Home | বিবিধ | কৃষি | ফকিরহাটে বোরো ধান চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভবনা

ফকিরহাটে বোরো ধান চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভবনা

সুমন কর্মকার, বাগেরহাট // বাগেরহাটের ফকিরহাটে চলতি বোরো আবাদ মৌসুমে এবার বাম্পাার ফলনের আশা করছেন চাষীরা। এবার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে দুইশত হেক্টরের অধিক জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সার্বিক সহযোগীতা ও স্থানীয় কৃষকদের একান্ত প্রচেষ্টায় ভাল ফলন দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ফকিরহাট উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ৮৬০০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ৫৯১০ হেক্টর এবং উপসী জাতের ২৬৯০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে । গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ২০০ হেক্টরের অধিক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে অধিক। গত ২০১৬ অর্থ বছরে বোরো ধানের আবাদ ছিলো ৮০২০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ৩০২০ হেক্টর এবং উপশী জাতের ৫০০০ হেক্টর। গত ২০১৭অর্থ বছরে বোরো ধানের আবাদ ছিলো ৮৪০০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রীড ৪৫০০ হেক্টর এবং উপশী ৩৯০০ হেক্টর। গড় হিসাবে গত ২০১৭ অর্থ বছরের তুলনায় চলতি ২০১৮অর্থ বছরে ২০০ হেক্টরের অধিক জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।
ফকিরহাট ইউনিয়নে মোট ১২৩৫হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। তার মধ্যে উপসী জাতের ৪৭৫হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ৭৫০হেক্টর। মুলঘর ইউনিয়নে মোট ৮১৫হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উপসী জাতের ২০৫হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ৬২০হেক্টর। নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নে মোট ৯৮০হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উপসী জাতের ৩৫৫হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ৬২৫হেক্টর। বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নে মোট ১০৩৫হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। তার মধ্যে উপসী জাতের ৩৫৫হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ৫৭০হেক্টর।বেতাগা ইউনিয়নে মোট ১০২০হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উপসী জাতের ৩২০হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ৭০০হেক্টর। শুভদিয়া ইউনিয়নে মোট ১৩০৫হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উপসী জাতের ৩৫৫হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ৯৫০হেক্টর। পিলজংগ ইউনিয়নে মোট ১০৫৫হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উপসী জাতের ৪৪০হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ৮১৫হেক্টর। লখপুর ইউনিয়নে মোট ৯৫৫হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উপসী জাতের ১৮৫হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের ৭৭০হেক্টর।
কৃষকদের সঙ্গে আলাপ কালে তারা জানান, এবার কৃষি অফিস সময়মত স্থানীয় সকল কৃষকদের বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষন ও তদারকি করার কারনে আমরা উৎসাহীত হয়েছি। সময়মত উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষন প্রদান করেন। এছাড়া চাষের পদ্ধতি (পার্চিং) ডাল পোতা আলোক ফাঁদ, সময়মত সার বীজ প্রাপ্তি, সেচের ব্যাবস্থা গ্রহন করা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাঠে গিয়ে হাতে কলমে কাজ দেখিয়ে দেওয়ায় ভাল ফলনের সম্ভবনা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোতাহার হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, অত্র উপজেলার কৃষক-কৃষানীরা আগের তুলনায় অনেক সচেতন। তারা তাদের জমিতে তাদের বপনকৃত ফসলের কোন সমস্যা দেখা দিলে তারা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কাছে ছুটে আসেন। আমরা তাদেরকে নানা প্রকার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়া আমাদের উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের কে কৃষকদের সমস্যা সমূহ চিহিৃত করার জন্য জমিতে পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করি। যে কারনে তারা উৎসাহী হয়ে পতিত জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন কৃষকেরা। তারই ধারাবাহিকতায়, এ বছর অত্র উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ভাল ফলন দেখা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাগেরহাটে মেয়ে হত্যা মামালায় সৎবাবার মৃত্যুদন্ড

সুমন কর্মকার : বাগেরহাটে মৌমিতা আক্তার মায়া নামের তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার ...

তুরুস্কের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক  :  তুরস্কে দুই বছর ধরে জারি থাকা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার ...