ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | ফরিদপুরে নদী দখলবাজরা বেপরোয়া।

ফরিদপুরে নদী দখলবাজরা বেপরোয়া।

ইকবাল মাহমুদ (হিরু), ফরিদপুর প্রতিনিধি, ২২ মার্চ, বিডিটুডে ২৪ডটকম : ফরিদপুর শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদের উভয় পাড়ে দখলের মহোৎসব চলছে। ক্ষমতাসীন দলের লেবেল লাগিয়ে চলছে এ দখল প্রক্রিয়া। গত কয়েক মাস ধরে শহরের কুমার নদের অম্বিকাপুর রেলব্রীজ থেকে শুরু করে চরকমলাপুর ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দখল প্রক্রিয়া চলে আসছে। তবে কুমার নদ দখল বেশী হচ্ছে শহরের আলীপুর ব্রীজ থেকে শুরু করে আলীমুজ্জামান বেইলী ব্রীজের দুপাশে। নদের পাড় দখল ছাড়ার মূল নদের মধ্যেই আরসিসি পিলার, সিমেন্ট ও বাঁশের খুঁটি গেড়ে কাঠের পাটাতন ও টিনের চাল দিয়ে বানানো হচ্ছে বড় বড় দোকান ঘর। নদীর পাড় দখল করে দোকান ঘর তৈরী করলেও রহস্যজনক কারনে নির্বিকার রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এমন অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে বড় ধরনের একটি দোকান নির্মান চলছে। দোকান ঘরটির কাজ প্রায় শেষের পথে। ঘরটি নির্মান করছেন বাজারের ব্যবসায়ী জামাল মিয়া। বাজারের পূর্বপাশে আরেকটি দোকান নির্মান করছেন আলীপুর এলাকার আলমগীর হোসেন। এছাড়া নদের পাড় দখল করে আরো ৪/৫টি দোকান ঘর নির্মানের চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখা ময়রাপট্রির বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের দোকান ঘর বাড়িয়ে মধ্য নদী পর্যন্ত দখল করছেন। হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, দিনের পর দিন নদের পাড় দখল করে কিছু অসাধু ব্যক্তি দোকান-ঘর নির্মান করে ব্যবসা করছেন। যারা দোকান ঘর তুলছেন তারা বেশ ক্ষমতাবান। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকার কারনে প্রশাসন থেকে তাদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম জানান, জামাল মিয়া যখন কুমার নদের মধ্য পর্যন্ত দোকান ঘর তুলতে শুরু করে তখন থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। তাকে ডেকে কাজ করতে নিষেধ করলে সে জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে লিজ নিয়ে দোকান ঘর তুলছেন। ফলে তাকে আর বাঁধা দেয়া হয়নি। জামাল মিয়া দাবি করেন, দুই বছর আগে তিনি পাউবো’র কাছ থেকে ১হাজার ২শ বর্গ ফুট জায়গা লিজ নিয়েছেন। তবে তিনি জানান, লিজ নেয়া জায়গার চেয়ে বেশী জায়গা তিনি দখল করেছেন। আরেক দখলদার আলমগীর জানান, আমরা কয়েকজন বেকার মিলে একটি সমিতি করি। সেই সমিতির সদস্যরা মিলে একটি খাবার হোটেল দেবার জন্যই ঘরটি নির্মান করা হয়েছে। তবে তিনি কারো কোন অনুমতি নেননি বলে জানান। কুমার নদের পাড় দখল করে দোকন-ঘর নির্মানই নয়, অনেক স্থানে পাড় দখল করে নির্মান করা হচ্ছে পাকা বসত ঘরও। অম্বিকাপুর রেলব্রীজের কাছ থেকে শুরু করে চরকমলাপুর ঘাট পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জায়গায় তৈরী করা হয়েছে পাকা ইমারত। পাউবো’র অনুমতি বিহীন এসব পাকা ঘর তৈরী করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। নদের পাড় দখল করা জনৈক ব্যক্তি নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের বাড়ী নদীর পাড়ে। নদী ভাঙ্গনের কারনে বেশ কয়েক বছর আগে বেশকিছু জমি চলে গেছে নদীতে। এখন নদী শুকিয়ে যাবার কারনে আমরা জায়গা ফিরে পেয়েছি। এখন অনেকেই ভাবছেন আমরা নদী দখল করে বাড়ী নির্মান করছি। কুমার নদ দখল করে স্থাপনা নির্মানের বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন সরকার জানান, শহরের মধ্যে কুমার নদের জায়গা কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি। অনেকেই জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মান করে নদের ক্ষতিসাধন করছেন। এ ব্যাপারে গত এক সপ্তাহে দু জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে শিঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

x

Check Also

নারী হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হজরত মুহম্মদ (স.)-ই আমার অনুপ্রেরণা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: নারী হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হজরত মুহম্মদ (স.)-ই আমার অনুপ্রেরণা ...

শান্তিচুক্তি মেনে চলার কোনো আগ্রহ নেই তালেবানের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: আফগানিস্তানে প্রায় ১৯ বছর যুদ্ধের পর সম্প্রতি তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের ...