Home | ফটো সংবাদ | ফিরোজ রশীদের লাঙ্গল ছাড়া সুব্রতর ধানের শীষের পোস্টার চোখে পড়ে না

ফিরোজ রশীদের লাঙ্গল ছাড়া সুব্রতর ধানের শীষের পোস্টার চোখে পড়ে না

স্টাফ রির্পোটার : রাজধানীর কোতোয়ালি ও সূত্রাপুর এলাকা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসনটিতে এবার অন্য রকম আমেজ এ কারণে যে, সেখানে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বে মহাজোটের হয়ে লড়ছেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী।

ফিরোজ রশীদ এই আসনের সংসদ সদস্য ২০১৪ সাল থেকেই। ফলে তিনি পরিচিত মুখ। তবে সুব্রত স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে সেভাবে পরিচিত নন।

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ফিরোজ রশীদের লাঙ্গল ছাড়া সুব্রতর পক্ষে ধানের শীষের পোস্টার চোখে পড়ে না বললেই চলে। ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার পক্ষে বেশ কিছু পোস্টার চোখে পড়ছে।

ফিরোজ রশীদ ও সুব্রত ছাড়াও ছয়জন প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের ছেলে ববি হাজ্জাজ (হারিকেন), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবু তাহের হোসেন (কাস্তে), জাতীয় পার্টি-জেপির সৈয়দ নাজমুল হুদা (বাইসাইকেল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোয়ার খান (হাতপাখা), গণফ্রন্টের আহমেদ আলী শেখ (মাছ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আক্তার হোসেন (আম)।

পুরান ঢাকার এই আসনে এক সময় সংসদ সদস্য ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর পথ ধরে ১৯৯১ সালে শেখ হাসিনা এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে তাকে হারতে হয়েছিল বিএনপির সাদেক হোসেন খোকার কাছে। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও জেতেন তিনি। তবে ২০০৮ সালে হাতছাড়া হয় খোকার দুর্গ। জেতেন নৌকার প্রার্থী মিজানুর রহমান খান দীপু।

দীপুর মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ছাড়ে জেতেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ।

এখন জাতীয় পার্টিতে থাকলেও রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে আওয়ামী লীগেই ছিলেন এই ফিরোজ রশীদ। ছাত্রলীগ থেকে পুরান ঢাকার তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপিও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

১২ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রচার শুরু করেন ফিরোজ রশীদ। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই লিফলেটসহ পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

লাঙ্গলের প্রার্থী বলেন, ‘এই সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ের কারণে মানুষের ব্যাপক সাড়া আছে। এখানে নৌকা-লাঙ্গল এক। এবারও লাঙ্গলের জয় হবে।’

সুব্রত চৌধুরী সেভাবে প্রচারে নেই। একাধিক দিন তার ওপর হামলার অভিযোগও করেছেন তিনি। বলেন, ‘আমার পোস্টার লাগাতে দিচ্ছে না। প্রচারণায় বের হলে হামলা করছে। যাদের নিয়ে গণসংযোগ করি তাদের সন্ধ্যায় পর গ্রেপ্তার করে ফেলছে। নির্বাচনের তো কোনো পরিবেশই নেই।’

সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাকিম বলেন, ‘এখনো এলাকায় নির্বাচনের কোনো আমেজ সৃষ্টি হয়নি। শুধু লাঙ্গল মার্কাই প্রচার শুরু করেছে। অন্য কোনো দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতেই পারছে না।’

উত্তরে গেন্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা  বেগম সুফিয়া বিএনপির ভক্ত। তিনি বিশ্বাস করেন জিতবে ধানের শীষ। তাদের প্রার্থী পরিচিত নন, তবে কীভাবে জিতবেন?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বলেন, মানুষ এখন প্রার্থী দেখে না, দেখে প্রতীক। আর প্রতীক হিসেবে সারাদেশে ধানের শীষ ও নৌকাই রয়েছে। অন্যান্য প্রতীক ও প্রার্থী কোনোটাই মানুষের কাছে পরিচিত না। তাই তাদের সম্ভাবনাও নেই।’

ওয়ারীর বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদ অবশ্য সেখানে মহাজোটের প্রার্থীর নিশ্চিত জয় দেখছেন। কারণ, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরে এই আসনে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে এবং এখনও চলছে, তাতে এলাকাবাসী অন্য কাউকে ভোট দেবে না। আর উন্নয়নের জন্যই মহাজোটের জয় নিশ্চিত।’

দেশের মানুষ যেন বিএনপি জামায়াতকে সরকার গঠন করতে না দেয় এবং নৌকার পক্ষে কাজ করে- এই আহ্বানও জানিয়েছেন হুমায়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

লালমনিরহাটে অটোরিক্সা ছিনতাইচক্রের ১১ সদস্য আটক

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটে ছিনতাই করা অটোরিক্সা বিক্রি করার সময় ছিনতাই চক্রের ...

ইউপিডিএফ-এর বিবৃতি বাঘাইছড়িতে নির্বাচন পরিচালনাকারী টিমের ওপর হামলার নিন্দা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বাঘাইছড়িতে নির্বাচন পরিচালনাকারী টিমের ওপর হামলার ...