ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | নিষেধাজ্ঞা না ওঠালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক সম্ভব নয়:হাসান রুহানি

নিষেধাজ্ঞা না ওঠালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক সম্ভব নয়:হাসান রুহানি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। তবে বৈঠকের এমন কথা সামনে আসতেই ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে। নিষেধাজ্ঞা না ওঠালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক সম্ভব নয়।

সোমবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনের শেষ দিনে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে সেদেশের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে ঐতিহাসিক সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত৷ মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি৷ তবে তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা কমাতে জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরোঁ নেপথ্যে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছেন। সোমবার ম্যাকরোঁ বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আগেই কথা বলেছেন৷ ট্রাম্প ও রুহানির সাক্ষাৎ হলে মতপার্থক্য কাটিয়ে বোঝাপড়া সম্ভব হবে বলে তার বিশ্বাস৷ তবে মাত্রাতিরিক্ত প্রত্যাশা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন মাকরোঁ৷ তার মতে, ‘এখনো কিছুই করা হয়নি৷ গোটা বিষয়টি অত্যন্ত নাজুক’৷

মঙ্গলবার তেহরানের এক অনুষ্ঠানে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, তিনি সবসময়েই কথা বলতে রাজি, তবে তার আগে আমেরিকাকে ইরানের ওপর থেকে অবৈধভাবে আরোপ করা, অন্যায্য এবং অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

তিনি বলেন: ‘আমেরিকা যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেয় এবং তারা যে ভুল পথে হাঁটছে তা থেকে সরে না আসে, আমরা কোন ইতিবাচক অগ্রগতি দেখব না। একটা ইতিবাচক অগ্রগতির চাবিকাঠি আমেরিকার হাতে’।

রুহানি বলেন, ‘ট্রাম্পের একমাত্র উদ্বেগ যদি হয় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করল কিনা, তাহলে তো আর চিন্তার কিছু থাকে না। আমরা কোনো ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র তৈরি করছি না, আণবিকও না বা রাসায়নিকও না। সেটা আপনার চোখ রাঙানো বা ভয়ভীতির কারণে নয়, আমরা এটা করছি না আমাদের বিশ্বাস ও নৈতিকতার কারণে। আমাদের সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়াও তাই।’

উল্লেখ্য, আগামী মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রুহানি নিউইয়র্ক সফর করবেন৷ ট্রাম্পও সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন৷ সেসময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে, এমন সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে৷

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমাজের যে পরমাণু চুক্তি হয়েছিল, আমেরিকা সেই বোঝাপড়া থেকে বেরিয়ে এসে ইরানের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে চলেছে৷ ট্রাম্প ও রুহানির মধ্যে সাক্ষাতের আগে এমন এক বোঝাপড়ার প্রয়োজন রয়েছে, যার আওতায় দুই পক্ষেরই মুখরক্ষা করা সম্ভব৷ নতুন অথবা এক বাড়তি চুক্তির আওতায় ইরানের আরও কিছু স্থাপনার উপর আন্তর্জাতিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হতে পারে৷ মূল চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের পর আরও বাড়ানো হতে পারে৷ এর বদলে ইরান কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাবে৷ ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ইরানের হাতে কোনো পরমাণু অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখতে চান না৷ তার মতে, সেই বোঝাপড়ার মেয়াদও দীর্ঘ হতে হবে৷

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ সংলাপের সদিচ্ছাও বিশাল অগ্রগতির লক্ষণ, বলেন মার্কেল৷ জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয়রাও ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে বলে জানান জার্মান চ্যান্সেলর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের খাবারের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি

ক্রীড়া ডেস্ক : ফিটনেসে জোর দিতে হবে। তাই পাকিস্তানের কোচ হয়ে এসে ...

এবারও নেতানিয়াহুর পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল এখনো প্রকাশিত না হলেও সমীক্ষা অনুযায়ী ...