ব্রেকিং নিউজ
Home | আন্তর্জাতিক | নরেন্দ্র মোদি সংসদ নেতা পুনর্নির্বাচিত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নরেন্দ্র মোদি সংসদ নেতা পুনর্নির্বাচিত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবার এনডিএ’র নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। জোটের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়ে তিনি শনিবার রাতেই রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেছেন।

এর আগে প্রথা মেনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে। মন্ত্রিসভার পরামর্শে রাষ্ট্রপতিও ষোড়শ লোকসভা বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন। এদিকে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপির অভাবনীয় জয়ে উচ্ছ্বসিত দলের শীর্ষ নেতারা। এ জয়ের প্রতিদান হিসেবে এ রাজ্যের কয়েকজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের ফোনের প্রত্যাশায় রয়েছেন সাংসদদের অনেকে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য হিন্দু, এনডিটিভির।

শুক্রবার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্র দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনে শনিবার সকালে ষোড়শ লোকসভা ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে একটি বিবৃতিও জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ষোড়শ লোকসভা ভেঙে দেয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। মোদির ইস্তফাপত্র গ্রহণ করলেও নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তদারকি সরকার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিতে পারেন মোদি।

শনিবার বিজেপি ও শরিক দলের শীর্ষ নেতা এবং নতুন সাংসদরা দিল্লিতে হাজির হন। তাদের সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসেন মোদি। সেখানেই তাকে দলনেতা হিসেবে বেছে নেন সাংসদ ও এনডিএ’র শীর্ষ নেতারা।

বিকাল ৫টায় পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে বৈঠক বসে। এনডিএ জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দেন মোদি। এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে পার্লামেন্টের অ্যানেক্স ভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জোটকে আবারও নিরঙ্কুশ জয় উপহার দেয়ায় মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাব পাস করেন মন্ত্রীরা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, আগামী ৩০ মে রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত হতে পারে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। অবশ্য শপথ নেয়ার আগেই নিজের আসন বারানসি সফর করে ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে পারেন মোদি। ২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী আট দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদি। দরবার হলে শপথের রেওয়াজ ভেঙে রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনের খোলা মাঠে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩ জুনের আগেই ১৭তম লোকসভা গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তালিকা হস্তান্তরের পরই নতুন লোকসভা গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে।

এ মাসের শেষের দিকে শপথ নেবে মোদি মন্ত্রিসভা। তার আগেই শুরু হয়েছে জল্পনা। কারা থাকছেন স্বরাষ্ট্র-অর্থ-প্রতিরক্ষা-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। রেলমন্ত্রী হবেন কে? বিজেপির কেউ, না শরিক দলের? জল্পনায় উত্তাল বিজেপির অন্দরমহল। গুজগুজ, ফিসফাস, কানাকানি ছেঁকে যে নামগুলো উঠে আসছে তার মধ্যে বিগ ফোরে নতুন মুখ আসারই সম্ভাবনা। যেমন অমিত শাহ। বিজেপি সভাপতি এতদিন রাজ্যসভার সাংসদ থাকলেও এবার গান্ধীনগর থেকে পাঁচ লাখ ভোটে জিতেছেন। বিজেপির একাংশের মতে, অমিত শাহ হতে চলেছেন আগামী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে রাজনাথ সিংহ যাবেন প্রতিরক্ষায়।

কিন্তু বিজেপিরই অন্য অংশের মতে, অমিত শাহ দলের সভাপতি। গোটা দল চলে তার নির্দেশে। সুতরাং সেই ক্ষমতা ছেড়ে তিনি কেবল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে ফাইল নাড়াচাড়া করে সময় কাটাবেন, এমন ভাবা যুক্তিহীন। যেখানে দলের সংবিধান অনুযায়ী, তিনি দ্বিতীয়বার দলের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বে থাকতে পারেন ২০২৪ পর্যন্ত। অর্থাৎ আগামী লোকসভা পর্যন্ত। তাই সরকার না দল, অমিত শাহ কী বেছে নেন, তাই দেখার। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত সুষমা স্বরাজের। এবারের নির্বাচনে লড়েননি তিনি। যদিও তাকে রাজ্যসভা থেকে জিতিয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। কিন্তু তিনি অনিচ্ছুক হলে নির্মলা সীতারামনের কপালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শিকে ছিঁড়তে পারে।

প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে অরুণ জেটলিকে নিয়ে। শারীরিক অসুস্থতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় দু’সপ্তাহের বেশি তিনি ঘর থেকে বেরোননি। সচিবদের সঙ্গে শনিবার বাড়িতে বৈঠক করলেও পরবর্তী মন্ত্রিসভায় তার থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জেটলির অনুপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পীযূষ গয়াল। যদিও দলের একাংশ সংস্কারমুখী নীতিন গডকড়ীকে অর্থমন্ত্রী দেখতে চাইছেন। সে ক্ষেত্রে বিগ ফোরে অন্তর্ভুক্ত হবেন কোনো নতুন মুখ।

আমেথিতে রাহুল গান্ধীকে হারানো স্মৃতি ইরানি যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে চলেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত অনেকেই। সূত্রের মতে, গ্রামোন্নয়ন বা নগরোন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। অতীতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে স্মৃতি মিডিয়ার ওপর নজরদারি চালিয়ে অযথা বিতর্ক বাধানোয় তাকে ওই পদে না বসানোর পক্ষেই বিজেপির একাংশ। পদোন্নতি হতে পারে মুখতার আব্বাস নকভির। তাকে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কিংবা গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে পারেন মোদি।

মন্ত্রিসভায় বাংলার কত, শুরু জল্পনা : এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে উত্থান ঘটেছে বিজেপির। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এবার সেখানে ১৮টি পেয়েছে বিজেপি। ফলে নরেন্দ্র মোদির নতুন মন্ত্রিসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে কারা ঠাঁই পাচ্ছেন এ নিয়ে বিজেপির অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।বিজেপির অন্দরের খবর হল- এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোদির মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। গত লোকসভা ভোটে রাজ্যে দুটি আসনে জিতেছিল বিজেপি। এবারও বাবুল সুপ্রিয় ও সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া জিতেছেন। বাবুল জয়ের ব্যবধান বাড়িয়েছেন আগের বারের চেয়ে কয়েক গুণ। আর সুরিন্দর সিং বর্ধমানে তৃণমূলের দুর্গে ঢুকে দুঃসাধ্য কাজ করে দেখিয়েছেন। সেই সঙ্গে এবার এক ধাক্কায় বাংলায় ১৬টি আসন বাড়িয়েছে বিজেপি। এত বড় সাফল্য গোটা দেশে আর কোথাও পাননি মোদি-অমিত শাহ। অথচ এ পশ্চিমবঙ্গ এক সময় প্রায় অধরা ছিল বিজেপির কাছে। বিজেপির শীর্ষ সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ ৮০ জনকে মন্ত্রী করা হতে পারে। এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৩৫১টি আসন পেয়েছে। ফলে প্রতি চারজন এমপিপিছু একজনকে মন্ত্রী করা যেতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত যা ঠিক রয়েছে, এখনই এতজনকে মন্ত্রী করা হবে না। পূর্ণমন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে ৭০ জনের নাম আসছে মন্ত্রিসভার তালিকায়। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের তিন থেকে চারজন এমপিকে এবার মন্ত্রিসভায় নিতে পারেন মোদি।

একজন আদিবাসী এমপিকে মন্ত্রী করা হতে পারে। সেদিক থেকে আলিপুর দুয়ারের জন বার্লার নাম সামনে আসছে। বাংলা থেকে একজন নারীকেও মন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের নারী সংগঠনের সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া জোরালোভাবে সামনে আসছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও আরেক প্রভাবশালী নেতা মুকুল রায়ের নাম। তবে দিলীপ ঘোষ মন্ত্রিসভায় গেলে তিনি রাজ্য সংগঠনের সভাপতি থাকবেন কিনা সেই প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে মুকুল রায়কে এখনই মন্ত্রী করা ঠিক হবে কিনা তা নিয়ে দলের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। শেষ পর্যন্ত যদি মুকুল রায়কে মন্ত্রী করা হয়, তাহলে তাকে কেন্দ্রে পূর্ণমন্ত্রী করা হবে। কারণ এর আগে তিনি রেলমন্ত্রী ছিলেন। ফলে এখন পূর্ণমন্ত্রী না করলে সেটা তার মর্যাদাহানির কারণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

১৮ থেকে ৫৮ বছর বয়সী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগেই বীমা করতে হবে

স্টাফ রির্পোটার : কাজের উদ্দেশ্য বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গমনেচ্ছুদের জীবন বিমা বাধ্যতামূলক ...

সৌদি তেলক্ষেত্রে হামলা আরব দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকিগ্রস্ত করছে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সৌদি আরবের অন্যতম দুটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার ঘটনাকে জাতীয় ...