ব্রেকিং নিউজ
Home | জাতীয় | পাট খাতের উন্নয়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না; পাট প্রতিমন্ত্রী

পাট খাতের উন্নয়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না; পাট প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় পাট দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ‘নালিশ’ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। পাট খাতের উন্নয়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না জানিয়ে সরকার প্রধানের নির্দেশনাও চান প্রতিমন্ত্রী।

পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে দুই বছর ধরে ৬ মার্চকে জাতীয় পাট দিবস ‍হিসেবে পালন করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পাটের বহুমুখী ব্যবহারের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ বর্ণনা করেন। জানান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পাটকে ধ্বংস করেছিল। কিন্তু সেখান থেকে তার সরকার পরিস্থিতির অনেক উন্নতি করেছে। পাঁচটি বন্ধ পাটকল চালু করা হয়েছে, আবার পাটের বহুমুখী ব্যবহারের সুযোগও সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেয়ার আগে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। আগের দিন রাজধানীতেই এক অনুষ্ঠানে তিনি পাটখাতের ‍উন্নয়নের বাধা হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আজকের বক্তব্যেও তার রেশ রয়ে গেছে, যদিও তিনি ‍মুহিতের নাম উল্লেখ করেননি।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন বিজেএমসির ভূমিকা বর্ণনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্থাটি লোকসান দেয়-এমন যুক্তি দেখিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সংস্থাটি বন্ধের ‘ফতোয়া’ আসে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসে বিজেএমসি বন্ধ করার জন্য। বিজেএমসি যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কৃষক যে উৎসাহী হয়ে পাটচাষ করছে; সম্পূর্ণ সেক্টরটা যদি বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করে তাহলে দেখা যাবে সিন্ডিকেট করে যখন কৃষকের হাতে পাট থাকবে না। তখন বাজার আর উঠাবে না। কৃষক তার ন্যয্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবে।’

‘বিজেএমসি কিন্তু টোটাল প্রোডাকশনের ৭ থেকে ৮ শতাংশ পাট কেনে। কিন্তু কৃষকের মূল্যের ১০০ শতাংশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিজেএমসি।’

‘সুতরাং বিজেএমসি লোকসান করে, এই অযুহাত দিয়ে অনেক সময় ফতোয়া দেয় আমাদের বন্ধ করে দেয়ার জন্য। এই বন্ধ করলে বাংলাদেশের কৃষক কিন্তু বাঁচবে না।’

প্রধানমন্ত্রীকে মির্জা আজম বলেন, ‘আপনার যে পাটের প্রতি ভালোবাসা এবং পাটপণ্যের বিশ্ববাজার দখল করার জন্য আপনার যে নির্দেশনা, বিজেএমসি বন্ধ করলে সেটা সম্ভব হয় না।’

কৃষকের স্বার্থে বিজেএমসি কী কাজ করে, সেটি বর্ণনা করে মির্জা আজম বলেন, ‘চলতি বছর পাটের বাজার মণপ্রতি ১২০০ টাকা নেমে এসেছিল। তখন বিজেএমসির রেট ছিল ১৭০০ টাকা। উল্টো আমরা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম ১৯০০ টাকা। সঙ্গে সঙ্গে বাজার মূল্য তখন বেড়ে হয়েছিল ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা।’

অর্থ মন্ত্রণালয় পাটকে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা আজম। প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই বছর আগে আপনি এই জায়গায় ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের তালিকায় পাটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যে কারণে আমাদের মধ্যে হতাশা আছে।’

‘প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের তালিকায় যখন অন্তর্ভূক্ত হবে, তখন এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই ব্যাংক থেকে কম ইন্টারেস্টে ঋণ এবং রপ্তানির ইনসেনটিভ সবই নিশ্চিত হবে।’

‘অর্থ মন্ত্রণালয়ে মাছের ক্ষেত্রে ৪০টি পণ্য প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের তালিকায় আছে। কিন্তু পাট প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য না। তারা স্বীকার করে এটা প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য। কিন্তু তালিকাভুক্তি করার ক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতার অভাব আছে।’

‘মাননীয় অর্থ সচিব আজ এখানে উপস্থিত আছেন’- এ কথা বলে মির্জা আজম প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আপনি তাকে আজ নির্দেশনা দিয়ে যাবেন অতি সত্ত্বর যাতে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের তালিকায় পাট যাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলেই দেখা যাবে পাটের যে সোনালী স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব। আপনার পাট নিয়ে যে ভাবনা, আপনার পাট নিয়ে যে স্বপ্ন, সেটি অতি সত্ত্বর আমরা পূরণ করতে পারব।’

বর্তমান সরকারের আমলে পাটখাতের উন্নয়নের বর্ণনাও দেন মির্জা আজম। তিনি বলেন, বিভিন্ন পণ্যে পাটের ব্যবহার বাধ্যমূলক করার পর অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের চাহিদা ২০ শতাংশ বেড়েছে। ভারতে দুই লক্ষ বেল কাঁচাপাট এবং দেড় লক্ষ বেল পাটপণ্য রপ্তানির ধাক্কাও সামলানো গেছে।

২০১৪ সালে দেশে পাটের উৎপাদন ৬৫ লক্ষ বেল থাকলেও সেটি বেড়ে এখন ৯২ লক্ষ বেল হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুমুখী পাটপণ্যের ওপর ২০ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ১৩৫ থেকে বহুমুখী পাটপণ্যের তালিকা বেড়ে হয়েছে ২৪০টি।

সরকার পাটের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান মির্জা আজম। বলেন, ‘বহুমুখী পণ্যের ওপর আমরা জোর দিচ্ছি এ কারণে যে, আমরা এক টন কাঁচাপাট রপ্তানি করে ৫০০ ডলার ইনকাম করি। আর যদি সুতা বা যদি ছালা-বস্তা রপ্তানি করি, তাহলে এক হাজার থেকে ১২০০ ডলার আয় করি। কিন্তু একটন কাঁচাপাট থেকে বহুমুখী পণ্য তৈরি করে যদি রপ্তানি করতে পারি, তাহলে এক টন পাট থেকে তিন হাজার ডলার থেকে ১০ হাজার ডলার ইনকাম করতে পারি।’

‘বাংলাদেশের র মেটিরিয়াল পাট নিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ অত্যাধুনিক বহুমুখী পণ্য তৈরি করে ডলারের পর ডলার ইনকাম করছে। তাহলে সেটা আমি কেন বঞ্চিত হবো।’

‘আমার যত র জুট আছে বাংলাদেশে সেটা দিয়ে আমি যদি ভিসকস তৈরি করতে পারি, যদি পলিথিন ব্যাগ যদি তৈরি করতে পারি, বহুমুখী পণ্য যদি তৈরি করতে পারি, তাহলে সে বহুমুখী পণ্য রপ্তানি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাগাতিপাড়ায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ...

লালমনিরহাটে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ ...