Home | বিবিধ | আইন অপরাধ | নিজাম হাজারীর এমপি পদের শুনানি তিন সপ্তাহ মুলতবি

নিজাম হাজারীর এমপি পদের শুনানি তিন সপ্তাহ মুলতবি

স্টাফ রিপোর্টার :  ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদে থাকা নিয়ে তৃতীয় বেঞ্চে (একক বেঞ্চ) শুনানি তিন সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিষয় শুনানি করে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকারের এককবেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে নিজাম হাজারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সত্য রঞ্জন মণ্ডল।

সত্য রঞ্জন জানান, হাজারীর আইনজীবী সময় চান। পরে আদালত এ মামলার শুনানি তিন সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন।

গত বছরের ০৬ ডিসেম্বর নিজাম হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের বিভক্ত রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. এমদাদুল হক তার রায়ে রুল মঞ্জুর করে নিজাম হাজারীর পদে থাকাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান এ বিষয়ে করা রিট ও রুল খারিজ করে দেন। অর্থাৎ তার রায়ে নিজাম হাজারীর এমপি পদ বৈধ।

এরপর আইন অনুসারে রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি তৃতীয় বেঞ্চ (একক বেঞ্চ) গঠন করে সেটির নিষ্পত্তির জন্য পাঠান।

সোমবার বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকারের বেঞ্চে এ মামলাটি কার্যতালিকায় আসে। শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন।

‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।’

পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।

রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ০৮ জুন রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

গত বছরের ০৩ আগস্ট এ রুলের শুনানি শেষে ১৭ আগস্ট সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদ থাকবে কি-না সে বিষয়ে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। তবে বিচারিক আদালতের একটি নথি না আসায় রায়ের দিন পিছিয়ে ২৩ আগস্ট ধার্য করা হয়।

পরে কয়েকদফা পিছিয়ে ০৬ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে। সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হতে পারেন না। অথচ তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চিতলমারীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের পাঠদানের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ...

দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : ধানের জেলা দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ শুরু ...