Home | সারা দেশ | নজরুল-প্রমীলার স্মৃতিময় তেওতা সরকারী উদ্যোগে হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

নজরুল-প্রমীলার স্মৃতিময় তেওতা সরকারী উদ্যোগে হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

এম. লিটন মিয়া,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহধর্মিণী প্রমীলা দেবীর স্মৃতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদারবাড়িতে। এই জমিদার বাড়িতেই প্রমীলাদেবীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে নজরুল লিখেছিলেন ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়/সেকি মোর অপরাধ’। জমিদার বাড়ির পাশেই ছিল কবি পতœী প্রমীলা দেবীর ফুপুর বাড়ি। প্রমীলার বাবা বসন্ত সেনের ভাইয়ের ছেলে বীরেন সেন ছিল কবির বন্ধু। সেই সূত্র ধরেই নজরুল-প্রমীলার প্রেম এবং বিয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিদার বাড়িটি নজরুল-প্রমীলার বিশেষ স্মৃতি বিজরিত একটি বাড়ি। এই বাড়িতেই নজরুল-প্রমীলার প্রেমের সূত্রপাত। বাড়িটির বয়স ৩শ বছর ছাড়িয়েছে। সপ্তদশ শতকের শুরুতে পাচুসেন নামের পিতৃহীন দরিদ্র এক কিশোর তার সততা আর চেষ্টায় তামাকের ব্যবসা করে অর্জন করে বিপুল ধন সম্পদ। দরিদ্র পাচুসেন দিনাজপুরের জয়গঞ্জে জমিদারী কিনে হয়ে যান পঞ্চানন সেন।

জমিদার বাড়ির মূল ভবনের উত্তর দিকের ভবনগুলো নিয়ে হেমশংকর এস্টেট এবং দক্ষিন দিকের ভবনগুলো নিয়ে ছিল জয়শংকর এস্টেট। প্রতিটি এস্টেটের সামনে বর্গাকৃতির অট্টালিকার মাঝখানে আছে নাটমন্দির। পুর্বদিকের লালদিঘী বাড়িটি ছিল জমিদারদের অন্দর মহল। অন্দর মহলের সামনে দুটি শানবাঁধানো ঘাটলা, এর দক্ষিন পাশের ভবনের নীচে আছে চোরা কুঠুরী যাকে এলাকার মানুষেরা বলে অন্ধকুপ। উত্তর ভবনের সামনে দাড়িয়ে আছে ৪ তলা বিশিষ্ট ৭৫ ফুট উচ্চতার নবরতœ মঠ। এর ১ম এবং ২য় তলার চারিদিকে আছে ৪টি মঠ। তেওতা জমিদার বাড়িটি ৭.৩৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত।

স্থানীয় কলেজ ছাত্র মারুফ হোসেন জানান, জমিদার বাড়িটি মানিকগঞ্জের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন । বাড়ির ভবনের কিছু অংশ ধসেও পড়েছে। বাড়িটি একটি ঝুকির মধ্যে আছে। তারপরও খালি নেই জমিদার বাড়ি। এতে ঠাঁই নিয়েছে ৫০ টির বেশী পরিবার। স্বাধীনতার পর থেকেই আশ্রয় নিয়ে আছে এরা। এরা সবাই যমুনার ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো মানুষ।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাদল জানান, বাড়িটি দেখতে দেশ বিদেশ থেকে অনেক পর্যটকও আসে। তবে সরকারীভাবে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।

যমুনা নদীর কোল ঘেষা এই জমিদার বাড়িকে কেন্দ্র করেই এখানে হাইস্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, পোষ্ট অফিস, ভূমি অফিস, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বাজার গড়ে উঠেছে বলে জানালেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী মনে করেন সরকারীভাবে জমিদার বাড়ীটির তদারকি করলে বাড়ীটি তার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আজ কুমিল্লা সিটি নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার :   কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে (কুসিক) আজ ভোট উৎসব। রয়েছে শঙ্কাও। ...

সিটি নির্বাচন : নিরাপত্তার চাদরে কুমিল্লা নগরী

স্টাফ রিপোর্টার :  কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ...