Home | আন্তর্জাতিক | পশ্চিমবঙ্গে এবার বিধানসভা দখলের ছক বিজেপির

পশ্চিমবঙ্গে এবার বিধানসভা দখলের ছক বিজেপির

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বড় সাফল্যের পর এবার রাজ্যের বিধানসভা দখলের ছক তৈরি করেছে বিজেপি। কেন্দ্রে শাসক দলের লক্ষ্য, বাংলায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ২৫০ আসন পাওয়া।

এজন্য একেবারে নিচু স্তরের সংগঠন জোরালো করার পরিকল্পনা করছে তারা। লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির স্লোগান ছিল- ‘উনিশে হাফ, একুশে সাফ।’ ২০১৯ সালের সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া বাহিনী বাংলায় ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসন দখল করেছে, যা অর্ধেক ছুঁইছুঁই।

মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূলের চেয়ে মাত্র চারটি আসন কম পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ২২টি আসন। ২০২১ সালে হবে ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে বিজেপি শিল্পায়নের মাধ্যমে রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নাগরিকত্ব বিল বাস্তবায়ন করা এবং নাগরিক পঞ্জি নির্মাণের সম্ভাবনার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরিকল্পনা করছে। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। শাসক দল তৃণমূল অবশ্য বিজেপির এসব পরিকল্পনাকে খুব একটা পাত্তা দিতে নারাজ।

তাদের বিশ্বাস, বিজেপির এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ধূলিসাৎ করে ’২১-এ দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করবে তারা। এবারের নির্বাচনে বিজেপি ৪০.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বর্তমানে ৬টি বিধানসভা আসন তাদের দখলে রয়েছে। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক এবং রাজ্যের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, ‘লোকসভায় আমরা লক্ষ্য রেখেছিলাম ২৩টি আসনের। জিতেছি ১৮টিতে। এবার আমাদের লক্ষ্য বিধানসভার ২৫০ আসন। আমরা আমাদের নির্বাচনী কৌশল ঠিক করে ওই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শিগগিরই কাজ শুরু করে দেব।’লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার পর বাংলার রাজনীতিতে পালাবদলের ইঙ্গিত মিলেছে। রাতারাতি বিজেপির উত্থান হয়েছে। তৃণমূল ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে ৩৪টি আসনে জয়লাভ করেছিল। তারা নেমে এসেছে ২২-এ। কংগ্রেস ৪ থেকে কমে দুটি আসন পেয়েছে। বামরা খাতাই খুলতে পারেনি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিজেপি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, দলের রাজ্য সংগঠন বিধানসভা দখলে তাদের কৌশল তৈরি করছে। বিজেপির এক বর্ষীয়ান কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, তৃণমূলের বিধায়ক ও বর্ষীয়ান নেতাদের দলে নেয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তিনি বলেন, ‘কেবল যারা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ভালো নেতা ও যাদের দারুণ সাংগঠনিক ক্ষমতা, তাদেরই বিজেপিতে নেয়া হবে।’ তৃণমূল নেতা মনিরুল ইসলামকে দলে নেয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত এসেছে। বিজেপির ওই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, মনিরুলের অন্তর্ভুক্তি থেকে ভুল বার্তা যাচ্ছিল। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘আমরা নিজেদের ভালো বিকল্প হিসেবে দেখাতে চাই। তৃণমূলের অবিকল প্রতিলিপি হিসেবে নয়।’ এ প্রসঙ্গে বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘আমরা দলের সংগঠন পুনর্গঠন করতে চাই। দলের পুরনো, দক্ষ সংগঠক ও নেতা তাদের নতুন কমিটিতে রাখা হবে।’

বিধানসভা অঞ্চলগুলোকে এ, বি, সি, ডি অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিজেপির এক সূত্র জানাচ্ছে, যে ১৩০টি আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে সেগুলো ‘এ’। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ৬৫টি আসন ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। বড় ব্যবধানে দ্বিতীয় হওয়া আসনগুলো ‘সি’। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা আসনগুলো ‘ডি’। রাজ্য ও লোকসভাভিত্তিক ইস্যুগুলো নিয়ে একটা রোডম্যাপ করতে চায় তারা।

১৮ সংসদ সদস্য, ৬ বিধায়ক ও যে পৌরসভাগুলো দলের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেগুলোকেই উন্নয়নের মডেল তৈরি করে জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি মজবুত করাও বিজেপির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নাগেশ্বরীর ৩ ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থরা অর্থ সহায়তা পাবে ১কোটি ৩০লাখ টাকা

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : বাংলাদেশের উত্তারাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্টির জরুরী সহায়তা প্রকল্পের ...

বাংলাদেশি সিনেমা থেকে কতো পারিশ্রমিক নিচ্ছেন সানি লিওন?

বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করবেন বলিউড অভিনেত্রী সানি লিওন। এরই মধ্যে ...