ব্রেকিং নিউজ
Home | শেয়ার বাজার | পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেনের পরদিন ১৩৪ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)।

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেনের পরদিন ১৩৪ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরুর পর সূচক উঠতে শুরু করে। তবে এরপর কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়।

তবে দশ মিনিট পর সূচক আবার বাড়তে থাকে। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক পৌঁছায় ৪ হাজার ১৩২ পয়েন্টে, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১৯ পয়েন্ট বেশি।

ওই সময় পর্যন্ত হাতবদল হয় প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দাম বাড়ে ১৪৪ টির, কমে ৭৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টির দাম।

আগের দিন মঙ্গলবার এ বাজারে মাত্র ১০৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে ফিনিক্স ফাইনান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কাদির চৌধুরী বলেন, “আজকের চিত্র থেকে বাজারের গতি সম্পর্কে কিছুই বলা যাবে না। তবে আমার মনে হয় দুদিন ধরে বাজারটা একটু জোর করে তুলে (সূচক বাড়ানো) রাখা হচ্ছে ।”

বাজারে লেনদেন কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গত চার মাসে আটটি নতুন কোম্পানির বাজারে আসার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

“প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আইপিওতে চলে গেছে। যেহেতু নতুন টাকা আসেনি, তাই লেনদেন কমে গেছে।”

তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হবে না বলেই মনে করেন  কাদির। তিনি বলেন, “আইপিওর টাকাটা ফ্রি হয়ে গেলে বাজারে লেনদেন বাড়বে।”

অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন আরেকজন বাজার বিশ্লেষক।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি আল মারুফ খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনসহ বেশ কিছু কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগে যেতে পারছেন না। তাই লেনদেনও কমে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার ডিএসইর পর্ষদ সভা শেষে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সভাপতি রকিবুর রহমান।

তিনি বলেন, “আজ লেনদেন কমার বিষয়টি আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি এটা নিয়ে খুবই কষ্ট পাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে আমি অসন্তুষ্ট।”

তবে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) বুধবারের বাজারে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো- ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, আরএন স্পিনিং, ইউনিক হোটেল, বেক্সিমকো লিমিটেড, জেনারেশন নেক্সট, বিএসসিসিএল, প্রাইম ব্যাংক, এনবিএল, এনভয় টেক্সটাইল ও সামিট পাওয়ার।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো- এসিআই ফরমুলেশন, বিএটিবিসি, অরিয়ন ইনফিউশন, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এনএইচএফআইএল, ম্যারিকো ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, মাডার্ন ডাইয়িং, চতুর্থ আইসিসি ও রেনউইক যজ্ঞেশ্বর।

অন্যদিকে দাম কমার তালিকায় প্রধান কোম্পানিগুলো হলো- রহিম টেক্সটাইল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, এএমসিএল (প্রাণ) আইসিবি ইসলামিক, প্রথম বিএসআরএস, এনএলআই প্রথম মি. ফা., গ্রিনডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, আমরা টেকনোলজি ও জেনারেশন নেক্সট।

এর আগে এর চেয়ে কম লেনদেন হয় ২০০৮ সালের ৮ জানুয়ারি। সেদিন লেনদেন হয়েছিল ৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবশ্য ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি ৬৮ কোটি টাকা লেনদেন হলেও সেদিন শুরুর ছয় মিনিটের মধ্যে লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়।

সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ডিএসই সাধারণ সূচক কমে  প্রায় ১০ পয়েন্ট। হাতবদল হয় প্রায় ১২৪ কোটি টাকার শেয়ার। সোমবার সূচক ১১ পয়েন্ট হারায়; হাতবদল হয় প্রায় ১১৯ কোটি টাকার শেয়ার। আর মঙ্গলবার সূচকের ঘরে আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে লেনদেন শেষ হয়।

গত সপ্তাহে ডিএসই সাধারণ সূচক কমে দশমিক ৬৭ শতাংশ বা প্রায় ২৮ পয়েন্ট। দিনে গড় লেনদেন হয় প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা, যা এর আগের সপ্তাহের চেয়ে প্রায় ১৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম।

x

Check Also

পুঁজিবাজারে লেনদেনের সূচক ঊর্ধ্বমুখী

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর ...

সূচক পতনে লেনদেন

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন ...