Home | বিবিধ | কৃষি | পানের মূল্য সর্বকালের সেরা রেকর্ড, প্রতি পিসের মূল্য প্রায় পাঁচ টাকা

পানের মূল্য সর্বকালের সেরা রেকর্ড, প্রতি পিসের মূল্য প্রায় পাঁচ টাকা

সুমন কর্মকার, বাগেরহাট…

যে কোন অনুষ্ঠানে পান ছাড়া আতিথেয়তায় পূর্ণতা পায় না। ঝাল আর মিষ্টির মিশ্রণের কারণে দেশজুড়ে পরিচিত রয়েছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের পানের। তবে গত দুই মাস ধরে পানের মোকামগুলোতে পাইকারি দামে সর্বকালের সেরা রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে একটি পানই কিনতে হচ্ছে প্রায় ৫টাকায়। যা খিলি পানের দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২টাকায়।
পাইকারি পান বিক্রেতারা বলছেন, শৈত্য প্রবাহ ও বৃষ্টির পানি না সরতে পারায় এ বছর পানের ফলনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পানের যোগান কম থাকায় পানের বাজারের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ বছর পানের দাম নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
উপজেলার নওয়াপাড়া মোকামের পাইকারী পান ব্যবসায়ীরা এ প্রতিবেদককে জানান, ভালোমানের পানের প্রতি গাদি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৮হাজার টাকা, যা আগে ছিল ২২হাজার টাকা। মাঝারি মানের প্রতি গাদি পান বিক্রি হচ্ছে ২৪হাজার টাকায়, যা আগে ছিল ১৩হাজার টাকা ও ছোট পানের প্রতি গাদি বিক্রি হচ্ছে ৬হাজার টাকা, যা আগে ছিল মাত্র ১৬শ’ টাকা। হিসাব অনুযায়ী প্রতি ৮০ পিস পানে এক বিড়া আর প্রতি ৮০ বিড়ায় এক গাদি পান হয়।
উপজেলার উল্লেখযোগ্য পানের মোকামের সর্বশেষ খুচরা বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, ভালোমানের পানের প্রতিবিড়া বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, যা আগে ছিল ১২৫ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি মানের প্রতিবিড়া পান বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, যা আগে ছিল ১৪০ টাকা ও ছোট আকারের পানের প্রতিবিড়া বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যা আগে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা করে।
উপজেলার স্থানীয় পান চাষি সাধন সরকার, মিরাজুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল জলিল এ প্রতিবেদককে জানান, গত বছর বৃষ্টির পানি সরতে না পারায় এ অঞ্চলের পানের বরাজে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া শৈত্যপ্রবাহ ও প্রচন্ড কুয়াশার কারনে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। উপজেলায় পান বরাজের প্রায় অর্ধেক ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে যেসব চাষি বিভিন্ন ভাবে কিছু পান বাঁচাতে পেরেছেন তারাই এখন পান বাজারে আনছেন। এই পান চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে বাজারে পানের দাম আকাশ ছোয়া। তারা আরও জানায়, এত দামে পান আগে কখনও বিক্রি হয়নি। ফলন নষ্ট হওয়ায় আগের তুলনায় পানের আমদানি অনেক কম হচ্ছে। এ অবস্থা আরও দুই মাস চলবে।
এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ বলছে, এ উপজেলার নদী-নালাতে পলি জমে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি সরতে না পারায় প্রায় ১২০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণেই পানের দাম বাড়তি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোতাহার হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, এ উপজেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়ে থাকে। তার মধ্যে নদী-নালাতে পলি জমে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি সরতে না পারায় প্রায় ১২০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া শৈত্যপ্রবাহে কিছু পান ঝরে গেছে। তারপরও ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ফকিরহাটে ৪শ’ টাকা কেজিতে  বিক্রি হচ্ছে ফাতেমা ধান”

সুমন কর্মকার,  বাগেরহাট : বাগেরহাটের ফকিরহাটে ফাতেমা জাতের প্রতি কেজি ধান বিক্রি ...

টুঙ্গিপাড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চীনা বাদাম চাষ

সজল সরকার, টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) // গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চীনা বাদাম ...