ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | নিষিদ্ধ ঘোষিত ৯টি জঙ্গি সংগঠন জিহাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তৎপরতা শুরু

নিষিদ্ধ ঘোষিত ৯টি জঙ্গি সংগঠন জিহাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তৎপরতা শুরু

Talabanস্টাফ রিপোর্টার : আল-কায়েদা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির অডিও বার্তায় বাংলাদেশে জিহাদ শুরুর আহ্বানের পর আরেক ভয়ঙ্কর তথ্যের সন্ধান মিলেছে। বাংলাদেশে সক্রিয় ও নিষিদ্ধ ঘোষিত মিলিয়ে ৯টি জঙ্গি সংগঠন জিহাদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তৎপরতা শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে তারা একটি জঙ্গি জোটের নামও চূড়ান্ত করেছে- ‘স্বাধীন বাংলাদেশ কমিটি’।হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি) মজলিশে আমেলার সিনিয়র সদস্য মাওলানা আবু বকরকে আমির নির্বাচন করে অন্য ৮টি সংগঠনের আমিরকে ‘স্বাধীন বাংলাদেশ কমিটি’র মজলিশে আমেলার সদস্য বানানো হয়েছে। জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে এই জোট আরো সম্প্রসারিত হবে। তবে জোটের নেতৃত্বে থাকবে হুজি। স্বাধীন বাংলাদেশ কমিটি শিগগিরই দেশে জিহাদ শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিতে পারে। আর এই ঘোষণা আসার সম্ভাবনা বেশি চট্টগ্রাম থেকে। জিহাদের সূচনাও হবে চট্টগ্রাম থেকেই।এক সূত্র জানায়, স্বাধীন বাংলাদেশ কমিটিতে প্রাথমিকভাবে যে ৯টি জঙ্গি সংগঠন যোগ দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সোহেল মাহফুজের নেতৃত্বাধীন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ ওরফে জেএমবি, মুফতি আবদুস সালামের নেতৃত্বাধীন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ ওরফে হুজি, মুফতি আবদুল হান্নানের নেতৃত্বাধীন হরকাতুল মুজাহিদীন, মুফতি আবদুর রউফের তাআমির উদ্দীন, বায়েজিদ খান পন্নীর প্রতিষ্ঠিত হিজবুত তাওহীদ, মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীর আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, মাওলানা আবদুল্লাহ মাদানির জইশ-ই-মোহাম্মদ, মাওলানা আবদুর রহমান আফগানির আনসারু বাইতিল মাকদিস এবং হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আল্লাহর দল।প্রসঙ্গত, বিভিন্ন গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে সম্প্রতি দেশে ২৯টি সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশ কমিটিতে যোগ দেওয়া ৯ সংগঠনের বেশির ভাগ নেতাই বর্তমানে কারাবন্দি। বিশেষ করে জঙ্গি সংগঠনগুলোর এ জোটের মূল উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বদানকারী হরকাতুল জিহাদের ৩টি গ্রুপের ৩ আমিরই দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি। সূত্র জানায়, নেতারা কারাগারে থাকলেও তাঁদের ক্যাডার বাহিনী জিহাদ কায়েমের তৎপরতা চালিয়ে যাবে।৯টি জঙ্গি সংগঠনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা জোট ‘স্বাধীন বাংলাদেশ কমিটি’ সম্পর্কে জানতে চাইলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মিডিয়া বিভাগের পরিচালক এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খতিয়ে দেখছি।’একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ‘স্বাধীন বাংলাদেশ কমিটি সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য আছে। এদের বিষয়ে আমরা করণীয় ঠিক করছি।’হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর মজলিশে আমেলার এক সদস্য বলেন, ‘যত যাই আপনারা বলুন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নির্বাচনে দেশে কোনো দিন ইসলাম কায়েম হবে না। আমরা বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আফগানিস্তানে আমরা জিহাদ করেছি। বাংলাদেশেও জিহাদ করেই ইসলাম কায়েম করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশটি আমাদের নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, আমরা তথা বাংলাদেশ হলো তাদের জন্য ক্যান্সার। আমাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আর বরদাশত করা হবে না। আমরা আয়মান আল জাওয়াহিরি অথবা তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের এমন একটি ঘোষণারই অপেক্ষায় ছিলাম। দীর্ঘ অপেক্ষার পর হলেও সেই ঘোষণা পেয়েছি। এখন আর কোনো বাধা রইল না। আমরা জিহাদের পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি।’অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব জঙ্গি সংগঠন নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য রাজধানীতে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। এরপর নানা কারণে তাদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে থাকে।একাধিক সূত্র জানায়, এরই মধ্যে হরকাতুল জিহাদ সশস্ত্র জিহাদের পক্ষে দেশের ১ হাজার মুফতির স্বাক্ষরসংবলিত একটি ফতোয়া প্রকাশ করবে। এ ছাড়া তালেবান প্রধান মোল্লা ওমরের স্বাক্ষর সংবলিত বাংলাদেশে জিহাদ শুরুর অনুমতি শীর্ষক একটি প্রচারপত্রও প্রকাশ করবে তারা। ইতিমধ্যে মোল্লা ওমরের অনুমতি সংগ্রহ করা হয়েছে।জানা গেছে, বাংলাদেশে সশস্ত্র জিহাদের প্রশ্নেই মূলত ৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী। মুফতি আবদুস সালামের নেতৃত্বে মূল অংশ হুজি, মুফতি আবদুল হান্নানের নেতৃত্বে হরকাতুল মুজাহিদীন আর মুফতি আবদুর রউফের নেতৃত্বে তাআমির উদ্দীন। তাদের মধ্যে হুজি সশস্ত্র জিহাদের পক্ষে না থাকলেও অন্য দুটি অংশ শুরু থেকেই সশস্ত্র জিহাদের চিন্তা লালন করে আসছে। এমনকি হুজি সংগঠনের নাম পাল্টে প্রথমে ইসলামী দাওয়াতি কাফেলা, পরে সচেতন ইসলামী জনতা, এরপর ইসলামী গণ-আন্দোলন, সর্বশেষ ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি (আইডিপি) নামে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করে। নির্বাচন কমিশনে আইডিপি নামে তারা নিবন্ধনের জন্য আবেদনও করে। ২০০৬ সালের ১৮ আগস্ট সচেতন ইসলামী জনতার ব্যানারে তারা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে প্রকাশ্যে মিছিল ও সমাবেশ করে।১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে হুজি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এটি মূলত আফগান যুদ্ধফেরত মুজাহিদদের নিয়ে গড়ে ওঠা পাকিস্তানভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন। এ সংগঠনের মূল নেতা আফগান মুজাহিদদের অন্যতম কমান্ডার পাকিস্তানি নাগরিক সাইফুল্লাহ আখার। তখন হরকাতুল জিহাদের নেতৃত্বে ছিলেন যশোরের মণিরামপুরের কমান্ডার মুফতি আবদুর রহমান ফারুকী। আফগান যুদ্ধে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি তরুণদের তিনি ছিলেন স্বপ্নপুরুষ। সংগঠন প্রতিষ্ঠার পরের বছর ১৯৮৯ সালের ১১ মে ফারুকী আফগানিস্তানের খোস্তে মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর আমির হিসেবে দায়িত্ব নেন আফগান যোদ্ধা কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের মুফতি শফিকুর রহমান। প্রায় ৬ বছর গোপনে সংগঠিত হলেও হুজি রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ১৯৯২ সালের ৩০ এপ্রিল।প্রথম দিকে কওমি মাদ্রাসাগুলো থেকে সদস্য সংগ্রহ করে আফগান যুদ্ধে লোক পাঠানোই ছিল এ সংগঠনের মূল কাজ। আফগান যুদ্ধ শেষে হুজি মিয়ানমারে লোক পাঠানো শুরু করে। এ সময় কক্সবাজার ও বান্দরবানের গহীন অরণ্যে রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে হুজির সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। ১৯৯৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি উখিয়ায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় তাদের ৪১ সদস্য সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ গ্রেফতার হয়েছিল।হরকাতুল জিহাদ সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের পরই তারা প্রথমে বাংলাদেশে সশস্ত্র জিহাদের টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু করে। এ লক্ষ্যে তারা দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিয়ে বাছাই করা তরুণদের কক্সবাজার ও বান্দরবানের গহীন অরণ্যে নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এভাবে তারা প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে আফগান স্টাইলে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এসব কর্মী প্রচলিত গণতান্ত্রিক ধারার ইসলামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের জঙ্গি কার্যক্রমে ভেড়াতে চেষ্টা করে। এ নিয়ে ইসলামী দলগুলোর বিভিন্ন নেতা-কর্মীর সঙ্গে নব্বইয়ের দশকে হাতাহাতি-মারামারির ঘটনা ছিল অনেকটাই নৈমিত্তিক বিষয়। এমনকি ইসলামী দলগুলোর বিভিন্ন নেতাকে তারা হত্যার হুমকিও দিয়েছে বহুবার।কবি শামসুর রাহমানকে হত্যাচেষ্টার পর কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নাম যুক্ত হয়ে গেলে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে হরকাতুল জিহাদ বা হুজি। একপর্যায়ে তারা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাংগঠনিক সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুর রউফ ও মুফতি আবদুল হাইসহ অনেকেই ধরা পড়েন।এসময় হুজি নেতারা বাংলাদেশে সশস্ত্র জিহাদের চিন্তা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে তাঁদের মজলিশে আমেলার (নির্বাহী কমিটি) কয়েক দফা বৈঠকও হয়। তাতে বড় একটি অংশ বাধা দেয়। এ অংশটি সশস্ত্র জিহাদের পক্ষে কাজ করতে নেতাদের চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে ১৯৯৬ সালে প্রথম হরকাতুল জিহাদে ভাঙন ধরে। সে সময় মুফতি আবদুল হান্নান তাঁর অনুসারীদের নিয়ে হরকাতুল জিহাদের নেতৃত্বের সঙ্গে বিদ্রোহ ঘোষণা করে পাল্টা কমিটি গঠন করেন। সশস্ত্র পদ্ধতিতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়েই তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। হুজির আরেকটি অংশও তাঁর নেতৃত্বে যোগ দেয়।মুফতি হান্নান বিদ্রোহ করার পর পাকিস্তানের আরেকটি জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল মুজাহিদীনের নেতা মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে হান্নানের। ২০০৫ সালের অক্টোবরে র‌্যাবের হাতে মুফতি হান্নান ধরা পড়েন।হরকাতুল জিহাদে দ্বিতীয় দফা ভাঙন ধরে ১৯৯৮ সালে। মূল নেতারা সশস্ত্র জিহাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় চিফ কমান্ডার মুফতি আবদুর রউফও নেতাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়েও একে অন্যকে দোষারোপ করলে একপর্যায়ে ১৯৯৮ সালের জুন মাসে মুফতি আবদুর রউফকে হরকাতুল জিহাদ থেকে বহিষ্কার করার দাবি করেন অন্য নেতারা। তবে আবদুর রউফের অনুসারীরা দাবি করছেন, তাঁরা নিজেরাই বেরিয়ে গিয়ে পৃথক সংগঠন গড়ে তুলেছেন। এসময় তাঁরা আবদুর রউফের নেতৃত্বে তাআমির উদ্দীন নামে নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি হরকাতুল জিহাদের চিফ কমান্ডার থাকায় সংগঠনের বড় একটি অংশ তাঁর নেতৃত্বে যোগ দেয়। অল্প দিনেই দেশের ৩৪ জেলাজুড়ে গড়ে ওঠে এই সংগঠনের নেটওয়ার্ক।ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ীর জীবনতলা হাফিজিয়া নুরানি কওমি মাদ্রাসা থেকে র‌্যাব ২০০৬ সালের ২ আগস্ট মুফতি আবদুর রউফ ও তাঁর ২৬ সঙ্গীকে গ্রেফতার করে। গত রবিবার পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে তিন জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জীবনতলা মাদ্রাসাটি ফের আলোচনায় চলে আসে।এ নিয়ে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর মজলিশে আমেলার (নির্বাহী কমিটি) অন্যতম এক সদস্য বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র জিহাদের অভিজ্ঞতা আছে। আফগানিস্তানে গিয়েছিলাম জীবিত ফিরে আসার জন্য নয়। এখন বেঁচে থাকাটাই আমাদের বোনাস।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আলোকস্বল্পতার কারণে পরিত্যক্ত সিলেট -খুলনার ম্যাচটি

স্পোর্টস ডেস্ক :   গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর লাইভ সম্প্রচারে আলোকস্বল্পতার কারণে ...

ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন ইসরাইলের নাগরিকরা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন ইসরাইলের নাগরিকরা। সোমবার ...