Home | বিবিধ | কৃষি | নড়াইলে আমের মুকুলের ময় ময় গন্ধে ভরপুর

নড়াইলে আমের মুকুলের ময় ময় গন্ধে ভরপুর

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল : বর্তমানে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় আম গাছে আসতে শুরু করেছে মুকুল। এ যেন ঋতুরাজ বসন্ত যে এসেছে তারই আগমন বার্তা। কৃষিবিদ ও আম চাষীরা আশা করছেন বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার আমের ভাল ফলন হবে। এই সময় আম চাষী এবং বাগান মালিকরা আম গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন। অবশ্য গাছে মুকুল আসার আগেই আম বাগান পরিচর্যা শুরু করেছেন তারা। গাছে গাছে বালাই নাশক স্প্রে করার দৃশ্য চোখে পড়ছে। উপজেলার প্রতিটি এলাকা জুড়ে সবত্র এখন গাছে গাছে শুধু আমের মুকুল আর মুকুল। মুকুলের ভারে নুয়্যে পড়ার উপক্রম হয়েছে প্রতিটি গাছে। সেই সুবাদে মৌমাছিরা আসতে শুরু করেছে মধু আহোরণে। রঙিন বন-ফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেন সেজেছে বর্নিল সাজে, তেমনি নতুন সাজে সেজেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার আম বাগান গুলো। আমের মুকুলে ভরপুর আর ঘ্রানে ঘ্রানে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সবত্র জনান দিচ্ছে বসন্ত এসে গেছে। বসন্তের বাহারি ফুলের সাথে সাথে আমের মুকুল শোভা ছড়াচ্ছে আপন মহিমায়। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে উপজেলার সমস্ত বাগান গুলো।

জেলা কৃষি অফিস সুত্রে জনা গেছে, এই জেলায় বানিজ্যিক ভাবে আম চাষ না হলেও এবছর ব্যাক্তি উদ্যগে উপজেলায় প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে বানিজ্যিক ভাবে আম বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব বাগানে আমরুপালী, ফজলি, খিড়সা, মোহনভোগ, ল্যাংড়া, রাজভোগ, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া ছোট ছোট পরিত্যক্ত জায়গা ও বাড়ীর আশেপাশের জায়গাগুলোতে অসংখ্য আম গাছ রয়েছে। ইতিমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। ফাল্গুন মাসের ১ম সপ্তাহ থেকেই মুকুলে ছেয়ে গেছে প্রতিটি আম গাছ। এ উপজেলায় উৎপাদিত আম এলাকার চাহিদা পুরনের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলার চাপুলিয়া গ্রামের সফল আম চাষী মেহেদী হাসান বলেন, পুরোপুরি ভাবে সব গাছে এখনো মুকুল আসেনি। কয়েকদিনের মধ্যেই সমস্ত গাছে মুকুলে ভরে যাবে। আমি গত বছর আমার আম বাগান থেকে অনেক টাকা আয় করেছি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম চাষীরা জানান, প্রতি বছর তারা আম বাগান থেকে অনেক টাকা আয় করে থাকেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবির কুমার বিশ্বাস বলেন, ইতিমধ্যে চাষীদের আম গাছ মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে এবং কিছু কিছু গাছে আমের গুটি আসতে শুরু করেছে। উপজেলার প্রত্যেক চাষীদের ইউনিয়র ব্লক সুপারভাইজারদে মাধ্যমে গাছে মুকুল আসার পর একবার এবং গুটি হবার পর একবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমের ফলন ভাল হবে বলে মনে করছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জাতীয় নির্বাচনের ঘটনায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা হতভম্ব : মোশাররফ

স্টাফ রির্পোটার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ভোট ডাকাতি আগে কখনো বাংলাদেশে ...

ঘূর্ণিঝড় ইদায়; মোজাম্বিকে ১ হাজার লোকের প্রাণহানির আশঙ্কা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় ইদায়ের আঘাতে মোজাম্বিকে ১ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটতে পারে ...