Home | ফটো সংবাদ | নেতৃত্ব নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল

নেতৃত্ব নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল

স্টাফ রির্পোটার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নেতৃত্ব নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির নেতা কে এম ওবায়দুর রহমানের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক সভার আয়োজন করে ‘ওবায়দুর রহমান স্মৃতি সংসদ’। ওই সভায় নেতা–কর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়েন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া বিএনপির ভুল নাকি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল—দলের নেতা-কর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে যাওয়ার পূর্বে আমাদের নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশেই আমরা নির্বাচনে গিয়েছি। নির্বাচনের পরেও তাঁর নির্দেশেই ঐক্য ধরে রাখতে কাজ করেছি।’

এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আবেগ দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না। দেশনেত্রীর নির্দেশেই আমরা নির্বাচনকে একটি হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, আমাদের সাধারণ সভায় দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্য গড়ে তুলতে খালেদা জিয়া পরিষ্কার করে বলে গিয়েছিলেন। এই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে ঐক্য নিয়ে লড়াই করতে বলেছিলেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এখানে অনেকে অনেক কথা বলছেন। নেত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার পরে যখন আমরা কর্মসূচি দিয়েছি, তখন কতজন এসেছেন আর কতজন আসেননি—আমরা তা দেখেছি। কারা কারা কর্মসূচি থেকে আস্তে আস্তে চলে গেছেন, সেটাও দেখেছি। এই নির্বাচনের মধ্যে কারা বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ করেছেন, সেটাও দেখেছি। সুতরাং শুধু একটি আবদ্ধ ঘরের মধ্যে নিরাপদ জায়গায় এসব কথা বলে শত্রুকে পরাজিত করতে পারব না।’মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের একপর্যায়ে দর্শকসারি থেকে নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশ্ন করতে থাকেন। এ সময় ফখরুল ইসলাম তাঁদের মঞ্চে এসে প্রশ্ন করতে বলেন। দর্শকসারি থেকে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি এইচ এম রাশেদ মঞ্চের কাছে এসে প্রশ্ন করেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সর্বশেষ যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাতে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়নি কেন? এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কে বলেছে আপনাকে এই কথা? অবশ্যই মুক্তি চাওয়া হয়েছে। ডোন্ট টেল আ লাই।’ এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

নেতা-কর্মীদের উত্তেজনার মধ্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, লড়াই করতে হলে জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। জনগণের ঐক্য এবং সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া এই ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচারকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরাজিত করার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, আন্দোলন–সংগ্রামে জয়ী হতে সব মানুষকে এক করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে সুপরিকল্পিতভাবে জনগণের ঐক্যকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ যেভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে বর্জন করেছে, সেই ঐক্যকে ভাঙতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে দেশনেত্রীর নির্দেশে এই ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করব এবং এই শক্তিকে পরাজিত করব। ঐক্য ভেঙে গেলে আর কোনো দিন এই সরকারকে সরাতে পারব না। সে জন্য ছোটখাটো সমস্যাকে বড় করে না দেখে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’

বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কোনো দিন নিঃশেষ হবে না। বিএনপির রাজনীতি জনগণের রাজনীতি। এর আগে অনেকে বিএনপিকে ভাঙতে চেয়েছিল। এরশাদ সরকার ভাঙার চেষ্টা করেছে। এরপর আওয়ামী লীগও ভাঙতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি। আবার এখনো ভাঙতে চেষ্টা করছে। কিন্তু একজন কর্মীকেও সরিয়ে নিতে পারেনি। এখন সময় কঠিন। এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে হবে অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহস নিয়ে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয় না। আন্দোলন জমা থাকে। আন্দোলন কখনো হারিয়ে যায় না। সব আন্দোলন যখন বিস্ফোরিত হবে, সেদিন এই সরকার ভেসে যাবে। সময় আসছে, সুযোগ আসবে, সংগঠিত থাকুন। আর সেই সময়ের অপেক্ষা করুন।’ তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক দলের আন্দোলনে স্বৈরাচারকে উৎখাত করা যায় না। সমাজের রাষ্ট্রের সব জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে স্বৈরাচারকে উৎখাত করতে হয়।

সরকারের উদ্দেশে আ স ম রব বলেন, ‘মনে করছেন এভাবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকবেন? এটা অসম্ভব। হিটলার থাকেনি, মুসোলিনি থাকেনি, ফেরাউন নেই, আপনারাও থাকবেন না। ২০ ফেব্রুয়ারি সকল মামলা প্রত্যাহার করে জনগণ যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এসেছিল, খালেদা জিয়াও সেভাবে কারাগার থেকে মুক্ত হবেন।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি টি এস গিয়াসউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ওজন কমাবে ছয় পানীয়

বিডিটুডে ডেস্ক : বর্তমানে স্থুলতা বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। স্থূলতার জন্য চারপাশের দূষিত পরিবেশ, ...

পাবনায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ ...