ব্রেকিং নিউজ
Home | সারা দেশ | ফকিরহাটে খেজুর রস আহরণে গাছিদের তোড়জোড়

ফকিরহাটে খেজুর রস আহরণে গাছিদের তোড়জোড়

সুুমন কর্মকার, বাগেরহাট ঃ হেমন্তের বিদায়ক্ষণে শীত বরণের প্রস্তুতি চলছে প্রকৃতিতে। শীতও যেন প্রস্তুত সবাইকে ‘হিম’ চাদরে জড়িয়ে নিতে। ভোরের ‘শীত শীত’ আবহাওয়া ও বিকেলের ঝিরঝির ঠান্ডা বাতাস এ ইঙ্গিতই দিচ্ছে আমাদের। টানা বর্ষণের বিরক্তিতে জনজীবন যেন মুখিয়ে ছিল শীতের অপেক্ষায়। কার্তিকের মাঝামাঝি হেমন্তের ঝিরিঝিরি বৃষ্টিই অবশেষে ডেকে আনলো শীতলতা। এই শীতের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে খেজুর রসের। বৈচিত্রপূর্ণ ষড় ঋতুর দেশে হেমন্তকালেই শুরু হয় গাছিদের তোড়জোড়। রস আহরণে ব্যাস্ত হয়ে ওঠেন তারা। ইতোমধ্যেই গ্রামাঞ্চলে গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস নামানোর কাজে নেমে পড়েছেন। বর্তমানে এ পেশায় নির্ভরশীল অনেকেই। ব্যাপক পরিসরে না হলেও প্রত্যেক বছরের শীত মৌসুমেই দেখা মেলে এই খেজুর রসের।
সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের শুরুতেই বাগেরহাটে ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছিদের তোড়জোড়। শিশির ভেজা ঘাসের আইল মাড়িয়ে চলেছে গাছি। গন্তব্য, খেজুর গাছ থেকে রসের পাত্র নামানো। সেই রস জ্বালিয়ে হবে বিভিন্ন রকমের গুড়। তৈরি হবে হরেক রকমের পিঠা-পুলি, পায়েস সহ নানা রকমের সুস্বাদু-লোভনীয় খাবার। রস সংগ্রহ করতে হলে গাছিরা প্রথমে গাছের মাথা থেকে ডালপালা কেটে পরিষ্কার করে নেন। পরে নির্দিষ্ট স্থান হালকা করে কয়েকদিন পরপর কেটে পরিষ্কার করেন তারা। এ কাজে গাছিরা ছ্যান (স্থানীয় ভাষায়) নামের ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে খেজুর গাছের সঙ্গে নিজেদের শক্তভাবে দড়ি দিয়ে বেঁধে নেন তারা। তাদের সঙ্গে থাকে বাঁশের তৈরি পাত্র। যার ভেতর থাকে গাছ পরিষ্কার করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। গাছ তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর থেকেই মূলত রস নামানোর পর্বটা শুরু হয়। গাছের মাথার নির্দিষ্ট স্থানে বাঁশের বানানো দু’টি চোখা খুঁটি পোতা হয়। সঙ্গে দড়ি বা সুতা বেঁধে মাটির পাত্র ঝুলে দেওয়া হয়। পাত্রের ভেতর রস পড়ার জন্য বাঁশের তৈরি নালার মত ভিন্ন একটি খুঁটি পুতে দেওয়া হয় সেই গাছের মাথায়। এভাবেই গাছির নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে সুস্বাদু পানীয় খেজুর রস। উপজেলার রাখালগাছি গ্রামের গাছি মোঃ আবদুল মজিদ, আট্টাকি গ্রামের গাছি তৈয়বুর রহমান জানান, গাছের মাথা হালকাভাবে ছেটে দিয়ে প্রতিদিন বিকেলে নির্ধারিত স্থানে মাটির পাত্র ঝুলিয়ে দেয়া হয়। পরদিন ভোরে গাছ থেকে পাত্র নামিয়ে আনা হয়। প্রতি গাছ থেকে সপ্তাহে ২-৩দিন পরপর রস সংগ্রহ করা হয়। এতে বেশি পরিমাণ রস পাওয়া যায়। নভেম্বর থেকে শুরু করে মোটামুটি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রস সংগ্রহ করা যায়। তারা আরো জানান, শুনেছি বাণিজ্যিকভাবে কেউ খেজুর গাছ লাগায় না। প্রাকৃতিকভাবেই এসব খেজুর গাছ জন্ম নিয়েছে। পতিত জমি, ভিটা, জমির আইলসহ বিভিন্ন স্থানে এসব খেজুর গাছের দেখা মেলে। একটি সময় বাগেরহাট জেলায় বিপুল সংখ্যক খেজুর গাছ ছিলো। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে মানুষ খেজুর গাছ কেটে ফেলায় বর্তমানে গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এতে আবহমান গ্রাম বাংলার খেজুর রসের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাগেরহাটে মৎস্য কর্মকর্তার উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্ত করণ

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরের উদ্যেগে উন্মুক্ত জলাশয়ে ...

গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে  ইয়াছিন (২৮) এক যুবক ...