ব্রেকিং নিউজ
Home | ফটো সংবাদ | নারায়ণগঞ্জের দুটি আসনে রয়েছে মেয়র আইভীর প্রভাব

নারায়ণগঞ্জের দুটি আসনে রয়েছে মেয়র আইভীর প্রভাব

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোটের হিসাবে দুটি আসনে রয়েছে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ভোটের প্রভাব। এই দুই আসনের বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এলাকা।

নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর থানা এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। দুটি আসনেরই বর্তমান এমপি ওসমান পরিবারের সদস্য- একজন আওয়ামী লীগ থেকে এ কে এম শামীম ওসমান ও অন্যজন জাতীয় পার্টির এ কে এম সেলিম ওসমান।

বিশাল এলাকা সিটি করপোরেশনের ভেতরে বলে অধিকাংশ নগরবাসী এই দুই আসনের ভোটার। সিটি নির্বাচনে টানা দুবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তাই ভোটের হিসাবে মেয়র আইভীর বিপুল প্রভাব ওই দুই আসনে। উন্নয়ন ও বিভিন্ন খাত ওসমান ভাইদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখানকার ভোটারদের প্রথম পছন্দ মেয়র আইভী। আর তার সঙ্গে ওসমান ভাইদের অপ্রীতিকর দূরত্ব সবার জানা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হচ্ছেন। গত ৩১ জুলাই নারায়ণগঞ্জে এসে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলে গেছেন ‘নারায়ণগঞ্জে ওসমান লীগ ওসমান পার্টি।’

২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নাগরিক ঐক্যের নেতা সাবেক এমপি এস এম আকরাম। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসন থেকেই জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন, যিনি সেলিম ওসমানের বড় ভাই। ওই বছর ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মারা গেলে উপনির্বাচনে সেলিম ওসমান লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুরো এলাকা ও ফতুল্লা থানার আংশিক নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দর থানার বন্দরের ৫টি ও সদর থানার দুটি ইউনিয়ন বাদে বাকি পুরো এলাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন।

এ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন মেয়র আইভী। পরের নির্বাচনে ২০১৬ সালে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন মেয়র আইভী।

এদিকে দুটি আসনে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন-প্রত্যাশী অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ভিড়েছেন মেয়র আইভীর সঙ্গে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নৌকা-প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশও এখন আইভীর পাশে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি মেয়রের পাশেই থাকবেন।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মনোনয়ন-প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরজু রহমান ভুইয়াকেও সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে আইভীর সঙ্গে অনুষ্ঠানগুলোতে। এদিকে আইভীর ভগ্নিপতি হলেও একসময় আইভীর বিরুদ্ধে গিয়ে শামীম ওসমানের বলয়ে রাজনীতি করেছিলেন জেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল কাদির। এখন তিনিও আইভীর পাশে। একসময় আইভীর বিরুদ্ধে থাকলেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মনোনয়ন-প্রত্যাশী মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকেও দেখা গেল আইভীর পাশেই।

এখানকার নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দুটি আসনে আইভীর ভোটার থাকার কারণেই ওসমান বিরোধীরা আইভীর প্রতি নমনীয় হয়েছেন। কারণ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের এ দুটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে থাকতে পারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আইভীর সমর্থন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, ওই দুই আসনে কারও নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া ও নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আইভীর সহযোগিতা কিংবা সমর্থন লাগবেই। যার পক্ষে আইভীর সমর্থন থাকবে তার মনোনয়ন পেতে ও আইভীর ভোট ব্যাংক আদায় করতেও সহজ হবে।

এসব কারণে একসময় যারা আইভীকে জামাত-শিবিরের জঙ্গি নেত্রী হিসেবে স্লোগান তুলতেন, তারাও আজ আইভী আইভী রব তুলছেন। এ ছাড়া যারা একসময় ওসমান পরিবারের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন এবং এখনো করছেন, তাদের অনেকেই মেয়র আইভীর সুদৃষ্টিতে আসতে চাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। মেয়র পদ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন আইভী।

জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের জন্য আরও এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এই আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দিতে স্থানীয় আওয়ামী লেিগর নেতাদের দাবির জন্য। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর দাবি তুলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শুক্রবার ভারত-বাংলাদেশের মানুষের নজরে থাকবে বিশ্বভারতী

স্টাফ রিপোর্টার : শুক্রবার ভারত-বাংলাদেশের মানুষের নজরে থাকবে বিশ্বভারতী। এদিন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ...

জাহাঙ্গীরের অভিভাবক সমাবেশ নিয়ে আপত্তি বিএনপির মেয়র প্রার্থীর

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর ...