Home | ফটো সংবাদ | নির্বাচনী মাঠে কর্মী-সমর্থকদের ধরে রাখতে কৌশলী হচ্ছেন প্রার্থীরা

নির্বাচনী মাঠে কর্মী-সমর্থকদের ধরে রাখতে কৌশলী হচ্ছেন প্রার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : মামলার ফেরে পড়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের নতুন তারিখ ঘোষিত হলেও বন্ধ হয়ে যাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা ১৮ জুনের আগে চালাতে পারবেন না প্রার্থীরা। এই সময়ে নির্বাচনী মাঠে কর্মী-সমর্থকদের ধরে রাখতে কৌশলী হচ্ছেন প্রার্থীরা। একই সঙ্গে রমজান মাস সামনে রেখে নির্বাচনী ছক আঁকছেন তারা।

নির্বাচন কমিশনের বিধি-নিষেধের মধ্যে থেকে ভোটারদের কাছে যেতে বিভিন্ন কৌশল ও করণীয় নির্ধারণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধান দুই মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চাইছেন পুরো মাসটি দলীয় শৃঙ্খলা ও কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি ভোটারদের মনোরঞ্জনে কাজে লাগাতে। একই ভাবে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার দলের বিভেদ কাটিয়ে নির্বাচনী মাঠে সব নেতাকর্মীকে সংগঠিত করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছেন।

প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী আলাপকালে তাদের নিজস্ব কর্মকৌশল নিয়ে এগুচ্ছেন বলে জানান। দুজনই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

গত ২৬ মার্চ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোট হওয়ার কথা ছিল। সময়মতো গতকাল (১৫ মে) খুলনার ভোট হলেও মামলার কারণে প্রচারণার মাঝখানে ভোট পিছিয়ে যায় গাজীপুরের।

সীমানা নিয়ে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ৬ মে গাজীপুরের ভোট স্থগিত করে। পরে ১০ মে আপিল বিভাগ এই স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। তবে এই কয় দিন সময় নষ্ট হওয়ায় তফসিল ঘোষিত ১৫ মে গাজীপুরে ভোট নেয়া সম্ভব হবে না বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।  পরে নির্বাচন কমিশন গাজীপুরে ভোটের জন্য ২৬ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করে। আর প্রার্থীরা নতুন করে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চালাতে পারবেন ১৮ জুন থেকে।

এর আগে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৪ এপ্রিল থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছিল প্রাথীদের। ১২ দিনের মাথায় স্থগিত হয় নির্বাচন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে প্রচারণায় ব্যবহৃত পোস্টার, লিফলেট নষ্ট হয়ে গেছে বৈরী আবহাওয়ায়। তাই নতুন করে নতুন উদ্যমে নির্বাচনী মাঠে নামতে হবে তাদের। নতুন করে ছাপাতে হবে নির্বাচনী পোস্টার, খুলতে হবে নির্বাচনী ক্যাম্প। এ জন্য নিজেদের কর্মস্পৃহা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন প্রার্থীরা। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় পাওয়ায় নির্বাচনী চ্যালেঞ্জগুলো কাটাতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন প্রার্থীরা।

কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী জানান, নতুন তারিখ অনুযায়ী নির্বাচনের এক মাসের বেশি সময় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময় কর্মী-সমর্থকদের ধরে রাখাই এখন তাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। এমনিতেই নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে তাদের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিকভাবে এখন তারা নতুন নতুন সমস্যা মোকাবেলা করছেন। তবে নির্বাচনে যেহেতু নেমেছেন, শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তারা।

এদিকে নির্বাচনের নতুন তারিখ সামনে রেখে নব উদ্যমে কোমর বেঁধে নেমেছেন মেয়র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকারের পাশাপাশি ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের নাসির উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্টের জালাল উদ্দিন, সিপিবির রুহুল আমিন এবং স্বতন্ত্র ফরিদ উদ্দিন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১৮ জুনের আগে আনুষ্ঠানিক প্রচারে বিধি-নিষেধ থাকলেও নতুন নতুন পরিকল্পনা আর কর্মকৌশল নিয়ে এগুচ্ছেন সব প্রার্থী।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পোস্টার-লিফলেট যা ছাপানো হয়েছিল তা বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।  বাড়তি এক মাসের বেশি সময় কাটানোটা প্রার্থীদের জন্য কষ্টদায়ক। আগামী একটি মাস আওয়ামী লীগ ও আমাদের কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করার জন্য চেষ্টা চালাব। এ ছাড়া সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করব।’

‘আমার একটাই কথা’, জাহাঙ্গীর বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে আমি জয়ী হব, সেই লক্ষে যা যা করা দরকার সব কৌশলই গ্রহণ করব।’

এদিকে, টঙ্গীর আউচপাড়ায় নিজ বাসভবনে সময় কাটান বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। দিনভর তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনিও আসন্ন রমজান, ঈদসহ এক মাসের বেশি সময় কাটাতে সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

জনগণের পছন্দনীয় কলাকৌশলে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান বিএনপির মেয়র প্রার্থী। তবে তার অভিযোগ, এখন পুলিশ প্রশাসন তার নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে যা নির্বাচনের অন্তরায় হিসেবে দেখছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘বিশেষ করে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।’

গাজীপুরের নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ ও প্রার্থীদের আচরণবিধির ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল বলেন, ১৮ জুন থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে। তার আগে যেকোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে। তবে রমজান মাসে প্রার্থীরা ইফতার পার্টি, জাকাত বিতরণসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চিতলমারীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের পাঠদানের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ...

দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : ধানের জেলা দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ শুরু ...