Home | ফটো সংবাদ | নির্বাচনী দাবি আদায়ে নতুনভাবে এগোতে চাইছে বিএনপি

নির্বাচনী দাবি আদায়ে নতুনভাবে এগোতে চাইছে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘদিনের জোট ২০ দল ও নির্বাচনের আগে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে একসঙ্গে বড় একটি রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করতে চায় বিএনপি। দুই জোটের টানাপোড়েন প্রশমনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করাও এর লক্ষ্য।

বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, তাঁদের দুটি জোটের বাইরে সম্ভাব্য এই জোটে ক্ষমতাসীন জোটের বাইরের দলগুলোকে ভেড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। তবে জোটগুলোর শীর্ষ নেতারা এ ব্যাপারে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না।

৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য নিয়ে গত বছরের অক্টোবরে ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরে তাতে যোগ দেয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ জোট তাদের কোনো দাবি আদায়েই সুবিধা করতে পারেনি। নির্বাচনে আসন পায় ৮টি। বিএনপির অপর জোট ২০ দলের শরিকদের কেউই আসন পায়নি।

ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর ২০-দলীয় জোটের কার্যকারিতা কমে গেছে বলে মনে করেন এ জোটের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, বিএনপি নতুন জোট নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল। ঐক্যফ্রন্টকে প্রাধান্য দেওয়া, বিএনপির সংসদে যাওয়াসহ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে ২০-দলীয় জোট থেকে নিজের দল প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী জোটে অসংগতি আছে বলে অভিযোগ করেন। অসংগতি দূর না হলে তিনিও জোট ছাড়বেন বলে এক মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন। জোটের শীর্ষ নেতাদের কাদের সিদ্দিকী জোটের সমস্যা নিয়ে একটি চিঠিও দিয়েছেন।দুই জোটে টানাপোড়েন এবং রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতেই বিএনপির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক জোট বা মঞ্চের প্রসঙ্গটি জোরালো হচ্ছে। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, এ জোটের আলোচনা অনানুষ্ঠানিকভাবে হচ্ছে। জোট বা মঞ্চ ‘সর্বদলীয় সংগ্রাম ঐক্য পরিষদ’ নামে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০-দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী বাদে অন্য শরিকেরা এবং ঐ্ক্যফ্রন্টের শরিকদের নিয়ে নতুন পরিকল্পনাটি হচ্ছে। আগামী দিনে দুই জোটের সঙ্গে যখনই বৈঠক হবে, সেখানে নতুন জোট বা মঞ্চের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ মঞ্চে বাম জোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ডাকা হতে পারে। ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার সময়ও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা তখন যোগ দেয়নি।

এদিকে ২০ দলে অস্থিরতার মধ্যে আজ এই জোটের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, আজ সোমবার বিকেল চারটায় বিএনপির গুলশান অফিসে ২০-দলীয় জোটের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির সূত্রটি জানায়, নির্বাচনী দাবি আদায়ে নতুনভাবে এগোতে চাইছে বিএনপি। আলাদা জোটগুলো যার যার জায়গায় থাকবে। তবে একসঙ্গে সবাইকে নিয়ে দাবি আদায়েও নামতে চায় তারা। এ ছাড়া দুই জোটের মধ্যে যেসব ক্ষোভ, কাউকে বেশি বা কাউকে কম প্রাধান্য দেওয়ার যে অনুযোগ রয়েছে, তা প্রশমন করাও একক জোট করার অন্যতম উদ্দেশ্য।

নতুন রাজনৈতিক মঞ্চের ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘সর্বদলীয় বিরোধী জোট একটা হতে পারে। এটার সম্ভাবনা আছে। এ ধরনের সরকারকে মোকাবিলা করতে গেলে গ্র্যান্ড অ্যালায়েন্স লাগে।’

ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, নতুন কোনো জোট বা মঞ্চের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের যে জোট আছে, সেখানেই কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সেগুলোর নিষ্পত্তি না হলে আরেকটি জোট কীভাবে হয়। আমরা যারা আছি, তাদের মধ্যে আগে সমঝোতা বাড়াতে হবে।’

নির্বাচনের আগেও এ ধরনের আলোচনা হয়েছিল জানিয়ে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ভোটের পর এ নিয়ে আর আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।

নির্বাচনের সময় ও তার পরে ২০-দলীয় জোটে ক্ষোভ ও হতাশা ছিল। ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে বিএনপি ‘মাতামাতি’ করছে বলে তারা অভিযোগও করে। সে জোটের অন্যতম দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরির উদ্যোগের কথা শুনেছেন। রোজার মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে পুরোপুরি পরিষ্কার না। বড় পরিসরে নতুন কোনো মঞ্চ হলে সেখানে এলডিপির অবস্থান কী হবে, সে সম্পর্কে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা তো বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটেই আছি। আরও যদি বড় জোটে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারি, সেটা তো অব্যাহত থাকবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী জোটে ভেড়ানোর জন্য বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা তাতে সাড়া দেয়নি। এবারও নতুনভাবে সরকারবিরোধী কোনো জোট বা রাজনৈতিক কোনো মঞ্চ তৈরি হলে সেখানে যাবে না তারা। বাম জোট জানায়, তারা নিজেদের মতোই আন্দোলন-সংগ্রাম করবে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, নতুন যা-ই করুক, এদের কোনো জোটই কার্যকর হবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার  বলেন, বিএনপির বিদ্যমান জোটগুলো টিকে থাকলে আন্দোলন সম্ভব। আর নতুন কোনো মঞ্চ হলে তা খারাপ হবে না। বরং আন্দোলন জোরদার হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পুঁজিবাজারে বেড়েছে লেনদেন ও শেয়ারের দর

স্টাফ রিপোর্টার : সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ মে) বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে ...

মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক : লা লিগায় ৩৪ গোল নিয়ে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে ...