ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | নৌকা ও স্বাধীনতা বিরোধীদের মনোননয়ন না দেওয়ার আহবান তৃণমূল আ.লীগের

নৌকা ও স্বাধীনতা বিরোধীদের মনোননয়ন না দেওয়ার আহবান তৃণমূল আ.লীগের

বরগুনা প্রতিনিধি : আগামী ১১ এপ্রিয় প্রথম দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী বাছাই করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। তবে তৃণমূল আওয়ামী লীগের দাবি আগামী নির্বাচনে রাজাকার সন্তান, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ও নৌকার সাথে বিশ^াসঘাতকদের যাতে মনোননয়ন না দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরগুনা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, স্থানীয় রাজনীতির চাপ, ক্ষমতার টিকে থাকার লড়াইয়ে অনেক সময় উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে পছন্দের বাইরে গিয়েও নৌকা বিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সদস্যদের নামও কেন্দ্রে পাঠাতে হয়। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বরগুনা সদর, আমতলী, পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগীতে এমন অনেক নেতার নাম সুপারিশ করে মনোনয়নের জন্য পাঠানো হয়েছে যারা বিগত নির্বাচনে সরাসরি নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করেছেন। এমনকি যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সদস্যদের নামও কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদ গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে যেসকল নাম প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো প্রথমে উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে এসেছে সেখান থেকে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে থেকে যাচাই বাছাই করে কিছু নাম কর্তন ও কিছু নাম সংযোজন করে আমরা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। কেন্দ্রে পাঠানোর আগে আমরা বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ দফায় দফায় সভা করে অত্যন্ত সতকর্তার সহিত নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, কিছু কিছু অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে সেগুলোকে বিবেচনা করে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের নাম বাতিল করেছি। আবার কিছু কিছু অভিযোগ আমাদের কাছে মনে হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। বিগত নির্বাচনগুলোতে যাদের বিরুদ্ধে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ছিলো তাদের বিষয়টি মন্তব্যের ঘরে আমরা উল্লেখ করে দিয়েছি। আমি মনে করি আগামী নির্বাচনে সঠিক নেতৃত্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে নৌকার মাঝি হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাড. নুরুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় তার বাবা মফিজ উদ্দীন শরীফ ছিলেন স্থানীয় শান্তি কমিটির একজন সক্রীয় নেতা। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনিই নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পর থেকেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিতে একত্রিত করতে বিএনপি জামায়াত ও এন্টি আওয়ামী লীগ নিয়ে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয় ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি বরাদ্ধ টিআর, কাবিখাসহ সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছেন নিজের খেয়াল খুশি মতো। দুর্নীতি আর অনিয়মের আখড়া বানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদকে। তার এই সকল বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে কিংবা তার মতাদর্শের বিরুদ্ধে গেলে মামলা হামলা দিয়ে হয়রানিসহ স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দল তৈরি করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্ধ। সেই সাথে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে সরাসরি নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এরকমই আরো একজন বরগুনার বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তার বাবা বজলুর রহমান ছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী। যুদ্ধচলাকালীন সময় মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করেন তার বাবাকে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শুধু নুরুল ইসলাম কিংবা নজরুল ইসলামই নয় বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কমপক্ষে ২০জন নেতা এবছর অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে তাদের নাম সুপারিশ করে মনোনয়নেওর জন্যও পাঠানো হয়েছে।

গুলিশাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন মৃধা বলেন, আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ চেয়েছিলাম যাতে তার নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠানো না হয়। কিন্তু সে যেহেতু এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগর সভাপতি তাই উপজেলার নেতৃবৃন্ধ এখানে ভোটাভুটির ব্যবস্থা করেন। ভোট অনুযায়ী তিনি তিন জনের মধ্যে সুপারিশকৃত হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, তিনি একজন মামলা বাজ চেয়ারম্যান এবারো যদি তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তবে তিনি ইউনিয়নটিকে একটি মামলাবাজ ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন। আমরা তৃণমূল আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে একটা দাবি করি তাকে যাতে কোনভাবেই মনোনয়ন না দেওয়া হয়

আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা জব্বার ঘরামি বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাড. নুরুল ইসলামের বাবা ছিলেন একজন রাজাকার। রাজাকারের তালিকায় তার নাম রয়েছে আশা করি কেন্দ্রেীয় আওয়ামী লীগ কখনো একজন স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তানকে মনোনয়ন দিবেন না।

এবিষয়ে গুলিশাখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাড. নুরুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা রাজাকার ছিলেন না একটি পক্ষ আমার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি গতবছর নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আমি মনোনয়ন পেলে আবারো নির্বাচিত হবো।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, বরগুনার ৬টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ এপ্রিল। এ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করে ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় নির্দেশা মোতাবেক কমপক্ষে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিন জন করে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। তবে অধিক জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে তিন এর অধিক প্রার্থীও একটি ইউনিয়ন থেকে পাঠানো হয়েছে।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, দলীয় নিয়ম কানুন মেনেই মনোনয়নের জন্য তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আমরা বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ প্রত্যাশা করি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় হাই কমান্ড আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী কিংবা যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সাথে সর্ম্পৃক্ত এমন কাউকে মনোনয়ন দিবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পর্তুগালে বঙ্গবন্ধু ক্রিকেট টুর্নামেন্ট২০২২ এ “লিসবন সিক্সার’স” বিজয়ী

আনোয়ার এইচ খান ফাহিম ইউরোপীয় ব্যুরো প্রধান, পর্তুগালঃ ২৪ মে বাংলাদেশ দূতাবাস ...

প্যারিসে ইমরানের গানের অনুষ্ঠান পন্ড

ফ্রান্স প্রতিনিধিঃ ২৩ মে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বৈশাখী মেলার আয়োজনে প্রবাসীদের মিলনমেলায় ...