Home | জাতীয় | ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও সারাদেশে যান চলাচল বন্ধ

ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও সারাদেশে যান চলাচল বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও সারাদেশে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে নগরবাসীসহ সারাদেশের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সড়ক-মহাসড়কে পরিবহন না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গন্তব্য পৌঁছতে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস এবং অটোরিকশা ব্যবহারকারীদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। পরিবহন সংকটে অনেককেই চলতে হচ্ছে পায়ে হেটে।

গণপরিবহন সংকট যখন চরমে তখন এর সুবিধা নিচ্ছে একদল সুযোগসন্ধানী। ধর্মঘটে সকল ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। তবে সকালের দিকে মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে চলাচল করেছে লেগুনা। পরিবহন সংকটের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের থেকে। বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, রিকশায়। ফলে অলিখিতভাবে জিম্মি হয়ে পরেছে সাধারণ নগরবাসী।

মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ থেকে শ্যামলী পর্যন্ত চলাচলকারী লেগুনায় নিয়মিত ভাড়া পাঁচ টাকা। সে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা হারে। “ওঠা-নামা ১০” এমন ডাকে যাত্রী তোলা হচ্ছে লেগুনাগুলোতে। বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে অনেক সময় যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় লেগুনা শ্রমিকদের। সোমবার সকাল থেকে লেগুনা চলাচলের এমন চিত্র দেখা গেছে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রুটে। যদিও রুটগুলোতে লেগুনা সংখ্যা নামমাত্র।

শ্যামলী এলাকায় যাত্রীদের তুলনায় পরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় পোয়াবারো অবস্থা অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ সড়কে চলাচল করা বিভিন্ন পরিবহনে। যে যেমন পারছে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে যাত্রীদের থেকে।

শ্যামলী থেকে মহাখালীগামী যাত্রীদের জন্য ৫০ টাকা হারে যাত্রী পরিবহন করছে অটোরিকশাগুলো। এক্ষেত্রে প্রতি অটোরিকশায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে চারজন করে। একইভাবে শ্যামলী থেকে মিরপুর ১ নম্বর মাথা পিছু ৫০ টাকা হারে যাত্রী পরিবহন করছে অটোরিকশা চালকরা।

গাবতলী থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সড়কেওে চিত্রও একই। এই সড়কে চলাচলরত যাত্রীদেরও পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। বাস, মিনিবাস এবং লেগুনা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। তবে এ রুটে চালু হয়েছে স্বল্প দূরত্বে জন্য ভ্যান গাড়িতে যাত্রী পরিবহন এবং মোহাম্মদপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত পিকআপ ভ্যানে যাত্রী পরিবহন।

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে রিকশার জন্য এক ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় মানুষকে। রাস্তায় রিকশার সংকট না থাকলেও ভাড়ায় বনছে না। মামুন নামে একজন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘রিকশা আছে, কিন্তু ভাড়া চাচ্ছে ডাবলেরও বেশি। গেলে যান, না গেলে নাই।’

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস উবার-পাঠাও অ্যাপস ব্যবহার করে যাত্রী পরিবহন করেন এমন চালকরা সুযোগ নিচ্ছেন পরিবহন সংকটের। বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন সাধারণ যাত্রীদের থেকে।

রাজধানীর শ্যামলী সিনেমা হল এলাকায় দেখা গেছে এমন চিত্র। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাইড শেয়ারিং সার্ভিস উবার-পাঠাও নাম ব্যবহার করলেও চালকরা ব্যবহার করছেন না অ্যাপস। নির্দিষ্ট দূরত্বে বেশি ভাড়া দাবি করছেন চালকরা। সড়কে গণপরিবহন না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া গুণছেন যাত্রীরা।

যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কে গণপরিবহন নেই। গন্তব্যে পৌঁছতে রাইড শেয়ারিং সেবা নেয়ার চেষ্টা করলেও অ্যাপস নির্ধারিত ভাড়ায় যেতে রাজি নয় চালকরা। ভাড়া চাচ্ছেন স্বাভাবিক ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মনোনয়ন তালিকা প্রায় চূড়ান্ত : কাদের

স্টাফ রির্পোটার : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল ...

পাবনা জুড়ে ডাকাত আতঙ্ক

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ...