Home | অর্থনীতি | প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ছাড়াই গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র!

প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ছাড়াই গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র!

power plantস্টাফ রিপোর্টার : গ্যাস প্রাপ্তির নিশ্চয়তা ছাড়াই গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে একের পর এক চুক্তি করে যাচ্ছে সরকার।

গত সপ্তাহে জাঙ্গালিয়া ৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করা হয়েছে গ্যাসের নিশ্চয়তা ছাড়াই। জাঙ্গালিয়া ছাড়া আরো সাতটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কেন্দ্রেই গ্যাস দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়নি পেট্রোবাংলা। এ অবস্থায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে পেট্রোবাংলা ও পিডিবির মধ্যে বিরোধ বাড়ছে।

১ হাজার ৬০৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই আট কেন্দ্রের মধ্যে আছে ১৯৫ মেগাওয়াটের আশুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট, ২০০ মেগাওয়াট কড্ডা দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ১৬৩ মেগাওয়াট ফেঞ্চুগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, ১৬০ মেগাওয়াট কেরানীগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র, ৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট জাঙ্গালিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, ১৫০ মেগাওয়াট কড্ডা দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ৩০০ মেগাওয়াট শাহজিবাজার এবং ৩০০-৪৫০ মেগাওয়াট ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই আট কেন্দ্র স্থাপনে প্রায় ২৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বলেন, পিডিবির পক্ষ থেকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করার আগে পেট্রোবাংলার কাছ থেকে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু তারা অনেক সময় তা না করে চুক্তি করার পর একের পর এক চিঠি দিতে থাকে গ্যাসের নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে তার পুরোটা তো বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ ছাড়াও বহু খাত আছে যেসব খাতে গ্যাস সরবরাহ জরুরি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, মন্ত্রিসভা কমিটিও পেট্রোবাংলার গ্যাসের নিশ্চয়তা ছাড়া একের পর এক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। চুক্তি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো কোনো সময় চুক্তিতেই বলা হচ্ছে, গ্যাস দিতে না পারলে পেট্রোবাংলাকে জরিমানা দিতে হবে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, চুক্তি করার আগে পেট্রোবাংলার অনুমোদন না নিয়ে এখন বলছে জরিমানা দিতে হবে এটা তো কোনো নিয়ম হতে পারে না। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের পক্ষে যতখানি সম্ভব ততটুকু গ্যাস আমরা সরবরাহ করছি। এবং বিদ্যুৎখাতকে অগ্রাধিকার দিয়েই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের মধ্যে ৩ হাজার ২৮৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১১টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সরকার।
বর্তমানে ৫১টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্রের সবটাতে গ্যাস সরবরাহ করতে হলে সেখানে মোট ১ হাজার ৩৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে ৭৭৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বিদ্যুৎ খাতের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানায় চাহিদা ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ২১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এছাড়া অন্য খাতগুলোতেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

নতুন কোনো ক্ষেত্র থেকে যদি গ্যাসের সরবরাহ না বাড়ে তাহলে আগামী বছরগুলোতে গ্যাস ঘাটতি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় একের পর এক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করা দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাত নিয়ে যে পরিমাণ কাজের ফিরিস্তি দেয়া হচ্ছে জ্বালানি খাত নিয়ে তাদের সেই নমুনাও নেই। সামগ্রিক জ্বালানি খাত নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে দেশের জ্বালানি সংকট দীর্ঘমেয়াদি হবে এটাই স্বাভাবিক। একদিকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়েনি। কিন্তু একের পর এক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কয়লা বা অন্য বিকল্প জ্বালানির বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা অন্তঃসারশূন্য। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে জ্বালানি খাতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেরও ব্যবস্থা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া খনি’র কয়লা উধাও ঘটনা ধামাচাপা !

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লা উধাও এর ঘটনা ...

দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া খনি’র কয়লা উধাও ঘটনা ধামাচাপা !

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লা উধাও এর ঘটনা ধামাচাপা ...