Home | ব্রেকিং নিউজ | নাটোর সদর হাসপাতালের দন্ত বিভাগের জরুরী শিতাতপ নিয়ন্ত্রন করণ

নাটোর সদর হাসপাতালের দন্ত বিভাগের জরুরী শিতাতপ নিয়ন্ত্রন করণ

রাজু কুমার দে, নাটোর : নাটোর সদর আধুনিক সদর হাসপাতালের দোতলায় অবস্থিত দন্ত চিকিৎসা বিভাগ, দন্ত চিকিৎসায় কর্মরত দন্ত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ দাউদ আলী (সার্জন) বিগত ৫ (পাঁচ) বছর ধরে একটি এসির জন্য আবেদন করে আসছেন। কিন্তু ফলাফল শুন্য।

প্রশ্ন আসতে পারে যে, দন্ত বিভাগে বা দাঁতের চিকিৎসায় আবার এসির কি প্রয়োজন? কিন্তু একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে বহির্বিশে দন্ত চিকিৎসায় বা দাঁতের চিকিৎসাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারণ বিষয়টি স্পর্শকাতর। শুধু মাত্র বাংলাদেশে এর গুরুত্ব আরোপটি বহির্বিশ্বের  চাইতে কম। দাঁতের সমস্যা একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সমস্যা। কারণ যখন কারো দাঁতের সমস্যার জন্য দাঁতের ব্যাথা অনুভব করে তখন সেই ব্যাক্তিই বুঝতে পারে যন্ত্রনা টা কতটা কষ্টদায়ক।

অপরদিকে আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিনিয়তই প্রয়োজন পরে মাইনর অপারেশনের। সরেজমিনে দেখা যায় দাঁতের ব্যাথা এবং সেই সাথে সেই কক্ষের তাপমাত্রার জন্য অনেকে অসুস্থ্য হয়ে পরে এবং তাদের মাথায় পানি ঢেলেও তাদেরকে সুস্থ্য করা হয়।

বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে এ সমস্যাটি বেশি হয়। অধিকাংশ দাঁতের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তারা বলেন যে, দাঁতের ব্যাথায় অস্থির অবস্থায় একটি বদ্ধ কক্ষে চিকিৎসা নেয়া আরো যন্ত্রনাদায়ক। কারণ ব্যাথার ক্ষেত্র বিশেষ অনেকে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেন। অনেক সময় একটু বয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে সমস্যাটি হয়ে পড়ে আরও জটিল, কারণ ব্যাথার সাথে সাথে অনেক সময় তাদের ব্লাড প্রেসারের তারতম্য ঘটে। এ ক্ষেত্রে এই বিষয়টি একটি রিস্কে পরিণত হয়। কারণ গ্রীষ্ম মৌসুমে তাপমাত্রা অধিক থাকায় এবং বয়স ও দাঁতের সমস্যার ক্ষেত্র বিশেষ রোগীর জীবনের উপর ঝুকি থাকে।

এই সম্পর্কে কর্তব্যরত ডাঃ জনাব মোঃ দাউদ আলী (সার্জন) কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান যে, বিগত প্রায় ৫ (পাঁচ) বছর থেকে তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে আবেদনের মাধ্যম দিয়ে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন সুফল মেলেনি। তিনি আবেদনের কপি গুলো দেখান, সেখানে দেখতে পাওয়া যায়, বিগত ০৬/০১/২০১৫, ২৪/০৪/২০১৬, ২৭/০৪/২০১৭ এবং সর্বশেষ ২৪/০৭/২০১৮ইং তারিখের প্রদান করা আবেদনের কপি টি।

তিনি বলেন আমার জন্য কোন এসির প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে রোগীদের জন্য আলাদা একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত কক্ষ অত্যন্ত প্রয়োজন এবং বিষয়টি দিনে দিনে একটি বড় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। কারণ মাইনর অপারেশন করা হয় তখন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অবস্থা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি অনেক সময়ে তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং তাদের মাথায় পানি ঢেলে তাদেরকে সুস্থ্য করা হয়।

তিনি বলেন আর কত বছর পরে সরকার এই বিষয়টিকে গুরুত্ব আরোপ করবেন জানিনা। তিনি অত্যন্ত হতাশ। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে আধুনিক সদর হাসপাতালে দন্ত বিভাগের জন্য একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত কক্ষ অত্যান্ত জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও কয়েক অঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত ...

লুটপাটের উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে জনগণ অতিষ্ঠ: রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট : লুটপাটের উন্নয়নের কথা শুনতে শুনতে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য ...