ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেলা

ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেলা

marwan bargoutiইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : মারওয়ান বারগৌতি। ‘ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেলা’ নামেই তিনি এখন বেশি পরিচিত। ফিলিস্তিনের ফাতাহ পার্টির সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল এবং দেশটির পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য এই মারওয়ান বারগৌতি। ১৯৬২ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা ঠিক যেভাবে তার দেশের অত্যাচারী শাসক গোষ্ঠীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, অনেকটা একইভাবে ২০০২ সালে ইসরাইলি সেনাদের হাতে গ্রেপ্তার হন ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক অঙ্গনের তুখোড় নেতা মারওয়ান বারগৌতি। ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া এবং ইসরাইলের জন্য ক্রমেই ‘হুমকি’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার কারণেই মূলত তেলআবিবে রোষের শিকার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বারগৌতি।
শুধু গ্রেপ্তার হওয়া নয়, দক্ষিণ আফিকার অবিংসবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার রোবেন দ্বীপের কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টের সঙ্গেও মিল রয়েছে ইসরাইলি জেলে আটক থাকা বারগৌতির। ইসরাইলের হাতে আটক থাকা প্রায় পাঁচ হাজার ফিলিস্তিনির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানীয় এবং বহুদর্শী এ নেতাকে ইঁদুর-তেলাপোকার সঙ্গেই এখন রাত কাটাতে হয়। আর জানালাবিহীন ওই কক্ষে বাইরের বাতাস আর আলোর দেখা কদাচিৎ মেলে। এর মধ্যে অবশ্য সারাদিনে একঘণ্টা তাকে ব্যায়ামের সুযোগ দেয়া হয়, তাও আবার হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায়। তারপরও মাথা নত করেননি আপসহীন এ নেতা। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি। ২০১৩ সালে ফিলিস্তিনি সংবাদপত্র ‘আল-মনিটর’-এ ইসরাইলের কারাগারে তার জীবনের এসব অপ্রিয় গল্প উঠে আসে।
ফিলিস্তিনিদের হয়ে তার আমৃত্যু লড়ে যাওয়ার এ সংবাদ আল-মনিটরের মাধ্যমে আপামর জনতার কাছে পেঁৗছে যাওয়ার পরই তার মুক্তির সংগ্রামে আবারো জড়ো হতে থাকে সবাই। আর এর সবচেয়ে বড় উদ্যোগটি শুরু হয় আহমেদ ‘কাথারদা ফাউন্ডেশন’র মাধ্যমে। গত ২৭ অক্টোবর থেকে কাথারদা ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে নেলসন ম্যান্ডেলার হাজারো স্মৃতি-বিজড়িত রোবেন দ্বীপ থেকেই শুরু হয়েছে বারগৌতির মুক্তি আন্দোলন। মারওয়ান বারগৌতিসহ সব ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তির প্রচারণা শুরু করে কাথারদা ফাউন্ডেশন। আর এতে পাঁচজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীসহ নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারগৌতির স্ত্রী ফাদওয়া। উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালে এই কাথারদা ফাউন্ডেশনই নেলসন ম্যান্ডেলার মুক্তির দাবিতে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালায়। আর তাদের অব্যাহত প্রচারণার সূত্র ধরেই পরবর্তী সময়ে নেলসন ম্যান্ডেলা রোবেন দ্বীপের অন্ধকার কারা প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্তি পান।
এর আগে ইসরাইলের সঙ্গে হামাসের বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময়ও বারগৌতির মুক্তি দাবি করা হয়। কিন্তু ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সে আবেদন নাকচ করে দেয়। ওই দাবি নাকচ করে দিলেও ফাতাহ পার্টির পাশাপাশি হামাসের পক্ষ থেকেও বারগৌতির মুক্তি দাবি করা হচ্ছে। কারণ মারওয়ান বারগৌতিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি পশ্চিম তীর এবং গাজা ভূখ-কে একীভূত করার কার্যকর পদক্ষেপটি হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইসরাইলি সেনাদের হাতে গ্রেপ্তার হলে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ফলে বিদ্যমান দূরত্ব ভুলে একীভূত হওয়ার আশায় থাকা ফিলিস্তিনের বড় ধরনের ধাক্কা খায়।
কিন্তু মারওয়ান বারগৌতি বেঁচে থাকা অবস্থায় ফিলিস্তিনিদের এ আশার তরী যে ডুবতে দেবেন না, তা একপ্রকার নিশ্চিতই। কেননা কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই তিনি ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ইসরাইলিদের চাপিয়ে দেয়া হত্যা মামলার রায়ে তার যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও চার দেয়ালের এই বন্দিত্বকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে তৃতীয় ইন্তিফাদা বা ফিলিস্তিনি গণমুক্তি আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তিনি। আর অসহিংস উপায়ে তার এ গণমুক্তি আন্দোলনের ডাক ফিলিস্তিনের প্রতিটি নাগরিকের কল্পনার হৃদয়কে ছুঁয়ে যাবে বলেও মনে করেন বারগৌতি। আর তা যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিটি ফিলিস্তিনের চেতনা শক্তিকে পুনরায় জাগ্রত করতে পারে, তাহলে এক দশকের বেশি সময় ধরে কারাগারের প্রকোষ্ঠে থাকা মারওয়ান বারগৌতি মরেও হয়তো সুখ পাবেন। কিন্তু আফ্রিকার গণমানুষের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নামের শেষোক্ত অংশটি যার নামের ওপর স্বতন্ত্র প্রত্যাশার আলো সৃষ্টি করেছে তা যে ভেস্তে যাবে। তাই ফিলিস্তিনের আপামর জনতাও তার আশাকে অকালে ঝরে দিতে চায় না। মারওয়ান বারগৌতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তারা যুগ যুগ ধরেই বাঁচিয়ে রাখতে চায় তাদের ম্যান্ডেলাকে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আক্রান্ত মুসলিম রোজাদারদের পাশে গোলাপ হাতে লন্ডনবাসী

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  লন্ডনের মসজিদে  সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে রোজাদার মুসলমানদের প্রতি সংহতি ...

কাতারের গবাদি পশু নিষিদ্ধ করল সৌদি আরব

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  কাতারিদের মালিকানাধীন সকল উট এবং ভেড়াকে সৌদি আরবের বিভিন্ন ...