Home | বিনোদন | ঢালিউড | ‘পাগল মানুষ’ ছবির শুটিং দিয়ে আবারো নিজের ঘরে ফিরলেন শাবনূর

‘পাগল মানুষ’ ছবির শুটিং দিয়ে আবারো নিজের ঘরে ফিরলেন শাবনূর

বিনোদন ডেস্ক : সাত সকালেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে আকাশ। তবে এ কান্নার পেছনেও থাকে আনন্দ। সেই আনন্দের খোঁজ করতেই আলোকচিত্রী মাহবুব আলমকে নিয়ে এই প্রতিবেদক হাজির হয়েছিলো এফডিসিতে।
রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির জল মাড়িয়ে যখন এফডিসিতে ঢুকলাম তখন ঘড়ির কাঁটা একটার ঘরে। বলে রাখা ভাল, এফসিডি জায়গাটা অনেকটা পুরাতন বাংলোর মতো। চারপাশে অসংখ্য গাছ আর লতাপাতার মাঝে কয়েকটি হলুদ রঙের দালান ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। শ্যাওলার আস্তরের নিচে চাপা পড়েছে দালানের রঙিন যৌবন। সেখানে একসময় নায়ক নায়িকাদের রঙের আসর বসতো। এখানেই দিনের পর দিন শুটিং করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর।
প্রাণ জুড়োনো হাসি আর মায়া ভরা চোখে অসংখ্য যুবকের ঘুম হারাম করা নায়িকা তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই চেনা জগৎ থকে দূরে। তবু চাইলেই কি দূরে থাকা সম্ভব? শাবনূরের ক্ষেত্রে উত্তরটা হবে ‘না’। কারণ দীর্ঘ বিরতি আর অসংখ্য গুঞ্জনের পর তিনি আবারো ফিরেছেন চলচ্চিত্রে।
২০১১ সালে ‘পাগল মানুষ’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন জনপ্রিয় নায়িকা শাবনুর। কয়েক লটের শুটিংও করেছিলেন। কিন্তু শেষ হইয়াও হইলো না শেষ। মারা গেলেন ছবির পরিচালক এম এম সরকার। মাঝ পথে আটকে থাকা এই ছবির শুটিং দিয়ে আবারো নিজের ঘরে ফিরলেন শাবনূর। এবার পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছেন বদিউল আলম খোকন।
এফডিসিতে ঢুকেই সোজা চলে গেলাম ক্যান্টিনের সামনে। সেখানে অনেক লোকের জটলা। এর মধ্য থেকেই একজনের কাছে জানতে চাইলাম, শাবনূরের শুটিং কোথায় হচ্ছে? উত্তরে বলল, কেন, আপনি বুঝি সাংবাদিক? আমার কাছে থেকে উত্তর পাওয়ার অপেক্ষা না করেই বললেন, ‘এক নম্বর ফ্লোরে শাবনূর আফা শুটিং করতাছে। তয় ভিতরে ঢুকা নিষেধ’।
যাই হোক কথা না বাড়িয়ে এক নম্বর ফ্লোরের সামনে চলে গেলাম। ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে, এক নারী এসে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। অবশেষে ইউনিটের ম্যানেজারের কল্যাণে এ যাত্রায় কাজ উদ্ধার হলো।ফ্লোরের চারপাশের মেঝেতে হলুদ রঙের গাঁদা ফুলের ছড়াছড়ি। মাঝখানে একটি বিছানা। সেখানে আবার অসংখ্য গোলাপের পাঁপড়ি পড়ে রয়েছে। কিন্তু এসবের কিছুতেই চোখ আটকে থাকলো না। কারণ বিছানার উপর তখন শুয়ে আছেন শাবনূর। পাশে নবাগত নায়ক শাহের তার কপালে চুমু দেয়ার চেষ্টা করছেন। হঠাৎ পাশ থেকে পরিচালক চিৎকার করে বললেন, ‘হচ্ছে না, গানের শেষে কপালে চুমু দিতে হবে।
একদিকে চলচ্চিত্রে নবাগত শাহের খান, অন্যদিকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জয়ী নায়িকা শাবনূর। দুজনের বয়সের মধ্যেও রয়েছে পার্থক্য। তারপরও শাহের চাচ্ছিলেন, শাবনূরকে ছাপিয়ে যেতে। কিন্তু এখনও তার অভিনয় দক্ষতার কাছে নাবাগতরা যে নস্যি তার প্রমাণ দিলেন শাবনূর। তাই পরিচালকের চাহিদা মতো অভিনয় শাবনূর অভিনয় দক্ষতা দেখাকে পারলেও, শাহের খান পেরে উঠছিলেন না। চুমু খেতে হল ছয় সাতবার।
যাই হোক আবারো বেজে উঠলো, ‘মেঘ ডাকছে ডাকুক, বৃষ্টি পড়ছে পড়ুক। আজকে না হয় আমার বুকে তুমি থাক’। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ন্যান্সি ও এস আই টুটুল।গানের সঙ্গে সঙ্গে শাবনূরের গায়ে ঝরে পড়তে লাগলো গোলাপের পাঁপড়ি। আর নায়ক তখন নায়িকার কপালে চুম্বনে ব্যস্ত। বেশ কয়েকবার রিটেক করার পর পরিচালক জানালেন চলবে। এবার বিছানা ছেড়ে সোজা মেকআপ কক্ষের দিকে ছুঁটলেন শাবনূর। সঙ্গে সাংবাদিকরাও। সেখানেই তিনি বললেন, ‘সুন্দর একটি গল্পে ছবি ‘পাগল মানুষ’। আবারো এই ছবিতে অভিনয় করতে পারবো তা ভাবিনি। শুরু থেকেই ছবিটির সঙ্গে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত থাকবো। আশা করছি দর্শকরা আমার প্রত্যাবর্তন গ্রহণ করবে।
বাচ্চা হওয়ার পর খুব মুটিয়ে গেছেন শাবনূর। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরেছেন বেশ ক’দিন হল। দেশেই থাকবেন এখন থেকে। সিনেমার দীর্ঘদিনের প্রিয় স্বজনদের সঙ্গে ফের মেলামেশা করছেন তিনি। আবার ফিরবেন চলচ্চিত্রে? এমন প্রশ্নে শুধু রহস্যের হাসিই হেসে যাচ্ছেন। কিন্তু হারানো শাবনূরকে কি আমরা আর ফিরে পাবো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ছাত্রদলের ৭ ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার :  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি ইউনিটের আংশিক কমিটি গঠন করা ...

লাইভ অনুষ্ঠানে সানি লিওনকে শাড়ি পরালেন সালমান

বিনোদন ডেস্ক :  বলিউড তারকা সালমান খানের অনুষ্ঠান ‘বিগ বস’র মাধ্যমেই বলিউডে ...