Home | বিবিধ | স্বাস্থ্য | ধর্মপাশার ১২শ টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক

ধর্মপাশার ১২শ টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক

arsenic tubeoilসাইফ উল্লাহ, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চল ধর্মপাশা উপজেলার সর্বত্র বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স’ানীয় এলাকাবাসি। উপজেলার গভীর-অগভীর, সরকারি-বেসরকারি টিউবওয়েলের অধিকাংশের পানিতেই আর্সেনিক ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে। ফলে জনস্বাস’্য হুমকির মধ্যে পরবে বলে চিকিৎসকদের ধারণা। ধরা পড়া আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলেগুলোতে উপজেলা জনস্বাস’্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে লাল স্টিকার এবং আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েলে মার্বেল পাথরের সাদা প্লেইট লাগানোর কাজ চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩২৩ টি গ্রামে বেসরকারি ব্যক্তি মালিকানা টিউবওয়েলের সংখ্যা ৯ হাজার ২২৬ টি এবং সরকারি টিউবওয়েলের সংখ্যা ৫ হাজার ৪১২ টি। সরকারি ও বেসরকারি সিংহভাগ টিউবওয়েলে আয়রন ও আর্সেনিক পাওয়া গিয়েছে। জানা যায়, সরকারি টিউবওয়েলের সংখ্যা কাগজে কলমে ১৯শ ৭২ টি থাকলেও ৪০ ভাগ টিউবওয়েলের মাথা নেই। এগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ২৫ ভাগ টিউবওয়েল প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়ির অভ্যন-রে। আর ২৫ ভাগ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। উপজেলার ১০ ভাগ বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির কোন সুব্যবস’া নেই। বিভিন্ন গ্রামে প্রভাবশালীদের বাড়ীর সামনে জনস্বার্থে ১টি করে টিউবওয়েল রয়েছে। এর মধ্যেও প্রায়গুলোতে আর্সেনিক ধরা পড়েছে। আয়রনে তেমন কোন জটিলতা সৃষ্টি না হলেও আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে গ্রামের সাধারণ মানুষ চর্ম রোগ, লিভার, ক্যান্সারসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলা জনস্বাস’্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. আব্দুর রব সরকার বলেন, ২০১১ হতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমাদের জরিপে উপজেলায় ১২শ টিউবওয়েলে আর্সেনিক ধরা পড়েছে, সেগুলোতে লাল স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেগুলো আর্সেনিকমুক্ত সেগুলোতে সাদা মার্বেল পাথরে খোদাই করা প্লেইট লাগানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে জন্ডিস, চর্ম, লিভার, এজমা, সোরিওসিস, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের পানি পান করা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে, নাহলে জনস্বাস’্য হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে স’ানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ২০১৪-২০১৫ সালের মধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি গ্রামে ও প্রতিটি মহল্লায় আর্সেনিকমুক্ত গভীর টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে। ২০১৫ সালের মধ্যে শতভাগ স্যানিটেশন বাস্তবায়ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

গরমের নানা রোগ

বিডিটুডে ডেস্ক : গরম মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, ...

তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা ; বন্ধ এক্সরে মেশিন, নৌ এম্বুলেন্স

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা ...