহ।

চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানে ক্ষতিকারক পোকা নিধনে বিষের বিকল্প হিসাবে কৃষক ক্ষেতে পার্চিং হিসাবে জীবন্ত ধঞ্চে গাছ, ডালপালা ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ফলে জমিগুলো থাকছে নিরাপদ। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহনের পর সফলতা আসায় ধান ক্ষেতে এসব পদ্ধতি ব্যবহারে ঝুঁকে পড়েছে উপজেলা কৃষকেরা। ধান ক্ষেতের প্রধান শত্র“ ক্যারেন্ট মাজরা পোকা, গান্ধি ও চুঙ্গি পোকাসহ বাদামী ঘাস ফড়িং পোকা নিধনে কৃষকরা এলাকার চাষাবাদ ৮০ ভাগ জমিতে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। পোকা মাকড়ের  মারাত্মক আক্রমনের হাত থেকে এ ২টি পদ্ধতি ব্যবহার করে ধানের ক্ষেতগুলো নিরাপদ রাখা হয়েছে।

গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার স.ম. মেফতাহুল বারী জানান, প্রতিটি আলোক ফাঁদ, জীবন্ত গাছ পার্চিং (ডাল পালা পার্চিং) করে কৃষকরা সফলতা পেয়েছে। এ পদ্ধতি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গাবতলী উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার  মোঃ আব্দুল বাছেদ হোসেন জানান, ধান ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা মারতে কৃষকেরা এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে ভাল ফল পেয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের ধানের সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দিতে চাষী পর্যায়ে নিয়মিত চাষী(কৃষক)সভা, উঠান বৈঠক, মনিটরিং ও মাঠ দিবসসহ সকল তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগীতা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জমিতে পোকা মাকড়ের উপস্থিতি জানার জন্য আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, কৃষকদের মাঝে এসব পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ইতি মধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছে গাবতলীর চাষিরা। গাবতলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা  মোঃ নাজমুল হক মন্ডল জানান, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যেমে কৃষকদের আমরা আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। কৃষক এখন ধানের জন্য উপকারী ও ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় শনাক্ত করতে শিখেছে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে বালাইমুক্ত রাখছে ধান ক্ষেত। স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ তৈরীতে ভূমিকা রাখছে। এ মৌসুমে গাবতলীতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১৬ হাজার ৩শ  হেক্টর জমিতে যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৮শ ৫৯ মেট্টিক টন (চাল)।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আগৈলঝাড়ার গ্রামে গ্রামে এখন আম-লিচুর মুকুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : সারা দেশের প্রকৃতি এখন ছেয়ে ...

রাণীশংকৈল কুলিক নদীতে ধান চাষের মহোৎসব

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈলের ঐতিহ্য রাজা টংকনাথের স্বপ্ন সাগর কুলিক ...