ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | পুলিশের মারমুখী পদক্ষেপে হংকংয়ে বিক্ষোভকারীরাও ক্রমে সহিংস হয়ে উঠেছেন

পুলিশের মারমুখী পদক্ষেপে হংকংয়ে বিক্ষোভকারীরাও ক্রমে সহিংস হয়ে উঠেছেন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :তিন মাস ধরে চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে বিক্ষোভ করছেন তরুণ–যুবারা। শুরুর দিকে শহর কর্তৃপক্ষকে বিক্ষোভকারীরা সতর্ক করেছিলেন, ‘আমরা জ্বললে, আমাদের সঙ্গে জ্বলবেন আপনারাও’। এখন দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের সতর্কবাণীই সঠিক প্রমাণিত হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের মারমুখী পদক্ষেপের জবাবে বিক্ষোভকারীরাও ক্রমে সহিংস হয়ে উঠেছেন। হংকং হয়ে উঠেছে একটি বিস্ফোরকের বাক্স, আর আগুন লাগানোর ম্যাচটা তার সরকারের হাতে। ফলে কোনো ভুল পদক্ষেপে গোটা শহরই ‘পুড়ে ছাই’ হয়ে যেতে পারে।

এই আগুনে পোড়ার হুমকিটাই গত শনিবার হংকংয়ের জন্য অনেক বেশি বাস্তব বলে মনে হচ্ছিল। ওই দিন বিক্ষোভকারীরা সড়কের জায়গায় জায়গায় অগ্নিসংযোগ করেন। এর আগে হংকংয়ের আইনসভার বাইরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পেট্রলবোমা ও ইটপাটকেল ছোড়েন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ।

রোববার হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক এবং গণপরিবহন বন্ধ করে দেন হাজারো বিক্ষোভকারী। এ ছাড়া বিক্ষোভের কারণে বিমানবন্দরের সংযোগ ট্রেন বন্ধ রাখা হয়। সহিংসতা ক্রমে বেড়ে চললেও চীনপন্থী হংকংয়ের নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর কোনোটি নিয়েই তারা আলোচনায় বসবে না। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সরকারের এ বার্তার অর্থ পরিষ্কার। এক. বিক্ষোভকারীদের খালি হাতে ফিরে যেতে হবে। দুই. ব্যাপক দমনপীড়নের মুখে পড়তে হবে তাঁদের, যার চরম রূপ হতে পারে চীনের সেনাবাহিনীকে এই বিক্ষোভ দমনে ব্যবহার করার মাধ্যমে।

আগের দিন শুক্রবার, কয়েকজন নেতৃস্থানীয় গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারী ও রাজনীতিবিদকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়। বিক্ষোভ আয়োজনকারী সংগঠন সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্টের (সিএইচআরএফ) গণবিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে পুলিশ। শনিবার ‘আমব্রেলা মুভমেন্টের’ পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। ঠিক এ সময়ে এসে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের কৌশল আগের তুলনায় লক্ষণীয়ভবে কঠোর ও নিষ্ঠুর হতে দেখা যায়। এদিন জলকামান থেকে নীল রঙের পানি ছিটানো হয়, যাতে সহজেই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের পাকড়াও করা যায়।

গত বৃহস্পতিবার চীন ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব’ রক্ষায় হংকংয়ে সামরিক বাহিনীর নতুন একটি দল পাঠিয়েছে।

 চলমান পরিস্থিতিতে গত রোববার হংকং কনফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে ধর্মঘটের ডাক দেয়। চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ে আসামি প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। রোববার হংকং বিমানবন্দরে ঘটা বিশৃঙ্খলার পর, এর কাছাকাছি এক গ্রাফিতি বা দেয়াললিখনটা ছিল এমন, ‘আমাকে স্বাধীনতা দাও, নতুবা দাও মৃত্যু’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের খাবারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি

ক্রীড়া ডেস্ক : ফিটনেসে জোর দিতে হবে। তাই পাকিস্তানের কোচ হয়ে এসে ...

এবারও নেতানিয়াহুর পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল এখনো প্রকাশিত না হলেও সমীক্ষা অনুযায়ী ...