ব্রেকিং নিউজ
Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | পল্লবী জোনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর : এসি কামাল

পল্লবী জোনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর : এসি কামাল

AC Mirpur Kamalশাওন সোলায়মান : বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগের আওতাধীন পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জনাব কামাল হোসেন। দায়িত্বে আসার পর থেকেই পল্লবী জোনের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে রেখে চলেছেন নিত্যনতুন কৌশল। কিছু ব্যর্থতার সাথে সাফল্যও আছে বেশ। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি মুখোমুখি হলেন বিডিটুডে২৪ডট কম এর। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বার্তা সম্পাদক শাওন সোলায়মান।

আপনি ডিএমপি পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার। আপনার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু বলুন।

এসি কামালঃ এই এলাকাটা একটু অপরাধপ্রবণ। এই এলাকায় ভাসমান লোকের সংখ্যা বেশি। ফলে তাদের দ্বারা অনেক বেশি অপরাধ সংঘটিত হয়। এরা হঠাৎ আসে এবং কাজ শেষ করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। এদের কাজের পলিসি অনেকটা “হিট এন্ড রান”। ফলে এদেরকে চিহ্নিত করে ধরাটাও অনেক কঠিন একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ অবস্থানগত কারনেই এলাকাটা অপরাধপ্রবণ।

আপনি এই পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব নেয়ার পর এই বিষয়গুলোতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন?

এসি কামালঃ আমি দায়িত্বে আসার পরপরি বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি আমি। আমার লোকদের মধ্যে থেকে সব থেকে যোগ্য, সৎ কিছু অফিসারদের নিয়ে আমি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করিয়েছি এবং করাচ্ছি যা আমাদের কৌশলগত কারনে খোলাসা করে বলতে পারছি না। তবে এটুকু বলছি এই ধরনের পদক্ষেপের কারনে এই জোনের আইন শৃংখলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তবে আবার, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে আমাদেরকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের স্বাভাবিক কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। তবে তা নিতান্তই সাময়িক। এর বাইরে আমার তত্বাবধায়নে আমাদের নিয়মিত কাজগুলো করে যাচ্ছি। এছাড়াও যদি কখনো আমার কাছে কোন অভিযোগ বা তথ্য দেয় আমি তার তদন্ত করাই। প্রয়োজনে আমি নিজে সেখানে সম্পৃক্ত থাকি।

যেমন কিছুদিন আগে বেগুনটিলা নামক এলাকায় এক নতুন সন্ত্রাসীর উদ্ভব হয়। আমার কাছে এক উড়ো চিঠি আসে। তার অত্যাচারে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারে না। আমি নিজে সেখানে গিয়ে পরিচয় বদলে তদন্ত করি এবং একটা সময়ে এসে তাকে ধরতে সমর্থ হই।

আপনার জোনে সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অপরাধপ্রবণ থানা কোনটি?

সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ থানার কথা বললে আমি বলব যে, ভাষানটেক আর রুপনগর থানা।

ভাষানটেকে ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা বেশি আর রুপনগর এলাকার মধ্যে বেড়িবাঁধের কিছু অংশ পরে যার কারনে এই দুটো থানা সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বা অপরাধপ্রবণ।

আপনি এই জোনের দায়িত্বে আসার পর এই জোনের পুলিশের সবথেকে বড় সাফল্য কী?

এসি কামালঃ আসলে সাফল্য তো অনেকই আছে। এর মধ্যে কোনটা যে সবথেকে বড় তাই তো বলা মুশকিল! কোনটার থেকেই তো কোনটা কম না। তবে উল্লেখযোগ্য হল যেমন “আলো মার্ডার কেস”। হত্যার মাত্র চারদিনের মধ্যে হত্যাকারীকে আটক করতে সমর্থ হই। এমনকি তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নিতেও সক্ষম হই। আরও একটি বড় সাফল্য হচ্ছে “আদুরী”র কেসটা। আদুরী যে বাসায় কাজ করত সেই বাসার মহিলা তার ওপর নির্যাতন করে। আমি সেই মহিলার ব্যাপারে কিছু জানতাম না শুধু আমি জানতাম যে সেই মহিলা ১২নং এর কোন একটা বাসায় থাকে। শুধু এইটুকু তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মাত্র দুই ঘন্টায় আমি তাকে আটক করতে সমর্থ হই এবং তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিতে সক্ষম হই।

পল্লবী জোনের পুলিশের ব্যর্থতা কী?

ব্যর্থতার ব্যাপারে আমি বলবে যে, কিছু ব্যর্থতা আছে। যেমন রকি মার্ডার কেস। এই মামলাটা ডিটেক্টেড অর্থাৎ এই মামলার আসামীদের চিহ্নিত করা গেছে। কিন্তু সমস্যাটা হল নিহতের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টা জানাতে দেরি হয়ে যাওয়ায় আসামী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। শেষ খবর মোতাবেক এই মামলার বেশিরভাগ আসামীই এখন ঢাকার বাইরে।

এই জোনে সংঘটিত কিছু বেআইনী কাজের পিছনে আপনার কিছু পুলিশ সদস্য জড়িত এমন অভিযোগ আছে। যেমন মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কালসীগামী নতুন সড়কটি উভয় পাশে ফুটপাথে দোকান দিতে পল্লবী থানার কিছু কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিতে হয়। আবার বেরিবাঁধে প্রতিনিয়তই ঘটা নানা অপরাধের জন্য রুপনগর থানাকে টাকা দিতে হয়। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

 

এমন কোন সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ আমার কাছে নেই। যদি পাওয়া যায় কঠোর ব্যবস্থা নেব আর নিচ্ছিও বটে। যেমন বেরিবাঁধের যতটুকু আমার এলাকার মধ্যে পড়ে সেখানে প্রতিদিন আমার একটি টিম কাজ করে। আমার একটি চেকপোস্ট থাকে সেখানে। আসলে আমি এমন অভিযোগ শুনি তবে কেউই নির্দিষ্ট করে কিছু বলে না। আমারও খুব কৌতুহল হয় জানতে যে, যারা পুলিশকে টাকা দেয় তারা আসলে পুলিশের কোন ব্যক্তিকে টাকা দেয়। আমি আপনাদের পত্রিকার মাধ্যমে সবার কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে, কারও কাছে যদি কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তবে আমাকে যেন জানানো হয়। আমি পদক্ষেপ নিব। গোপনে তথ্য দিক আর তার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন থাকবে।

মাদক নিয়ন্ত্রনে এই জোনের পুলিশের কী ধরনের তৎপরতা চলছে?

এসি কামালঃ মাদক নিয়ন্ত্রনে আমার ফোর্স অনেক তৎপর। আর আমি আগেই বলেছি যে আমার এই এলাকা যথেষ্ট অপরাধপ্রবণ আর এখানে ভাসমান লোকের সংখ্যাই বেশি। আর এই এলাকায় মাদকের যত তৎপরতা তার বেশিরভাগই চলে এই ভাসমান লোকদের দ্বারা যাদেরকে চিহ্নিত করে ধরাটা অনেক কঠিন। তবে হ্যাঁ, কিছু বড় ধরনের সাফল্যও আছে। তবে আমাদের জন্য এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হল “ইয়াবা” নিয়ন্ত্রণ। তবে কিছু আইনগত জটিলতার কারনে মাঝে মাঝেই আমাদেরকে ব্যর্থ হতে হয়। যেমন কোন এক গভীর রাতে যদি আমরা তথ্য পাই যে কোন একটা বাসায় ইয়াবার আসর বসেছে তো সেই সময় অভিযানে গিয়ে নানা আইনি জটিলতার কারনে আমরা হঠাৎ করে হামলা করতে পারি না। ঐ বাড়ির বাসিন্দাদের প্রথমে আগে ডাকতে হয়। আর এতে করে মূল অপরাধীরা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জানালা বা অন্যকোন উপায়ে সেই ইয়াবা নিজেদের থেকে সরিয়ে ফেলে। ফলে আমাদেরকে বিফল হয়ে ফিরতে হয়। আবার ঘটনাস্থল থেকে আমরা কোন প্রমাণ না নিয়ে ঐ সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আটকও করতে পারি না। আটক করলে পরবর্তীতে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়।

এই জোনের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে আপনি কি ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন?

আসলে এটা যদি এভাবে বলে দেই তাহলে অপরাধীরা সাবধান হয়ে যাবে। শুধু বলি যে, আমরা বেশ ছক বেঁধে এগোচ্ছি। পোশাকে থাকা ফোর্সের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আমার ফোর্স কাজ করছে। বিভিন্ন বিপণি বিতান এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফোর্স রাখা হয়েছে। আর আমি অন্তত যতদিন এই জোনে আছি, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তবে মাঝে মাঝে পুলিশের বিরুদ্ধে আসলেই হয়রানির অভিযোগ আছে

হ্যাঁ, অনেক অভিযোগ আছে আর তার মধ্যে কিছু সত্যিও আছে। তবে আমরা এমন কোন অভিযোগ পেলে কঠোর তদন্ত করি এবং আমাদের কোন সদস্য দোষী সাব্যস্ত হলে পুলিশের বিভাগীয় আইনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করি। যেমন আমি এই জোনের দায়িত্বে আসার পর এমন বেশ কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি।

 

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কি কি সমস্যার মুখোমুখি হন?

এসি কামালঃ আমি আমার ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি পুলিশ তার কাজ করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যে একটা বড় সমস্যা হল আইনগত সমস্যা। যেমন কিছুদিন আগে শব-ঈ-বরাতের রাতে দুইটি মেয়ে গণ ধর্ষনের শিকার হয়। প্রথমে ধর্ষিতার পক্ষ থেকে কোন মামলা না হলেও পরবর্তীতে মামলা হয় এবং সেই মেয়ের জবানবন্দীতে তিনজন ধর্ষকের মধ্যে থেকে একজনকে ধরার জন্য তার বাসায় যাই। সে আবার এক মুহুরীর ছেলে। তার বাবা তখন অভিযানে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের সাথে বিভিন্ন আইনি ব্যাপারে তর্ক শুরু করেন আর এর ফাকে অভিযুক্ত ধর্ষক পিছন দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ধরনের আইনি সীমাবদ্ধতার কারনে আমাদের অনেক সমস্যা হয়।

অনেক সময় বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন থেকেও এইসব অপরাধীদের পক্ষে কথা বলা হয়। এইসব সমস্যাগুলোর আমাদের সম্মুখীন হতে হয়। আরও একটা ব্যাপার হল কোন সন্দেহভাজন বা আসামীর কাছ থেকে কোন তথ্য চাওয়া হলে তারা দেয় না। তারা পুলিশের সাথে সহযোগীতা করে না; আর এটাও স্বাভাবিক কারন কে চাইবে নিজের পাপের কথা পুলিশকে বলতে। কিন্তু এমন অবস্থায় আমরা কীভাবে তথ্য আদায় করব? আমরা পারি বল প্রয়োগ করতে। কিন্তু তাও সম্ভব না। আইন আমাকে সে সুযোগ দেয় না। তাহলে আমি অপরাধের তথ্যটা পাব কীভাবে ?

আপনার এই পেশাগত দায়িত্ব পালনে আপনার ওপর কোন রাজনৈতিক চাপ আছে কিনা বা কখনও এমন চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে কিনা?

এসি কামালঃ আসলে এখনও এমন কোন চাপের সম্মুখীন আমাকে হতে হয়নি আর হলেও সে চাপ অন্তত আমার ওপর কাজ করবে না। তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে কিছু রাজনৈতিক লোকেরা বিভিন্ন ব্যাপারে অনুরোধ করে। এখন একটা লোক অনুরোধতো করতেই পারে, তাই না ? তবে তা রাখা বা না রাখা আমার ওপর। আর আমি কোন অন্যায় বা অবৈধ অনুরোধের প্রশ্রয় দেই না। আমার ডিসি স্যার খুবই কঠোর লোক। তার ছত্রছায়ায় কাজ করে আমি খুবই স্বচ্ছন্দবোধ করি। তার নির্দেশ কোন ধরনের অন্যায়ের সাথে আপোষ করা যাবে না।

 

সাধারণ মানুষ এখনও পুলিশকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করে না কেউ তার পরিচয় জানিয়ে পুলিশকে তথ্য দিতে চায় না কারন তারা মনে করে পুলিশের সাথে অপরাধীদের একটা যোগসূত্র আছে যার জন্য তার পরিচয় অপরাধীরা জেনে যাবে এমনটা কেন হয় ? সাধারন মানুষ কেন পুলিশকে বিশ্বাস করতে পারছে না?

বিশ্বাসহীনতার এই ব্যাপারটা শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যে, বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা নাই যা শতভাগ দূর্নীতি মুক্ত। তাই সাধারণ মানুষের বিশ্বাসহীনতার এই ব্যাপারটা শুধু একা পুলিশের বিরুদ্ধে না বরং সবার প্রতিই।

 

বলা হয়ে থাকে পুলিশ জনগণের বন্ধু কিন্তু সাধারণ জনগণ এখনো কেন পুলিশকে তাদের বন্ধু ভাবতে পারছে না কেন ?

পুলিশের বেলায় বন্ধু শব্দটি দুইভাবে ব্যাখ্যায়িত হয়। যখন আমরা বাদীর হয়ে তদন্ত করি এবং আসামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই তখন আমি আর তার বন্ধু থাকি না। আবার অনেক সময় অনেক ধরনের তদবির পালন করতে গিয়ে আমি একজনের বন্ধু হয়ে অন্যের শত্রুতে পরিণত হয় পুলিশ। আর তাছাড়া বন্ধুত্বতো শুধু একতরফা হলে হবে না! সাধারন জনগনকে পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে বুঝতে হবে। তাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে, সাহায্য করতে হবে পুলিশকে।


পুলিশের কর্মদক্ষতা বা সাফল্য বৃদ্ধিতে আর কী কী সুযোগ সুবিধা পুলিশের দরকার বলে মনে করেন ?

প্রথমত কিছু আইনি জটিলতা দূর করতে হবে যা আমি আগেও বললাম। এছাড়াও বিশেষ করে বলতে গেলে এই মুহূর্তে আমি সরকারের কাছ থেকে যে সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করি তা হল পুলিশ যেন ইন্টারনেটেই জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে প্রবেশ করতে পারে। যেমন ধরুন আমার কাছে একটি মামলার এক আসামির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। আমাকে এর পরিচয় বের করতে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করতে হবে যা বেশ সময় সাপেক্ষ। কিন্তু যদি জাতীয় পরিচয় পত্রের সার্ভারে যদি আমার প্রবেশের অনুমতি থাকে তবে আমি সহজেই যেকোন কম্পিউটার থেকে যেকোন ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি। এছাড়াও আরও বেশকিছু পয়েন্টে পুলিশের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে আর তাহলে পুলিশ আরও দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারবে।

 

পেশাগত এসি কামাল হোসেন থেকে বাইরে গিয়ে ব্যক্তি কামাল হোসেন সম্পর্কে কিছু শুনতে চাই

আমার তেমন কিছু বলার নাই। আসলে এই পুলিশের চাকরিতে আসলে আর কোন ব্যক্তিগত জীবন থাকে না। তখন সবসময় আমি পুলিশের সদস্য। তবুও কিছু বললে আমি বলব যে, আমি নেত্রকোনার ছেলে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কলেজ ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে অনার্স পাস করি। এরপর কিছুদিন শিক্ষাকতা করে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে জাজ হিসেবে নিয়োগ পাই। এরপর এখন পুলিশের ২৭তম ব্যাচের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করি। আর একটা কথা নিজের ব্যাপারে বলতে পারি। আমি খুবই ভ্রমণপিয়াসু। কখনও সময় সুযোগ হলেই কোথাও ঘুরতে চলে যাই।

 

শিক্ষক এরপর জাজ দুটোই খুবই ভাল এবং অনেকটা আরাম আয়েশের চাকরি এগুলো ছেড়ে পুলিশে কেন ?

এর পিছনে আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি দায়ী। আমি যখন জাজ হয়ে কাজ করি তখন দেখলাম যে পুলিশ প্রশাসনের অনেক জায়গাই কাজ ঠিকমত হয় না। তাদের গাফিলতির কারনে অনেক সময় প্রকৃত অপরাধীকেও ছেড়ে দিতে হয়। তাই ভাবলাম আমি নিজে এই পেশায় এসে দেখতে চাই আর যদি পারি এই অবস্থার পরিবর্তনও করতে চাই। আর তাছাড়া বিচার বিভাগের চাকরিতে কেমন অন্যরকম লাগছিল। সারাদিন একটা নির্দিষ্ট জাগায় বসে একই ধরনের কাজ করা। তাই বলতে পারেন যে, একরকম বৈচিত্র্যের কারনেই পুলিশে আসা।

 

 সবশেষে এই জোনের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?

অবশ্যই। আপনাদের মাধ্যমে শুধু আমার এলাকার আওতাধীন যারা আছেন তাদেরকেই বলছি না, বাংলাদেশের সকল জনগণকে বলতে চাই যে, অন্যায়ের সাথে আপোস করবেন না; একে ভয়ও পাবেন না। আপনি ভয় করলে এরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। সকল ধরনের সমস্যায় পুলিশের সহায়তা নিন। আপনি যে থানার এলাকায় বাস করেন সেই থানার ফোন নাম্বার সংরক্ষণ করুন।

আর আমার এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলব যে, আমার অফিসের দরজা আপনাদের জন্য সবসময় খোলা। যে কোন তথ্য বা প্রয়োজনে সরাসরি আমাকে ফোন দিন। আপনাদের পরিচয় গোপন থাকবে এবং আমার পুলিশ ফোর্স আপনাদের সবরকম বৈধ সহায়তা দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে ব্যাট ...

ইরানের বিরুদ্ধে ‘অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিদ্বেষমূলক’ বক্তব্যের জন্য ট্রাম্পের সমালোচনা হাসান রুহানির

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ...