Home | আন্তর্জাতিক | নরেন্দ্র মোদি মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন সংসদের ক্যান্টিনে

নরেন্দ্র মোদি মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন সংসদের ক্যান্টিনে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন সাংসদদের আম দরবারে অর্থাৎ সংসদের ক্যান্টিনে। অন্যান্য সাংসদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে ক্যান্টিনের ভাত, রুটি, ডাল, সালাদ, রাজমার তরকারি, পালং শাক ও সাদা দই দিয়ে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন মোদি। তারপর খেয়েছেন ফ্রুট সালাড। এরপর ২৯ রূপি বিল পরিশোধ করে বেরিয়ে যান।বিদায় নেওয়ার আগে ভিজিটর্স বুকে লিখেছেন, ‘অন্নদাতা সুখী ভব’, অর্থাৎ অন্ন জোগাচ্ছেন যারা তারা সুখী হোন।
তরুণ বয়সে মোদি নিজেও কিছু দিন ছিলেন ‘অন্নদাতার’ ভূমিকায়। আমদাবাদে গুজরাট ট্রান্সপোর্ট অফিসের ক্যান্টিন চালাতেন তিনি। সেখানেই আরএসএস কর্মী আম্বালাল কোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচয় ও সেই সূত্রে সঙ্ঘ-জীবনে প্রবেশ। এর পরে অনেক পর্ব পেরিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।

এর আগে ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনের দোতলার ক্যান্টিনে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজন সেরেছেন, এমন নজির নেই।ক্যান্টিনের কর্মচারীরা বলেন, রাজীব গান্ধী একবার এসেছিলেন বটে, তবে তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী নন।পদের গরিমা হোক বা নিরাপত্তার কারণে, সে দেশের প্রধানমন্ত্রীরা সাধারণ রেস্তোরাঁ বা কাফেটেরিয়ায় যায় এমনটা দেখা যায় না।পশ্চিমা বিশ্বে অবশ্য এমন ঘটনার নজির রয়েছে। হোয়াইট হাউসে বেসমেন্টের মেসে যেমন শুক্রবার সন্ধ্যার ‘হ্যাপি আওয়ার’-এ প্রায়ই যান বারাক ওবামা। ঠান্ডা বিয়ারের বোতল নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আড্ডায় বসে পড়েন। এমনই এক আড্ডায় কাগজের ন্যাপকিনে লেখা নোট থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্পের জন্ম।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এমনটা প্রায়ই করে থাকেন। সকলকে সঙ্গে নিয়ে মহাকরণের ক্যান্টিনে মধ্যাহ্নভোজও সেরেছেন তিনি। রেলমন্ত্রী থাকার সময় সংসদের ক্যান্টিনের খাবার আনিয়ে খেতে ও খাওয়াতে ভালবাসতেন মমতা। বিল পরিশোধ করতেন নিজেই।বেলা একটায় মোদিকে ক্যান্টিনে ঢুকতে দেখে উপস্থিত সাংসদরা বেশ চমকে গিয়েছিলেন। মোদি সকলকে নমস্কার জানিয়ে গুজরাটের দুই সাংসদের সঙ্গে বসে পড়েন খেতে।
প্রধানমন্ত্রীকে দেখেই উপস্থিত সাংসদ, ক্যান্টিন-কর্মীরা মোবাইলে ছবি-ভিডিও তুলতে শুরু করেন।ক্যান্টিনের ভারপ্রাপ্ত অফিসার নিজেই এগিয়ে গিয়ে বলেন, স্যার, বিশেষ কিছু লাগবে?মোদি বলেন, না, না, সাধারণ নিরামিষ থালিই চলবে। ফ্রুট সালাদও দিতে বলেন তিনি। বোতলের পানি না কিনে গ্লাসে ফিল্টারের পানিতেই চুমুক দেন। ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে খাওয়া শেষ করে বিল আনতে বলেন। ওয়েটার জানায়, ২৯ রূপি বিল হয়েছিল। উনি ১০০ রূপি দিলে, আমি ৭১ টাকা ফেরত দিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মঙ্গলবার নয়, মোস্তাফিজ দেশে আসছেন ৩ মে

স্পোর্টস ডেস্ক:  ভারতীয় মিডিয়ায় গত দু’দিন বেশ গুঞ্জন। গুরুত্বসহকারে সংবাদ চাপিয়েছে, আইসিসি ...

ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভ্যাট আইন মাচ বেটার : সালমান

স্টাফ রিপোর্টার :  বড় ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভ্যাট আইন আগের ভ্যাট আইনের চেয়ে ...