Home | ব্রেকিং নিউজ | ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু

ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু

সুমন কর্মকার : বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার কারনে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর বিচারের দাবীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ইজিবাইক পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মজনু শেখ, মোঃ আসাদুজ্জামান, ইজিবাইক চালক ওহিদুল ইসলাম, সুমন শেখ, আলমগীর, সাগর, শহিদুল, টিপু সুলতান প্রমূখ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার আট্টাকী গ্রামের ইজিবাইক চালক মাসুম মোল্লার স্ত্রী বিউটি বেগমের (ডিএইচএস অন্তর্ভুক্ত কার্ডধারী) প্রসবকালীন বেদনা শুরু হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরের দিন অর্থাৎ গত বুধবার (২০ জুন) সকালে সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন এবং কিছু সময় পর বাচ্চাটি মারা যায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার কারনে শিশুটি মারা গেছে। তবে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে অবহেলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফেরদৌসী আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতে হাসপাতালের কোন চিকিৎসক বা নার্সদের কোন প্রকার অবহেলা নাই। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বুধবার (২০ জুন) সকালে সে একটি মৃত পুত্র সন্তান প্রসব করেন।

এর আগে গত ১১ মে (শুক্রবার) চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার কারনে উপজেলার লালচন্দ্রপুর গ্রামের শিশির দাশের স্ত্রী যমুনা রানী মৃত সন্তান প্রসব করেন বলে অভিযোগ উঠে। যদিও তারা হাসপাতালে সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হলে সেখানকার চিকিৎসকরা যমুনা রানীকে বাঁচাতে পারলেও শিশুটিকে বাঁচাতে পারেনি।

উল্লেখ, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১১ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উন্নীত করা হলেও চাহিদা অনুযায়ী জনবল, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জন সাধারন।

এছাড়া কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা, স্বজনপ্রীতি, সময় মতো ডাক্তার না থাকা, ঔষধ বিতরণে অনিয়ম, রোগীদের সঙ্গে নার্সদের দুর্ব্যবহার, জনবল সংকট, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহসহ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম অচল থাকায় চরম অব্যাবস্থাপনার মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির কার্যক্রম চলছে। কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

অপরদিকে, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একাধিক সূত্রে অভিযোগ করেছেন। রোগী দেখার সময় চিকিৎসকদের পাশে প্রায় সর্বক্ষনিকভাবে ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রিপ্রেজেনেটটিভ দাঁড়িয়ে থাকেন। ডাক্তার দেখিয়ে রোগী বাইরে আসলে একত্রে ৫/৬ জন রিপ্রেজেনেটটিভ হুমড়ি খেয়ে পড়ে রোগীর নিকট থাকা প্রেসক্রিপসন দেখার জন্য। রোগীদের নিকট থেকে প্রেসক্রিপসন নিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে তারপর তাদের ছাড়া হয়ে থাকে। এতে পুরুষ-মহিলা রোগীরা অত্যান্ত বিরোক্তবোধ করে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঘূর্ণিঝড় গাজার তাণ্ডবে ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের তামিলনাড়ু উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় গাজার তাণ্ডবে অন্তত ...

সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ৩০

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায়দূর্গা পূজায় গ্রামের পূজা মন্ডপে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র ...